corona virus btn
corona virus btn
Loading

চিকিৎসা করাতে এসে আটকে ত্রিপুরার ১৩ পরিবার, না খেয়ে কাটছে দিন !সাহায্যে কলকাতা পুলিশ

চিকিৎসা করাতে এসে আটকে ত্রিপুরার ১৩ পরিবার, না খেয়ে কাটছে দিন !সাহায্যে কলকাতা পুলিশ

পরিবারগুলির এই অসহায় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছিল News18 Bangla। চ্যানেলে এই খবর সম্প্রচার হওয়ার পরই উদ্যোগী হয় স্থানীয় পূর্ব যাদবপুর থানা।

  • Share this:

#কলকাতা:  চিকিৎসা করাতে গত মার্চ মাসে ত্রিপুরা থেকে কলকাতায় এসেছিল ১৩টি পরিবার। কারও বাইপাস সার্জারি হবে, তো কারও লিভারের জটিল সমস্যা ছিল। তা নিয়েই বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিল পরিবারগুলি। চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হয়। আর সেই থেকেই বাইপাস সংলগ্ন মুকুন্দপুরের গেস্ট হাউসে কার্যত বন্দি ১৩ টি পরিবারের ৩৭ জন মানুষ।

চিকিৎসার খরচ ও তার জন্য যে ক'দিন থাকতে হবে সেই হিসেবেই টাকা নিয়ে এসেছিল পরিবারগুলি। কিন্তু লকডাউনের জেরে একমাসের বেশি সময় কেটে গিয়েছে কলকাতাতেই। ফলে একদিকে চিকিৎসার খরচ অন্যদিকে খাওয়ার খরচ দুই জোগাতে গিয়ে পকেট খালি তাঁদের। আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে তারা। কাছে যতটুকু টাকা না আছে, তা রেখে দিতে হচ্ছে চিকিৎসার খরচ হিসেবে। তাই প্রায় দিনই আধপেটা খেয়ে কোনওমতে দিন কাটছে তাঁদের। সব মিলিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় প্রতিবেশী রাজ্যের এই মানুষগুলি।

লকডাউনে তাদের রাজ্যের মানুষ আটকে রইল এখন অবধি কোনও সাহায্য মেলেনি ত্রিপুরা সরকারের, তেমনটাই অভিযোগ এই পরিবারগুলির। ভিন রাজ্যে যে সমস্ত মানুষ আটকে রয়েছে তাদের সাহায্যের জন্য ত্রিপুরা সরকার যে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে তার জন্য আবেদন করেছে পরিবারগুলি। কিন্তু এখনও সেই টাকাও আসেনি। ত্রিপুরা সরকার খোঁজ নেয়নি কল্যানপুর, কাঞ্চনমালা, রামনগর থেকে আসা এই মানুষগুলির।

আটকে থাকা পরিবারগুলির সদস্য মনোরঞ্জন দাস বলেন, "গত ১৩ ই মার্চ আমরা কলকাতায় আসি চিকিৎসা করাতে। চিকিৎসা চলার মাঝেই লকডাউন হয়ে যায়। হাতে যা টাকা ছিল তাও প্রায় শেষ। ঠিকমত খেতে পারছি না। এখনও ত্রিপুরা সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সেই টাকাও আমরা পাইনি। এভাবে কি করে চলবে আমাদের জানা নেই।" একই বক্তব্য শ্যামল দে,পবিত্র রিশী দাসেরও।

পরিবারগুলির এই অসহায় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছিল News18 Bangla। চ্যানেলে এই খবর সম্প্রচার হওয়ার পরই উদ্যোগী হয় স্থানীয় পূর্ব যাদবপুর থানা। খবর দেখে থানার ওসি রাম থাপা হাজির হন সেই অসহায় পরিবারগুলির কাছে। নিজে হাতে পরিবারগুলির কাছে তুলে দেন চাল, ডাল ও আলু। সেই অসহায় পরিবারগুলিকে ওসি জানান, প্রত্যেক দিন সকাল ১১টা থেকে থানার সামনে খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ওই সময় মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তারা যেন রান্না করা সেই খাবার সংগ্রহ করে নেন।

অসহায় আটকে পড়া এই পরিবারগুলির কথা তাদের রাজ্যের সরকার ভুলে গেলেও এ রাজ্যের পুলিশ তাদের কাছে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। যে কোনও সমস্যায় থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে পরিবারগুলিকে। পুলিশের এই মানবিক মুখ দেখে অভিভূত পড়শি রাজ্যের পরিবারগুলি।

সুজয় পাল

First published: April 25, 2020, 11:03 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर