• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • মরণাপন্ন রোগীকে নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সকে রেয়াত নয়, SSKM-র বাইরে চরম অমানবিকতার নজির

মরণাপন্ন রোগীকে নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সকে রেয়াত নয়, SSKM-র বাইরে চরম অমানবিকতার নজির

Photo- File

Photo- File

জীবন-মৃত্যুর লড়াই যেখানে হয় সেই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সমস্যায় রোগীর পরিবার৷

  • Share this:

#কলকাতা: বর্ধমান কালনার বাসিন্দা শান্তিপদ দাস ৬৮ বছর বয়স। কালনার একটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ছিলেন, কয়েক বছর আগে অবসরপ্রাপ্ত এই ব্যাঙ্ক কর্মীর সম্প্রতি মুখে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ক্যান্সার ধরা পড়ার পর থেকে তার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। শনিবার তার রেডিয়েশনের তারিখ ছিল এসএসকেএম হাসপাতালে।

সেই অনুযায়ী বাড়ির গাড়িতেই ছেলে এবং আর একজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে ভোর চারটের সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে রেডিয়েশন করার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে  আসে শান্তিপদ দাস। গাড়ি রাখা ছিল ট্রমা কেয়ার বিল্ডিং এর সামনে। বেলা ১১ টা নাগাদ রেডিয়েশন পর্ব শেষ হওয়ার পর শান্তিপদ বাবুকে নিয়ে গাড়িতে আসার পর শুরু হয় বিপত্তি। হঠাৎ করে চারজন সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মী এসে গাড়িতে কাঁটা লাগিয়ে দেয়। পুলিশের বক্তব্য বেআইনি পার্কিং। যদিও গাড়ি যেখানে রাখা ছিল সেখানে কোথাও নো পার্কিং বোর্ড লাগানো ছিল না। শান্তিপদ বাবুর পরিবারের অভিযোগ, ' আমরা বারবার করে পুলিশকে অনুরোধ করি যে শান্তিপদ বাবুর মুমূর্ষু অবস্থা, সদ্য রেডিয়েশন দেওয়া হয়েছে। সারাদিন না খাওয়া। আমরা গাড়ি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যেই বেরিয়ে যাচ্ছি। তবুও কোন কথা না শুনেই গাড়িতে কাটা লাগিয়ে দেওয়া হল।' আরো অভিযোগ, এর আগে যত বার হাসপাতালে গাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে,ততবারই পুলিশের থেকে গাড়ি রাখার জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়া হতো। কোনো সমস্যা হত না।

এখানেই শেষ নয়। হাওড়া উলুবেড়িয়া পৌরসভারঅ্যাম্বুলেন্সে করে কিডনির সমস্যার এক রোগীকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে এই অ্যাম্বুলেন্সটিও ট্রমা কেয়ার বিল্ডিং এর সামনে রাখা ছিল। অভিযোগ কোনরকম কথা না শুনে এই অ্যাম্বুলেন্সে চাকায় কাঁটা লাগিয়ে দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্স চালক রঞ্জন সরকার জানান,' এসএসকেএম হাসপাতালে পুলিশের জুলুমবাজি সহ্য করা যায় না। আগে ১০০- ২০০টাকা নিত,এখন পুজোর পর ৩০০ টাকা করে চাইছে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে আসার পর অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য। গরিব রোগীরা কোথা থেকে পাবে এত টাকা!'

যদিও এই বিষয়ে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য,দিনের পর দিন ধরে হাসপাতালে বাইরের গাড়ি বেআইনিভাবে রেখে দেওয়া হয় তার বিরুদ্ধে পুলিশকে আমরা জানিয়েছিলাম, সেই কারণেই হয়তো এই অভিযান। তবে এদিন কি ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা মন্তব্য করতে পারবোনা। অন্যদিকে স্থানীয় ভবানীপুর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্মী দের ছাড়া অন্য কোন গাড়ি হাসপাতালে থাকতে পারবে না। যদিও রোগীদের নিয়ে আসা কারই বা এম্বুলেন্স এর স্থান কোথায় হবে সে বিষয়ে কেউই কোনো রকম মন্তব্য করেনি। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রচুর রোগী এবং রোগীর আত্মীয়রা।

Avijit Chanda

Published by:Debalina Datta
First published: