'আল্লা আমাকে তুলে নাও'! ভর্তির আশায়, অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে তিন মাস হাসপাতাল চত্বরে শুয়ে শামসুর !

হাসপাতালের রাস্তায় শুয়ে রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করছে। পাশে অসহায় স্বামী চুপ করে বসে আছে। হাসপাতালে ভর্তির আশায়, তিন মাস হাসপাতাল চত্বরে রাস্তায় শুয়ে তাঁরা !

হাসপাতালের রাস্তায় শুয়ে রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করছে। পাশে অসহায় স্বামী চুপ করে বসে আছে। হাসপাতালে ভর্তির আশায়, তিন মাস হাসপাতাল চত্বরে রাস্তায় শুয়ে তাঁরা !

  • Share this:

#কলকাতা:  হাসপাতালের রাস্তায় শুয়ে রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করছে।পাশে অসহায় স্বামী চুপ করে বসে আছে।এমনই দৃশ্য চোখে পড়বে ,এস এস কে এম হাসপাতালের ,উডবার্ণের সামনের রাস্তার ওপর।  তিন মাস আগে বর্ধমান মন্তেশ্বর থানার ,নতুন গ্রাম থেকে শামসুর শেখ তাঁর  স্ত্রী আনজিলাকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন ডাক্তার দেখাতে। বর্ধমানে বিভিন্ন ডাক্তার দেখানোর পর - ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছিলেন, পিজি হাসপাতালে ভর্তি করে ডাক্তার দেখানোর জন্য। কারণ আনজিলার হৃদ যন্ত্রের সমস্যা থেকে গলব্লাডারে পাথর,মধুমেহ রোগ রয়েছে। চিকিৎসা খুব ব্যয় সাধ্য।  তাই পিজি হাসপাতালে এসে স্ত্রীকে ডাক্তার দেখিয়ে ছিলেন গরীব শামসুর। যতটুকু এদিক ওদিক থেকে টাকা জোগাড় করতে পেরেছিলেন, তা দিয়েই ।ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী এক্সরে থেকে আরম্ভ করে প্যাথলজিক্যাল টেস্ট। সেই টাকায় করিয়েছিলেন। এখন সে অর্থ হীন। পেশায় ক্ষেত মজুর শামসুরের কাছে এখন বেঁচে থাকার আশাটুকু যুগিয়ে রেখেছে, শুধু মাত্র পাঁচ টাকার ডিম ভাত। ওই খেয়ে কোনো ভাবে চলছে ওদের।

যতবার হাসপাতলে ভর্তি করবার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে, ডাক্তারদের অনুরোধ করে কোনো লাভ হয়নি। সেই সুযোগে, দালালরা তাকে দশ ,পনেরো, কুড়ি হাজার টাকা চেয়েছে হাসপাতালে ভর্তির জন্য। টাকা দিতে পারেনি। তার জন্য হাসপাতালে রাস্তার শেডের নিচে স্থান হয়েছে তিন মাস ধরে।  ওই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালের ডাক্তার বাবুরা থেকে নার্স, ওয়ার্ড বয়, হাসপাতাল আধিকারিক সবাই যাতায়াত করে।কেউ কখনো ভ্রুক্ষেপ করে দেখেনি ওদের।  স্ত্রী আনজিলা যন্ত্রণায় ছটফট করছে। স্বামী শামসুল হকের হাত পাখার হাওয়া ও গায়ে হাত বুলিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।বৃদ্ধ শামসুর বহু আশা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন, স্ত্রীকে সঠিক চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। উপায় নেই। সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় এখানে স্ত্রীকে নিয়ে কাটাচ্ছে  মুমূর্ষু রোগী এইভাবে রাস্তায় পড়ে রয়েছে। এখনো পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে বিছানা মেলেনি। আনজির এর কথায়, ' আল্লাহ আমাকে তুলে নাও, আর সহ্য করতে পারছিনা।'

 SHANKU SANTRA

Published by:Piya Banerjee
First published: