• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • THESE PEOPLE HELPED OTHERS FOR FIGHTING CORONAVIRUS NOW THEY GOT CORONA VACCINE PBD

Exclusive| আগে ভ্যাকসিন এলে আরও অনেককে বাঁচাতে পারতাম, ভ্যাকসিন পেয়ে যা বললেন এই সমাজকর্মীরা

চেতলার মেয়রস হেলথ ক্লিনিকে আর পাঁচজনের সঙ্গে তিনিও সাক্ষী থাকলেন এই বিশেষ দিনের ।

চেতলার মেয়রস হেলথ ক্লিনিকে আর পাঁচজনের সঙ্গে তিনিও সাক্ষী থাকলেন এই বিশেষ দিনের ।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনার টিকা নিলেন দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়ও। ফ্রন্ট লাইন যোদ্ধাদের মধ্যে কিছুটা ব্যতিক্রমী  দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়। কালীঘাট রোডের বাসিন্দা। কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের জীবন বাজি রেখে বাড়ি বাড়ি ঘুরে করোনার  তথ্য  সংগ্রহ করতেন দিনরাত এক করে। বিপদে পড়লেই মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো থেকে তাঁকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানো। হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মী আজও কেউ অসুস্থ হলে ঠিক একইভাবে সমাজবন্ধু হিসেবে  করোনা যুদ্ধে সামিল হন। তবে শুধু করোনাই নয়,  যে কোনও বিপদে পড়লেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই তাঁর নেশা।

কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী। এখনও পর্যন্ত সাড়ে ছশোরও বেশি  মানুষের পাশে থেকে করোনা পরিস্থিতি সামলেছেন। নিজের পরিবারের  সদস্যদের প্রতি মুহূর্তে বিপদের সম্ভাবনা  থাকার কথা জেনেও অনেক পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। আবার অনেকের পাশেই নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়িয়েও বিফল হয়েছেন। করোনা কেড়েছে প্রাণ।  দেবাশীষবাবুর  আক্ষেপ,  আর কিছুদিন আগে এই ভ্যাকসিন চলে এলে বাঁচানো যেত তাঁদেরও। শুধু একটি ফোনের অপেক্ষা, বিপদের কথা শুনলেই পৌঁছে যেতেন তাঁর কাছে। তাঁকে কেউ না ডাকলেও কেউ অসুস্থ হয়েছে শুনলেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন দেবাশীষবাবু। অনেক প্রিয়জনকে করোনায় হারিয়েওছেন। কাজ করতে করতেই একদিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের পরামর্শে গত মাসে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর শরীরে পেসমেকার বসে। হাসপাতালে আড়াই দিন কাটিয়ে বাড়ি ফিরেই ফের নেমে পড়েন করোনা রোগীদের  সুস্থ করার শপথ নিয়ে। শনিবার দেবাশিসবাবুও করোনার টিকা নিলেন।

চেতলার মেয়রস হেলথ ক্লিনিকে আর পাঁচজনের সঙ্গে  তিনিও সাক্ষী থাকলেন  এই বিশেষ দিনের । করোনার কঠিন পরিস্থিতির সময় ঘরবাড়ি নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত মানুষের সেবায় ব্রতী ছিলেন তিনি। আজও তার রুটিনের কোনও বদল হয়নি। তাঁর একটাই আক্ষেপ, 'অনেকের পাশে থেকেও বাঁচাতে পারেননি'। এবার ভ্যাকসিন আসায় আশার আলো দেখছেন তিনি। দেবাশীষ বাবুর মতো প্রাণের শহর তিলোত্তমার আরও এক করোনা যোদ্ধা চিকিৎসক সুজাতা চট্টোপাধ্যায়। নিউ আলিপুর এর বাসিন্দা এই চিকিৎসক নিজেও করোনায় মানুষের সেবা করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবুও দাঁতে দাঁত চিপে মানুষকে সুস্থ করে তোলার কাজে ব্রতী থাকেন। তাঁর কথায় ,'ভয় কে জয় করার আনন্দটাই তো আলাদা'।

পরিবার পরিজন ছেড়ে ঘড়ির কাঁটার মতো অবিরাম ঘুরতে থাকা সুজাতাদেবীও কীভাবে মানুষকে করোনার হাত থেকে বাঁচানো যায় সেই চেষ্টাই করে গেছেন। অবিরাম।  আজও একইভাবে মানুষের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। চেতলায় রাজ্যের মন্ত্রী তথা  পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিমের হাত ধরে সূচনা হওয়া দেশের প্রথম দিনের টিকাকরণ কর্মসূচিতে সামিল হয়ে তাঁরও চোখে-মুখে মুক্তির আনন্দের ছাপ স্পষ্ট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পর মহামারি থেকে মুক্তির দাওয়াইয়ের হদিশ সকলকেই আশার আলো দেখাচ্ছে। যে আলো মানুষকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

Published by:Pooja Basu
First published: