Home /News /kolkata /
ছুটিতে আর বাড়ি ফেরা হল না, শবদেহ ফিরল সুকমার ৩ বাঙালি জওয়ানের

ছুটিতে আর বাড়ি ফেরা হল না, শবদেহ ফিরল সুকমার ৩ বাঙালি জওয়ানের

Picture Courtesy Reuters

Picture Courtesy Reuters

  • Share this:

    #কলকাতা: ছত্তিশগড়ের সুকমায় মাওবাদী হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন জওয়ান। তাদের মধ্যে তিনজনই এরাজ্যের বাসিন্দা ৷ সিআরপিএফ সূত্রে খবর, মাওবাদী এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে বিনয়চন্দ্র বর্মন (২২), কৃষ্ণচন্দ্র দাস (২৭) এবং অরূপ কর্মকারের ৷

    নিহত বিনয়চন্দ্র বর্মন ও কৃষ্ণকুমার দাস কোচবিহারের বাসিন্দা। আরেক নিহত অরূপ কর্মকার নদিয়ার করিমপুরের বাসিন্দা। গতকাল রাতে তিন জনেরই কফিন বন্দি দেহ পৌঁছল বাড়িতে।

    ৭৪ নং ব্যাটলিয়নে এসআই পদে কাজ করতেন কৃষ্ণচন্দ্র । তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন তাঁর মা ৷ সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীর অবস্থাও শোচনীয় ৷ এদিন কৃষ্ণচন্দ্রের শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

    শুধু কৃষ্ণচন্দ্র নন, মাওবাদী হামলায় মৃত্যু হয়েছে এরাজ্যের আরও দুই জওয়ানের ৷ সিআরপিএফ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোচবিহারেরই বাসিন্দা বছর বাইশের বিনয়চন্দ্র বর্মন ও নদিয়ার অরূপ কর্মকার মাওবাদী গুলিতে শহীদ হয়েছেন ৷

    আরও পড়ুন

    গোয়েন্দা বাহিনীর গাফিলতিতেই কী মাওবাদীরা হামলার সুযোগ পেল ?

    সোমবার দুপুরে দোরনাপালের পাশে বুরকাপাল গ্রামের কাছে মাওবাদী হামলায় আহত বহু জওয়ান। সিআরপিএফ-এর ৭৪ নম্বর ব‍্যাটালিয়নের রোড ওপেনিং পার্টি (আরওপি)-এর উপর মাওবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বাংলার মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

    সোমবার ছত্তীসগড়ের সুকমায় মাওবাদী হামলার পরই মুহূর্তে পাল্টে গেছে জীবন। কেউ হারিয়েছেন একমাত্র ছেলেকে। কেউবা সদ্যবিবাহিত স্বামীকে। মঙ্গলবার তিনজনের বাড়িতেই কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন জওয়ানরা। কোচবিহারের বিবেকানন্দ স্ট্রিটের বাসিন্দা কৃষ্ণকুমার দাস। পাঁচ বছর ধরে সিআরপিএফের চাকরি করছেন। এবছর ফেব্রুয়ারিতেই বিয়ে করেছিলেন কৃষ্ণকুমার দাস। সুকমায় মাওবাদী হামলার পর নিমেষে ওলোটপালোট হয়ে গেছে দাস পরিবার। এদিন সকালে নিহত জওয়ানের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ জওয়ানের নিথর দেহ পৌঁছয় বাড়িতে।

    কোচবিহারেই কোতয়ালি থানার পুষনাডাঙা গ্রামে আরেক জওয়ান বিনয়চন্দ্র বর্মণেরও দেহ পৌঁছয়। ছুটি কাটিয়ে মাসখানেক আগেই ছত্তীসগড়ের ক্যাম্পে ফেরেন বিনয়চন্দ্র। কয়েকদিনের মধ্যেই ফিরলেন বাড়িতে। কিন্তু ফিরে এলেন কফিনবন্দি হয়ে, চিরঘুমে।

    রাজ্যের আরেক প্রান্তে নদিয়ার করিমপুরেও বাড়ি ফিরলেন আরেক বাহাদুর সন্তান। মঙ্গলবার প্রায় গভীর রাতে তাঁরও নিথর দেহ ফিরল গ্রামে। ২০১৪ থেকে সিআরপিএফ-এ যোগ দেন অরূপ কর্মকার। বাড়িতে রয়েছেন আরেক ভাই, বাবা ও মা।

    প্রতিবেশী, বন্ধু, আত্মীয় পরিজন কারোরই চোখের জল বাঁধ মানছে না। নিহত জওয়ানদের পরিবারগুলিতে এখন শুধুই স্বজন হারানোর হাহাকার।

    আরও পড়ুন

    ছুটিতে বাড়ি ফেরা হল না সদ্যবিবাহিত জওয়ানের, ছেলের মৃত্যু সংবাদে পাথর সুকমায় শহীদের মা

    এরাজ্যের নিহত তিন সিআরপিএফ জওয়ানের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে রাজ্যের তরফ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

    First published:

    Tags: Bengali Jawan Martyr, CRPF, Maoist Attack, Sukhma Attack, Sukhma Mao Attack

    পরবর্তী খবর