Bengal Politics: দলে ফিরতে চেয়ে বার্তা পাঠাচ্ছেন দলবদলু'রা, সূত্রের খবর

বিধানসভার অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যাঁরা ঘাস ফুল ছেড়ে হাতে পদ্ম ফুল তুলে নিয়েছিলেন, তাঁরা ফিরতে চেয়েছেন সেই দিদির আশ্রয়ে।

বিধানসভার অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যাঁরা ঘাস ফুল ছেড়ে হাতে পদ্ম ফুল তুলে নিয়েছিলেন, তাঁরা ফিরতে চেয়েছেন সেই দিদির আশ্রয়ে।

  • Share this:

#কলকাতা: আজ, (বৃহস্পতিবার) ও আগামিকাল বিধানসভায় শপথ নিতে চলেছেন বিধায়করা। দু'দিন ধরে চার দফায় ৭৪ জন করে বিধায়ক শপথ নেবেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ও দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টা অবধি চলবে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। কেউ ফিরেছেন চেনা করিডরে। কারও কাছে আবার একেবারে নতুন জায়গা। নতুন পরিবেশ। নতুন নিয়ম। আইন সভার অলিন্দে হাসি মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর কেউ কেউ নিজের অফিসে, নিজের ঘরে বসে চোখের জল মুছছেন। কেউ কেউ আবার আফসোস করছেন। তবে বিধানসভার অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যাঁরা ঘাস ফুল ছেড়ে হাতে পদ্ম ফুল তুলে নিয়েছিলেন, তাঁরা ফিরতে চেয়েছেন সেই দিদির আশ্রয়ে। আর সেই জল্পনায় মশগুল নতুন-পুরনো সব বিধায়করা।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই অনেকে স্তূতি গাইতে শুরু করেছেন। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলছেন, আসলে মমতা বন্দনা করে তাঁরা দলে ফিরতে চাইছেন। কেউ হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করেছেন। কেউ আবার লাগাতার কোনও এক শীর্ষ নেতাকে ফেস টাইমে কল করে গিয়েছেন৷ আবার কোনও এক প্রাক্তন নেতার স্ত্রী ক্রমাগত ফোন করেছেন দলের তিন শীর্ষ নেতাকে। ফোনে কথা বলতে না পেরে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েছেন, 'দিদিকে একটু দেখতে বলো'। তবে অনেকেরই মেসেজ এক রকম, 'পাপ করেছি আমি জানি। সাজা পেতে প্রস্তুত থাকতে হবে।' তবে প্রত্যেকেই ব্র‍্যান্ড মমতার জয়ধ্বনি দিয়েছেন।

এর মধ্যে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা ও বর্ধমানের কিছু নেতা যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন। ভোট ঘোষণার আগে থেকেই জোড়া ফুল শিবিরকে লাগাতার আক্রমণ করে গিয়েছেন দলে থেকেও বেশ কিছু নেতা। এর পরেই দল ছাড়েন একাধিক নেতা। অনেকেই পদ্ম শিবিরের টিকিট ছিনিয়ে নেন। যদিও ভোটের ফল বেরনোর পর দেখা যায় তাঁরা জিততে পারেননি। এমনকি যাঁরা স্পেশাল ফ্লাইটে দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সেই রাজীব বন্দোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়া, প্রবীর ঘোষাল, রথীন চক্রবর্তী, এঁরা কেউই জিততে পারেননি। তৃণমূলের ঝড়ে কেউই মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেননি। সেই বেসামাল নেতারাই এবার তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ মহলে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন বলেই খবর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছিলেন, ''আসুক না! কে না করেছে! সবাই ওয়েলকাম।'' তবে দলের অন্য নেতাদের একটা বড় অংশ বলছেন, এই সব নেতাদের অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের একাধিক নেতাদের ব্যক্তিগত কুৎসা করে গিয়েছিলেন। তাই তাঁদের যাতে দলে না ফেরানো হয়, সেই বিষয়ে তাঁরাও সোচ্চার হতে শুরু করে দিয়েছেন। যদিও ভোট প্রচারে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার বলেছেন, গদ্দারদের ক্ষমা করা হবে না। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু হয় না। তবে দলবদলুদের সকলেই যে ফের এন্ট্রি পেয়ে যাবেন এমনটা নয়। তবে কারা এন্ট্রি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, সেদিকেই নজর সকলের।

Published by:Pooja Basu
First published: