corona virus btn
corona virus btn
Loading

রাজনীতিতে ফিরছেন তথাগত, একুশের ভোটে কি তিনিই হবেন বিজেপি-র তুরুপের তাস?

রাজনীতিতে ফিরছেন তথাগত, একুশের ভোটে কি তিনিই হবেন বিজেপি-র তুরুপের তাস?
তথাগত রায়৷ Photo- Twitter

গরুর দুধে সোনা আছে বা গোমূত্রে করোনা সারানোর মতো মন্তব্য করলে বাংলায় তা বিজেপি-র বিপক্ষে যাবে বলেও কিছুদিন আগেই নাম না করে দিলীপ ঘোষের সমালোচনাই করেছেন তথাগতবাবু৷

  • Share this:

#কলকাতা: সাংবিধানিক পদে আর নেই৷ ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন তথাগত রায়৷ উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্যে রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলানো তথাগত রবিবার বিকেলেই কলকাতায় ফিরেছেন৷ আর বিজেপি-তে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের সমীকরণ বদলে যাওয়ার জল্পনা জোরাল হচ্ছে৷ বিশেষত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রবীণ এই রাজনীতিককে এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কীভাবে কাজে লাগাবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতূহল৷

এ রাজ্যে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিজেপি রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন তথাগত৷ যদিও সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র শক্তির আকাশ পাতাল তফাত৷ ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসনে জয়ী হওয়ার পর আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে জিতে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছেন দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা৷ এই পরিস্থিতিতে তথাগত রায়ের প্রত্যাবর্তনকে দলের বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব কীভাবে নেয়, তা নিয়েও সংশয় থাকছে৷ কারণ ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে দলাদলির অভিযোগ কেন্দ্রীয় স্তর পর্যন্ত পৌঁছেছে৷

এ রাজ্যে নির্বাচন হলে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে কত কয়েকদিন ধরেই আবার নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে তথাগত রায়ের ফের রাজনীতিতে ফেরা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ৷ কারণ রাজনৈতিক মহলের মতে, বিতর্কে জড়ালেও তিনটি রাজ্যে রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলে আসা তথাগত বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার অন্যতম দাবিদার হতেই পারেন৷ কারণ, এরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তুলে ধরার জন্য যথাযথ মুখ খুঁজে পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বকে৷ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই কাজটা সেরে ফেলার জন্য খুব একটা সময়ও নেই বিজেপি-র হাতে৷ সেদিক দিয়ে দেখতে গেলেও তথাগত রায় নাম উঠে আসছে৷

বর্তমান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গেও শেষ পর্যন্ত তথাগতবাবুর সম্পর্ক কী দাঁড়ায়, তাও বিজেপি নেতৃত্বের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে৷ কারণ সাম্প্রতিক অতীতে 'গরুর দুধে সোনা থাকার' মতো দিলীপ ঘোষের করা বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা সোশ্যাল মিডিয়ায় করেছেন তথাগতবাবু৷ গরুর দুধে সোনা আছে বা গোমূত্রে করোনা সারানোর মতো মন্তব্য করলে বাংলায় তা বিজেপি-র বিপক্ষে যাবে বলেও কিছুদিন আগেই নাম না করে দিলীপ ঘোষের সমালোচনাই করেছেন তিনি৷ ফলে এমনিতেই যখন দিলীপ-মুকুল দুই শিবিরে রাজ্য নেতৃত্ব ভাগ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ, তখন তথাগত রায়ের অন্তর্ভুক্তি রাজ্য বিজেপি-র কোন্দলকে বাড়িয়ে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন দলেরই কেউ কেউ৷ কারণ তথাগতর আগমনে বঙ্গ বিজেপি-তে নতুন কোনও শিবির তৈরি হবে না, তা কে বলতে পারে?

যদিও এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন তথাগতবাবু নিজেই৷ কলকাতায় ফেরার পর তিনি বলেন, 'দল আমাকে যে দায়িত্বই দেবে, আমি তা পালন করতে তৈরি৷ দলের ইচ্ছেতেই আমি রাজ্যপাল হয়েছিলাম৷ এবারও দল যা বলবে, আমি তাই করব৷ দল চাইলে আমাকে বাংলায় কাজে লাগাতে পারে, অথবা অন্য কোনও রাজ্যে পাঠাতে পারে৷' যদিও বাংলার রাজনীতিতেই যে তিনি মনোনিবেশ করতে চান, তা জানাতে ভোলেননি তথাগতবাবু৷

বইমেলায় সৌগত রায়ের সঙ্গে তথাগত রায়৷ Photo-File

তবে দিলীপ ঘোষদের তুলনায় তথাগতর নির্বাচনী রেকর্ড অনেকটাই ম্লান৷ অতীতে উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতা থেকে দু' বার লোকসভা ভোটে লড়াই করে পর্যুদস্ত হতে হয় তাঁকে৷ আবার শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক দিয়ে দেখলে শুধু নিজের দল বিজেপি কেন, এ রাজ্যের অনেক রাজনীতিবিদকেই পিছনে ফেলবেন তিনি৷

শিবপুর বিই কলেজ (বর্তমানে আইআইইএসটি) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি রয়েছে তথাগতর৷ পেশাদারি জীবনে ভারতীয় রেলের সংস্থা রাইটস-এ জেনারেল ম্যানেজার পদে ছিলেন৷ কলকাতায় মেট্রো রেলের চিফ ইঞ্জিনিয়ারিং (ডিজাইন)-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি৷ এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাও তাঁরই হাত দিয়ে হয়৷ সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তথাগতবাবু বিজেপি নেতৃত্বের কাছে অন্যতম বিকল্প হতেই পারেন৷

তবে তথাগতবাবু প্রকৃতই কতখানি জননেতা তা নিয়ে সংশয়ের যথেষ্ট কারণ আছে৷ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বা অন্য কোনও ভাবে জনপ্রিয় কোনও মুখের বদলে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে এগিয়ে থাকা তথাগতবাবুকে বিজেপি নেতৃত্ব কী ভাবে ব্যবহার করে, তা নিয়ে আগামী কিছুদিন চর্চা চলবেই৷ আর তাঁর প্রত্যাবর্তনের রাজ্য বিজেপি-র সমীকরণটাই বা কী দাঁড়ায়, সেটাও এখন দেখার৷

Sougata Mukhopadhyay

Published by: Debamoy Ghosh
First published: August 24, 2020, 6:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर