নারদকাণ্ডে এবার স্যামুয়েলকে সমন

নারদকাণ্ডে এবার সমন জারি করা হতে পারে নারদ ডট কমের কর্ণধারের বিরুদ্ধে ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারে লালবাজার ৷

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jun 27, 2016 04:52 PM IST
নারদকাণ্ডে এবার স্যামুয়েলকে সমন
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jun 27, 2016 04:52 PM IST

#কলকাতা: নারদকাণ্ডে এবার সমন জারি করা হতে পারে নারদ ডট কমের কর্ণধারের বিরুদ্ধে ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারে লালবাজার ৷

গত বৃহস্পতিবার নারদাকাণ্ডে ম্যাথু স্যামুয়েলকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুলিশ ৷ সাতদিনের মধ্যে নোটিসের জবাব না আসলে ম্যাথু স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে জারি করা হতে পারে গ্রেফতারি পরোয়ানা ৷

একইসঙ্গে নারদকাণ্ডে IPS এস মির্জাকে তলবের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ ৷ লালবাজার সূত্রে খবর, নারদকাণ্ডে দুটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে তাঁকে ৷ ম্যাথুর সঙ্গে মির্জার পরিচয় হয়েছে কীভাবে এবং কী কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে তাঁর কাছে ৷

শনিবার নারদকাণ্ডে টরেন্টকে নোটিস পাঠিয়েছে লালবাজার ৷ ভিডিও আপলোড নিয়ে টরেন্টের সঙ্গে কী চুক্তি হয়েছে জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিসে ৷ এছাড়াও বেশ কিছু ইন্টারনেট সংস্থাকেও নোটিস কলকাতা পুলিশ ৷

গত ১৭ জুন নবান্নে বিশেষ বৈঠকের পর কলকাতা পুলিশের হাতে নারদ স্টিং কাণ্ডের তদন্তভার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নেমে পড়ে কলকাতা পুলিশ ৷ তদন্তের জন্য সিপি রাজীব কুমারের নেতৃত্বে SIT গঠন করে কলকাতা পুলিশ ৷ এছাড়া টিমে রয়েছেন জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) বিশাল গর্গ, কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইমের ওসি এবং ইকনমিক অফেন্স উইং শাখার ওসি-সহ কয়েকজন কর্তা ৷

Loading...

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশের ৪৮ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই নারদ ডট কমের কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে নিউমার্কেট থানার পুলিশ ৷ মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে নারদ নিউজের CEO ম্যাথু স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে কলকাতা পুলিশ ৷

অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র থেকে জালিয়াতি, সম্মানহানির মতো একাধিক ধারায় নারদ ডট কমের কর্ণধারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ৷ ম্যাথু স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে ৪৬৯ ধারায় সম্মানহানির উদ্দেশ্যে জালিয়াতি, ৫০০ ধারায় মানহানি, ৫০৫(১)(বি) ধারায় জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ,১৭১(জি) ধারায় নির্বাচনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত কুৎসা ছড়ানো, ১২০(বি) ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় ৷

TMC_STING00000003-630x37211

অন্যদিকে, গত শুক্রবার আদালতে ফরেন্সিক রিপোর্টে নারদ স্টিংয়ের ফুটেজের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় ফুটেজ নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে ৷ নারদ ডট কমের দেখানো সমস্ত ফুটেজ আসল না তাতে কোনও কারিকুরি করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট কোনও রিপোর্ট দিতে পারেনি হায়দরাবাদ সিএফএসএল ৷ হায়দরাবাদ ল্যাবে ফুটেজ পরীক্ষার পরিকাঠামো না থাকায় আরও ফুটেজের আরও পরীক্ষার জন্য চণ্ডীগড় CFSL-এর কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৷

হায়দরাবাদ সিএফএসএল রিপোর্টে জানিয়েছে, প্রথমে আই ফোনে সমস্ত ছবি তোলা হয়েছে ৷ পরে সেই ছবি ম্যাথু স্যামুয়েলের ল্যাপটপে ট্রান্সফার করা হয় ৷ এই ট্রান্সফারের সময় কোনওরকম ডিজিটাল কারিকুরি করা হয়েছে কিনা তা জানতে ল্যাপটপের হার্ড ডিস্ক পরীক্ষা করা জরুরি ৷ সেকারণেই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি ল্যাব ৷ একইসঙ্গে তাঁরা ফুটেজের আরও পরীক্ষার জন্য চণ্ডীগড়ের ল্যাবে পাঠানোর পরামর্শ দেয় ৷

প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর বিশেষ কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে চণ্ডীগড়ে CFSL-এর কাছে নারদ ফুটেজ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন ৷ একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ চণ্ডীগড় CFSL-কে ফুটেজ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিল ৷ এর আগে নারদ ফুটেজ পরীক্ষার জন্য হায়দরাবাদ CFSL-কে বেছে নিয়েছিলেন স্বয়ং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর ৷ চণ্ডীগড়ে নারদের ফুটেজ পরীক্ষার জন্য পাঠাতে আপত্তি নেই বলে জানালেন সরকারি আইনজীবী ৷

গত ২৪ জুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নারদকাণ্ডের তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের গঠিত SIT হানা দেয় মধ্য কলকাতার একটি হোটেলে ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৪ সালে যে সময় নারদ ডট কম ওই স্টিং অপারেশন চালায়, সে সময় কলকাতায় এসে ওই হোটেলেই ছিলেন ম্যাথু স্যামুয়েল ৷ হোটেলে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি ৷

গত সোমবার হাইকোর্টে নারদ মামলার শুনানি পর্বে নারদ নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে এর বিচার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদনও করেন তিনি ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৎপরতার সঙ্গে নারদকাণ্ডের তদন্ত শুরু হলেও সেই প্রক্রিয়াকে কোনও গুরুত্বই দেয় না কলকাতা হাইকোর্ট ৷

বরং আইনজীবীর আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, ‘কে কী বলছে বা কে কী করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আমরা যা নির্দেশ দেব, সেটাই শেষ কথা। কারও কোনও আপত্তি থাকলে, আদালতের পথ খোলা।’ একই সঙ্গে রাজ্যের আইনজীবীর কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যাও চান প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর ।

নারদ মামলায় বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের কাছে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য জানান, আদালত এই কাণ্ডের তদন্ত কার হাতে দিতে চায়, সেই নির্দেশ আসার আগেই রাজ্য সরকার স্বত:প্রণোদিত হয়ে তদন্তের ভার দিয়েছে কলকাতা পুলিশের হাতে ৷ তাঁর দাবী, এটি আদালতের অবমাননা ৷

First published: 04:52:23 PM Jun 27, 2016
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर