কলকাতা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

দমদমপার্ক ভারতচক্র-চেতলা অগ্রণী-বেহালা ফ্রেন্ডস, শিল্পী অনির্বাণের ৩ পুজোয় অভিনবত্বের ছোঁয়া

দমদমপার্ক ভারতচক্র-চেতলা অগ্রণী-বেহালা ফ্রেন্ডস, শিল্পী অনির্বাণের ৩ পুজোয় অভিনবত্বের ছোঁয়া
ফাইল ছবি

অতিমারীর কড়াল থাবা এড়িয়ে শহরের তিনটি ব্লকবাস্টার পুজোর দায়িত্ব এবারে শিল্পী অনির্বাণ দাসের হাতে।

  • Share this:

#কলকাতা: উত্তরের দমদমপার্ক ভারতচক্র, দক্ষিণের চেতলা অগ্রণী এবং বেহালার প্রাণকেন্দ্রে বেহালা ফ্রেন্ডস। অতিমারীর করাল থাবা এড়িয়ে শহরের তিনটি ব্লকব্লাস্টার পুজোর দায়িত্ব এবারে শিল্পী অনির্বাণ দাসের হাতে।

পুজো আর হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা দিন। উত্তর কলকাতার ব্লকবাস্টার পুজো দমদমপার্ক ভারতচক্র। প্রতিবছর তাদের পুজোয় নতুন নুতুন চমক থাকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শিল্পী অনির্বাণের কথায়, "হঠাৎ অদৃশ্য এক রাক্ষসের মায়াবি নিদালী মন্ত্রে ঘুমিয়ে পড়েছে আমাদের শহর। দীর্ঘ এই ঘুম। প্রায় সাত মাস হয়ে গিয়েছে স্তব্ধ কল্লোলিনী কলকাতা। অকাল বোধনের ঢাকে কাঠি পড়েছে। মায়ের আগমনের সাড়া পেয়ে রাক্ষসের মন্ত্র টুটেছে। আড়মোড়া ভেঙে ধীরে ধীরে জেগে উঠছে শহর। জেগে উঠছি আমরা।"....ঠিক এরকমই এক জেগে ওঠার গল্প নিয়ে একেবারে অন্যরূপে সেজে উঠছে ভারতচক্রের মণ্ডপ। তাদের এবারের থিমের পোশাকি নাম 'দুখ জাগানিয়া' দমদমের ভারতচক্রের প্রতিমা নির্মাণ করছেন শিল্পী সৌমেন পাল। প্রেমেন্দু বিকাশ চাকীর আলোর পরিকল্পনা এবং আবহ সঙ্গীত পরিকল্পনার দায়িত্বে সংবর্ত জানা গানওয়ালা।

দমদমপার্ক ভারতচক্র দমদমপার্ক ভারতচক্র

ভারতচক্রের সম্পাদক প্রতীক চৌধুরীর কথায়, "২০ তম বছরে পা দিল আমাদের পুজো। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের জন্য আসেন। তবে এবারের পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। ফলে মানুষ যাতে যথাযথ করোনা বিধি মেনে তবেই রাস্তায় ঠাকুর দেখতে বেরোন, সেটাই প্রধান। আমরা সুরক্ষার বিষয়ে কোনও আপসে নারাজ।"

এ দিকে, কলকাতার যে সব পুজো না দেখলে, ঠিক দুর্গাপুজোর আসল স্বাদটাই পাওয়া যায় না, তার অন্যতম চেতলা অগ্রণী। করোনা আবহে কলকাতাবাসীকে ছন্দে ফেরাতে ইতিমধ্যেই মণ্ডপ সাজিয়ে ফেলেছে চেতলা অগ্রণী। সোমবার সন্ধ্যায় চেতলার প্রতিমার চক্ষুদান করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ১৯ অক্টোবর থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মণ্ডপ।

চেতলা অগ্রণী চেতলা অগ্রণী

চেতলা অগ্রণীর দুর্গা পুজো ২৮ তম বর্ষে পা দিল। কবিগুরু রবি ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে চেতলার এবারের থিমের পোশাকি নাম 'দুঃসময়'। সময়ের সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ থিম। শিল্পী অনির্বাণের কথায়, "রবিঠাকুরের 'দুঃসময়' এভাবে প্রত্যক্ষ করতে হবে সেটা বোধ হয় আমরা কেউই দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। গোটা বিশ্বে যখন হাহাকার তখন বিশ্বজননীও রত্নালঙ্কারে সাজতে পারেন না। মা তাই সব আভরণ ত্যাগ করে চামুণ্ডারূপিণী। এই কঠিন দুঃসময়ে সকল জগৎবাসীকে প্রদীপ হাতে মা আশার আলো দেখাবেন এই আমাদের প্রার্থনা।" চেতলার প্রতিমা নির্মাণ করছেন শিল্পী নবকুমার পাল। আলোক পরিকল্পনার দায়িত্বে প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। আবহ সঙ্গীত করছেন  শতদল চট্টপাধ্যায়। কবিতা পাঠ করবেন বাচিক শিল্পী নীলাঞ্জনা দাস।

বেহালা ফ্রেন্ডসের প্রতিমা বেহালা ফ্রেন্ডসের প্রতিমা

নীলাঞ্জনা ছোট থেকেই কবিতা লিখতেন। কবিতা পাঠ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমেছিল কবিতা চর্চা। লিখলেও, তা হয়ে গিয়েছিল অনিয়মিত। তবে কলকাতার দুর্গাপুজোয় কখনও কাজ করেননি। নীলাঞ্জনা জানিয়েছেন, লকডাউনে ফের নিজেকে আবিষ্কার করেছি। দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে শুরু হয়েছে কবিতা লেখা থেকে আবৃত্তি চর্চা। এবারে পুজোতে একটা নয়, দুটি থিমের সঙ্গে কবিতা পাঠ করছেন তিনি। নীলাঞ্জনার সঙ্গে কাজ করতে পেরে খুশি থিম মেকার অনির্বাণ।

বেহালার যে পুজো প্রতিবছর দর্শনার্থীদের  চেকলিস্টের প্রথম দিকে, সেটি বেহালা ফ্রেন্ডস। ২০২০ সালে আমফান ও অতিমারী ধস্ত পরিস্থিতিতে বেহালা ফ্রেন্ডস-র শারদ উপহার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পোড়ো বাড়ি' কবিতা অবলম্বনে 'অঙ্কুর'। সৃজনে শিল্পী অনির্বাণ দাস। বেহালা ফ্রেন্ডসের প্রতিমা গড়ার কথা ছিল প্রয়াত শিল্পী অরুণ পালের। কিন্তু, লকডাউনের মধ্যেই মারা যান তিনি। ফলে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েই সেই কাজ শেষ করছেন অনির্বাণ এবং অরুণ পালের স্ত্রী এবং তাঁর সহযোগীরা। এখানেও আলোক পরিকল্পনার দায়িত্বে প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। আবহ সঙ্গীত করছেন  শতদল চট্টপাধ্যায়। এখানেও কবিতা পাঠ করবেন শিল্পী নীলাঞ্জনা দাস।

Published by: Shubhagata Dey
First published: October 11, 2020, 5:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर