corona virus btn
corona virus btn
Loading

Coronavirus Lockdown: প্রায় রক্তশূন্য ব্লাড ব্যাঙ্ক, বিরল গ্রুপের রক্ত না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ভাই বোন

Coronavirus Lockdown: প্রায় রক্তশূন্য ব্লাড ব্যাঙ্ক, বিরল গ্রুপের রক্ত না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ভাই বোন

হাসপাতালে হাসপাতালে রক্তের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন যমজ ভাই-বোন। কিন্তু, সর্বত্রই শুনতে হচ্ছে রক্ত নেই।

  • Share this:

#কলকাতা: লকডাউন এর সাথে সাথে রক্তদান শিবির বন্ধ। যার ফলে ব্লাড ব্যাংক গুলোতে রীতিমত রক্তের আকাল পড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন রোগীর বাড়ির লোকেরা হন্যে হয়ে রক্তের জন্য এক জায়গা থেকে অন্যত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কোনো মতেই সুরাহা হচ্ছে না সমস্যার। তারমধ্যে রক্ত না পেয়ে বেকায়দায় কলকাতার কুঁদঘাটের দুই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত।  রক্ত না পেলে জীবন নিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে দুই আক্রান্তের।

দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্ক এলাকায় অনুরিমা সাহা ও অনুরণ সাহা ,দুজনের বয়স ৩৮ বছর। দেড় বছর বয়স থেকে ওদের থ্যালাসিমিয়া ধরা পড়ে। বাবা মায়ের দুই যমজ সন্তান ওরা। অনুরিমার রক্তের গ্রুপ ' ও 'নেগেটিভ। অনুরণে রক্তের গ্রুপ ' এ' নেগেটিভ। দুটি গ্রুপই দুষ্প্রাপ্য।যার ফলে রক্ত পেতে অসুবিধা হচ্ছে ওদের।

একেই গরম। তারমধ্যে লকডাউন। বেশিরভাগ ব্লাডব্যাঙ্কে রক্তের সমস্যা। এই সমস্যায় কার্যত দিশেহারা দশা কলকাতার কুঁদঘাটের দুই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের।  হাসপাতালে হাসপাতালে রক্তের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন যমজ ভাই-বোন। কিন্তু, সর্বত্রই শুনতে হচ্ছে রক্ত নেই। ফলে, শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। অতএব বাড়ছে প্রাণের ঝুঁকি।

বিধবা মা শুভ্রা সাহা (৬৯) নিজের যতটুকু সম্বল ছিল , তা দিয়ে ছেলে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন।ছেলে অনুরণের ১৫ দিন অন্তর রক্ত দিতে হয়।মেয়েকে ২০ দিন অন্তর রক্ত দিতে হয়।ওরা শেষ রক্ত নিয়েছিল,১৯ শে মার্চ। শুভ্রা দেবীর চিন্তা, যদি আর দুদিনের মধ্যে  এ ' নেগেটিভ গ্রুপের  রক্ত জোগাড় করতে না পারেন, তাহলে ছেলের প্রথমত শ্বাসকষ্ট শুরু হবে ।তারপর আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়ে পড়বে। দুই সন্তানের মধ্যে ছেলেই সবথেকে বেশি অসুস্থ।সঙ্গে হার্টের অসুখ ও হাড় ক্ষয়ের রোগ আছে।   কলকাতার বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে যোগাযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি ওনার। প্রত্যেকে বলেছে রক্তদাতা নিয়ে গেলে রক্ত পাবে। আবার যে গ্রুপ লাগবে ওনার সেই গ্রুপেরই দাতা নিয়ে যেতে হবে।   বৃদ্ধা আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন। মাত্র দেড় বছর বয়স থেকে দুই সন্তানকে রক্ত দিয়ে আসছেন। উনি জানান আস্তে আস্তে উনার যা কিছু অর্থ ছিল তা সবই প্রায় শেষ। আত্মীয়রা কিছুটা সাহায্য করে। প্রতিমাসে ছেলে এবং মেয়ের রক্ত দিতে মোট ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচা হয়। এতদিন কষ্ট করে আসার পরও, এই লকডাউন এ যদি ছেলেকে হারিয়ে ফেলেন ।তাহলে তাকে নিয়ে বাঁচবেন? পরের সারিতে তো মেয়ের একই অবস্থা।

শুভ্রা দেবী রক্তের জন্য বহু নেতা নেত্রী কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সবাই আশ্বাস দিয়েছে ।কিন্তু এখনো কোনো ভাবে রক্ত জোগাড় করে দেয়নি কেউ। অন্যের আশ্বাস হয়তো সান্তনা দিতে পারে। কিন্তু সন্তান বাঁচাতে পারবে না। এটা ভালো করেই বুঝে গেছেন তিনি।   ওনার কথায়, যদি নেহাতই রক্ত জোগাড় করতে না পারেন ।তাহলে ছেলে মেয়ের মৃত্যু চোখের সামনে উনি এই ভাবে দেখতে পারবেন না। বারেবারে হাত জোড় করে কান্না করে বলছিলেন, কেউ একজন যদি সহায় হন- তাহলে ওনার ছেলে মেয়েরা বেঁচে যান।   সারাদিনে বহু মানুষকে ফোন করেন, সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য। আর হাতের মুঠোতে ফোনটা রেখে দেন। যদি কেউ সুখবর দেন। সেই আশাতেই বুক বাঁধছেন শুভ্রা দেবী।ফোন এখনও আসেনি।

Sanku Santra

Published by: Elina Datta
First published: April 1, 2020, 11:23 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर