কেমন কাজ করছেন জনপ্রতিনিধিরা? জানতে এবার ‘র‍্যান্ডামাইজ ফোন কল সার্ভে’ করছে টিম পিকে

কেমন কাজ করছেন জনপ্রতিনিধিরা? জানতে এবার ‘র‍্যান্ডামাইজ ফোন কল সার্ভে’ করছে টিম পিকে
  • Share this:

Arup Dutta #কলকাতা: দলের কর্মী, সমর্থক ও অনুরাগীদের কাছে বিধায়কের ভাবমূর্তির খোঁজ খবর নিতে শুরু করল টিম পিকে। বিশেষ এই পদ্ধতির পোষাকী নাম ‘র‍্যান্ডামাইজ ফোন কল সার্ভে’। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচন তৃণমূলের কাছে অগ্নিপরীক্ষা। বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির বিপরীতে দলকে সাফল্য পেতে হলে সবার আগে দল ও নেতৃত্বের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই তৃণমূলের ভোট কুশলী পিকের এই নয়া কৌশল।

জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মমতার বার্তা সব নেতাদের কাছে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। জনপ্রতিনিধি হতে গেলে প্রকৃতই জনতার প্রতিনিধি হতে হবে। কোনও দাদা ধরে কি পুরসভা, কি বিধানসভা কোথাও কোনও টিকিট পাওয়া যাবে না। অভিষেকের এই রাজনৈতিক বার্তার পরেই বিধানসভা, পুরসভা ওয়াড়ি নতুন ধরনের এই জনসমীক্ষা শুরু করেছে টিম পিকে।

সূত্রের খবর, এলাকাভিত্তিক দলীয় নেতৃত্বের পারফরম্যান্সের সঠিক হাল বুঝতে ‘র‍্যান্ডামাইজ ফোন কল’ করা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফোন করা হচ্ছে কোন বিধায়ক বা কাউন্সিলর এর এলাকার দলীয় কর্মীদের ৷ তৃণমূলের এক বিধায়ক এ ধরনের ফোনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘হ্যাঁ, ঠিকই। আমার কিছু কর্মী এ ধরনের ফোন পেয়েছে।’ ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে, আপনার এলাকার বিধায়ককে আপনি শেষ কবে পেয়েছেন? কোন কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন? আপনার বিধায়ককে জনসংযোগ বা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ১০ এর মধ্যে কত নম্বর দিতে চান? দূর্নীতি বা অন্য কোনও অভিযোগ আছে কি? আপনার এলাকায় ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে কেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে? ইত্যাদি...। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এ ধরনের প্রশ্নের জবাব সব সময় সংশ্লিষ্ট বিধায়কের পক্ষে নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে, সমান্তরাল পদ্ধতিতে ঐ জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে বিশেষ খোঁজ খবর নেবে দল। যদি তাতে দেখা যায় ঐ সব অভিযোগের যথেষ্ট সারবত্ত্বা রয়েছে, তাহলে ওই বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধির ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী করার আগে দশবার ভাববে দল। তা সে যতই প্রভাবশালী হোন না তিনি।’ দলের বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে দলের কর্মীদের মনোভাব আঁচ পেতেই প্রাথমিকভাবে এই সমীক্ষা। পরবর্তীধাপে দলের সমর্থক বা অনুরাগীদের থেকেও অনুরুপ খোঁজ খবর নেওয়া হতে পারে, বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে ভাবমূর্তির দিকটিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে গিয়েই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দূর্নীতি, তার ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও সম্পত্তির মতো বিষয়ে অভিযোগ আছে কি না সে দিকে বিশেষ নজর দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন পিকে।

First published: December 10, 2019, 9:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर