corona virus btn
corona virus btn
Loading

ছেলেকে কুপিয়ে খুনে ধৃত বাবা-মা ! শরীরের ১৩ জায়গায় গভীর ক্ষত, জানালো ময়নাতদন্ত রিপোর্ট

ছেলেকে কুপিয়ে খুনে ধৃত বাবা-মা ! শরীরের ১৩ জায়গায় গভীর ক্ষত, জানালো ময়নাতদন্ত রিপোর্ট
photo source collected

রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা ঘরেই রেখে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

  • Share this:

#কলকাতা:  মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে ঘরের ভেতরেই দা ও বটি দিয়ে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার বাবা ও মা। এখনও পলাতক ভাই। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটে গড়ফা থানা এলাকার মণ্ডলপাড়ায়। দা ও বটি দিয়ে ঘরের ভেতরেই এলোপাথারি কোপানো হয় পূর্ণেন্দু মন্ডলকে (৪২)। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরেই মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই গ্রেফতার করা হয় বাবা ও মাকে।

বৃহস্পতিবার এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়েছে পূর্ণেন্দুর দেহের। রিপোর্টে বলা হয়েছে শরীরের ১৩ জায়গায় আঘাত করা হয়েছে তাঁকে। মাথা, বুক, পেট, হাত, পা-সহ শরীরের ১৩ জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে মাথা ও বুকে গভীর ক্ষত রয়েছে। এর জেরেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য মৃত্যু হয়েছে পূর্ণেন্দুর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার পূর্ণেন্দুকে ঘরের ভিতরেই কোপায় তার বাবা, মা ও ভাই। রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা ঘরেই রেখে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। প্রতিবেশীদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি তাঁকে। এমনকী, কেউ যাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য দরজাও বন্ধ করে রাখা ছিল।

হাত-পা-মাথায় দা ও বটির কোপ খেয়ে ঘরেই দীর্ঘক্ষণ পড়েছিল গড়ফার মন্ডল পাড়ার বাসিন্দা পূর্ণেন্দু মন্ডল। শরীর থেকে রক্তবন্যা বয়ে যাওয়ার পর শরীর যখন নিস্তেজ হয়ে যায় তখন পাড়ার লোকের চাপে পূর্ণেন্দুকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবার। হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পরই মৃত্যু হয় মানসিক রোগে আক্রান্ত পূর্ণেন্দুর। হাসপাতালও জানিয়েছিল, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরেই মৃত্যু হয়েছে তার। সম্পত্তি জনিত কারণের জন্যই পূর্ণেন্দুকে তার বাবা ও মা খুন করেছে বলে অভিযোগ। সম্পত্তির লোভে পূর্ণেন্দুর ভাই শুভেন্দুও দাদাকে কোপায় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাবা শম্ভুনাথ ও মা নমিতা মন্ডল ছেলেকে কোপানোর পর রক্তমাখা অবস্থাতেই ঘরে খাওয়া দাওয়া করেছে । বুধবার রাতে হাসপাতালে পূর্ণেন্দুর মৃত্যু হয়, বৃহস্পতিবার সকালে খবর আসে এলাকায়। তারপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ এলে তাদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ভাঙচুর করে শম্ভুনাথের বাড়িতেও। আগুন দেওয়ার চেষ্টাও হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়িতে মারধর করা হত বলে পূর্ণেন্দুকে ছেড়ে চলে যায় তার স্ত্রী। তারপর থেকেই মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। চিকিৎসাও চলছিল। এদিকে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের হয় তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে। খোরপোষ হিসেবে পূর্ণেন্দুর পৈতৃক ভিটের সম্পত্তির অর্ধেক দাবি করা হয়। সেই ভাগ দিতে নারাজ তার পরিবার। সেজন্যই পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে তার পরিবারের লোকেরা নির্যাতন করত বলে অভিযোগ। কিন্তু এতদিন মুখ বুঝে সহ্য করেছিলেন বাসিন্দারা। শেষমেষ ছেলেকে বাবা-মা এরকম নৃশংসভাবে খুন করতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে বাসিন্দাদের। ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভাঙচুর চালান ওই বাড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দা বাপি মন্ডল বলেন, "আমরা চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক বাবা-মায়ের।"

সুজয় পাল
Published by: Piya Banerjee
First published: May 29, 2020, 7:23 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर