কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘ এই কারণে ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ঘরের লক্ষ্মী ছিলাম আর এখন বেহুলা মারকুটে হয়ে গেল’, ডির্ভোস নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সুজাতার

‘ এই কারণে ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ঘরের লক্ষ্মী ছিলাম আর এখন বেহুলা মারকুটে হয়ে গেল’, ডির্ভোস নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সুজাতার

আমার সিঁথিতে এখন সৌমিত্র খাঁয়ের নামের সিঁদুর, হাতে ওর নামের নোয়া ৷ আমি সবসময় এটাই চেয়েছি যে বন্ধনে ছাদনাতলায় ও আমায় বেঁধেছে সেই বন্ধনকে যেন শ্মশানের চিতায় অবধি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি ৷’ ...কেন এত ভালবাসা সত্ত্বেও ডিভোর্স! খোলামেলা সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন সুজাতা

  • Share this:

খাঁ পরিবারে ভাঙন। বিজেপি ছেড়ে বিজেপি সাংসদ ও যুব মোর্চা সভাপতির স্ত্রী সুজাতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ৷ গেরুয়া শিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোড়া ফুল শিবিরে সুজাতার যোগ দেওয়ার এক ঘণ্টা হতে না হতেই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সৌমিত্র খাঁ ৷ বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা করতে করতেই ফুঁপিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি ৷ গতকাল বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়াকেই বিচ্ছেদের মূল কারণ বললেও সুজাতা মন্ডল খাঁকে পাঠানো ডিভোর্স নোটিসে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন সৌমিত্র। বলেন, সুজাতা ঝগড়ুটে, তার উপর অনেক মানসিক-শারীরিক অত্যাচার করেছে।  ভোট ময়দানে দলবদলে ঘরে ভাঙনের এমন ঘটনায় হতভম্ব রাজনৈতিক মহল ৷ কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত News 18 বাংলায় এক্সক্লুসিভলি জানালেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের স্ত্রী সুজাতা মন্ডল খাঁ ৷

প্র:- কী এমন হল যে রাজনৈতিক ময়দানের হিট জুটিতে ভাঙন? ডিভোর্সের কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন সৌমিত্র! কাঁদতে দেখলাম আপনাকেও..

উ:স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে কিছুই হয়নি ৷ দলে সম্মান পাচ্ছিলাম না ৷ নিজের রাজনৈতিক সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমার প্রিয় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিলাম ৷ এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে বিচ্ছেদ আসবে তা কোনওদিন ভাবিওনি ৷ আমার সিঁথিতে এখন সৌমিত্র খাঁয়ের নামের সিঁদুর, হাতে ওর নামের নোয়া ৷ আমি সবসময় এটাই চেয়েছি যে বন্ধনে ছাদনাতলায় ও আমায় বেঁধেছে সেই বন্ধনকে যেন শ্মশানের চিতায় অবধি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি ৷ ওর মঙ্গলকামনাতেই সিঁদুর পরি ৷ আমি ওকেই এখনও আমার স্বামী মানি , তারই মঙ্গল কামনা করি৷ ওর আমার সম্পর্কে ডিভোর্স তো আমি ভাবতেই পারি না ৷ যার কাছে ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ঘরের লক্ষ্মী ছিলাম, কী করে অলক্ষ্মী, অপ্রিয়া হয়ে গেলাম ৷ সেটা কী এত কম সময়ে হতে পারে ৷

প্র: তাহলে আপনার কী মনে হচ্ছে? সৌমিত্র ডির্ভোসের নোটিশ পাঠালেন কেন?

উ: ভারতবর্ষে তো অনেক পরিবারের মানুষই রয়েছেন যারা দুটো দল করেন ৷ এমন দম্পতিও রয়েছেন, যারা আলাদা রাজনৈতিক দল করেন ৷ সেখানে কী এমন হয়েছে? আমার ক্ষেত্রে দলের চাপ আছে বলে আমি মনে করি ৷

প্র: সৌমিত্র আজ বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশে বলেছেন, আপনারা ৬ মাস আলাদা থাকছিলেন৷ এত ভালবাসার সম্পর্ক তো আলাদা ছিলেন কেন?

উ: আমি কখনই আলাদা থাকিনি ৷ আমাকে পরিকল্পনা করে আলাদা রাখা হয়েছে ৷ এতে তাঁর পরিবার ও সৌমিত্রকে ঘিরে থাকা কিছু বিষাক্ত লোকের হাত রয়েছে ৷ আমি সৌমিত্রর পাশে থাকলে তাঁকে লুটে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না ৷ আমি আমার জীবন দিয়ে ওকে বাঁচিয়ে এসেছি, সেই চেষ্টায় সবসময় করতাম ৷ ওর পরিবারও হয়ত ভেবেছে সুজাতাকে সৌমিত্রের থেকে আলাদা করতে হবে ৷ আমি বিশ্বাস করি সৌমিত্র আমার স্বামী ৷ সারাজীবন ওই থাকবে ৷ ওর নামের সিঁদুরই আমি আমার মাথায় পড়ব ৷ রাজনীতির কূটকচালিতে যেন আমার সম্পর্ক শেষ না করে দেয় ৷ এখনও ডিভোর্সের নোটিশ হাতে পাইনি জানি না তাতে কী আছে ৷

প্র: আমাদের হাতে থাকে ডিভোর্স নোটিশের কপি অনুযায়ী ৬ মাস আপনারা আলাদা আছেন এবং আপনি সৌমিত্রকে বরাবর তাঁর পরিবারের থেকে আলাদা থাকার জন্য জোর করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে--

উ: খবর নিলেই বুঝতে পারবেন এসব আমি কিছুই করিনি ৷ সৌমিত্রর পরিবার ওর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ৷ ওকে কীভাবে আমি বাকিদের থেকে আলাদা করব! সৌমিত্র ও সৌমিত্রর পরিবারকে বাঁচাতে আমি নিজের জীবন পর্যন্ত বাজি রেখেছিলাম ৷ ওকে সম্মান দিয়ে জেতাতে আমার পূর্ব দলের কর্মীদের সঙ্গে থেকে লড়াই করে দ্বিতীয়বারের জন্য সাংসদ হিসেবে দিল্লি পাঠালাম ৷ ওর পরিবারকে বাঁচালাম ৷ আর আজ দলত্যাগের জন্য ওর কাছে এতটা খারাপ হয়ে গেলাম? আমার নিশ্চিত বিশ্বাস সৌমিত্র মন থেকে করেনি ৷ ভারতীয় জনতা পার্টি চক্রান্ত করে আমাদের সম্পর্কটা ভাঙার চেষ্টা করছে ৷ ওকে জোর করে এসব করাচ্ছে ৷ খুব দুঃখ হচ্ছে ভাবতে যে বিজেপি তিন তালাক রদের কথা বলেছিল আজ সেই পার্টির সাংসদ নেতৃত্বের চাপে সাংবাদিক সম্মেলন করে ডিভোর্সের কথা বলছে ৷

প্র: যে বিজেপিতে আপনি এতদিন ছিলেন সেই বিজেপি আজ হঠাৎই এতটা খারাপ হয়ে গেল?

উ: আমি খারাপ ভালর কথায় যেতে চাইছি না ৷ যে দল যোগ্য লোককে সম্মান দেয় না ৷ আমার উপর পরিবারতন্ত্রের স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছে, অথচ সেখানেই ভুরি ভুরি এমন উদাহরণ রয়েছে ৷ অর্জুন সিং-পবন সিং, মুকুল রায়-শুভ্রাংশু রায় ৷ একসময় বাবা-ছেলে আলাদা দলে থাকলেও তাদের মধ্যে ত্যাজ্য সম্পর্ক ছিল না ৷ কিন্ত আমাদের সম্পর্কে দেখুন কী হল!

প্র: সৌমিত্র খাঁ কিন্তু কালকে জানিয়েছিলেন দলে স্বামী-স্ত্রীকে সমান পদ দেওয়া যায় না ৷

উ: সমান পদের কথা তো বলিনি ৷ বিজেপি কেন কোনও দলেই একই পরিবারে সমান পদ দেওয়া হয় না ৷ তবে পদ রয়েছে একই পরিবারে একাধিক লোকের ৷ উদাহরণ, এই অর্জুন সিং, মুকুল রায়..

প্র: তাহলে কী আপনি বিজেপিতে একটা পদ পেয়ে গেলে রয়ে যেতেন?

উ: আমি সেটা একবারও বলিনি ৷ শুধু বলছি স্বামী-স্ত্রীয়ের সম্পর্কে এই বাধা কেন আসবে ৷ তাহলে শুভেন্দু অধিকারী শিশির অধিকারী আলাদা দল করার জন্য আলাদা হয়ে যাচ্ছেন না কেন? রাজনাথ সিং-পঙ্কজ সিং একই পরিবারে এমএলএ-এমপি ৷ কৈলাস বিজয়বর্গী আকাশ বিজয়বর্গী যখন একই পরিবারে দুটো বড় পদ ভোগ করে তখন পরিবারতন্ত্র আসে না !

প্র: আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনি প্রচন্ড সন্দেহবাতিক৷ সৌমিত্রর চরিত্র নিয়ে নাকি সন্দেহ প্রকাশ করতেন?

উ: দেখুন আমি জানি না সৌমিত্র কারোর চাপে পড়ে আর কী কী বলতে বাধ্য হবে! এগুলোর উত্তর দেওয়া কতটা সমীচীন আমি বুঝতে পারছি না ৷ কারণ এখনও হাতে নোটিশ পাইনি ৷ আমি কবে সৌমিত্রকে সন্দেহ করেছি জানি না, যারা এগুলো বলাচ্ছে তারা হয়ত জানে ৷ মানসিক শারীরিক নিগ্রহের কথা কোথা থেকে এল জানি না ৷ ছোটখাট গোলমাল তো সব দম্পতির মধ্যেই থাকে ৷

প্র: আপনি ওনাকে মারধর করেছেন এমন অভিযোগও উঠেছে..

উ: সেটাই তো বলছি ৷ একটু প্রমাণ দেখাতে পারলে ভাল হত ৷ যাদের চাপে সৌমিত্র এসব কথা বলতে বা লিখতে বাধ্য হচ্ছে তাদের উত্তর দিতে পারলে ভাল লাগত ৷ সমস্ত মানুষের কাছে সুজাতার ছবি স্বামী সোহাগিনী সতী.. আজ একরাতের মধ্যেই বেহুলা মারকুটে হয়ে গেল! আসলে সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা সত্যযুগেও দিতে হয়েছে আজও দিতে হচ্ছে ৷ সেই সীতা কোথাও সুজাতা কোথাও অন্য কেউ ৷ তাই যার জন্য একদিন নিজের জীবনের পরোয়া না করে লড়েছি, আজ শুনতে হচ্ছে আমি নিগ্রহ করেছি, পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছি ৷ তবে একটা কথা আমি বলতে চাই, সৌমিত্রের এক কাকীমা তৃণমূল করেন, নটিয়াবনি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ৷ সৌমিত্র কিন্তু বাড়ির কাছে গেলেই দেখা করে থেকে খেয়ে আসে ৷ দলত্যাগের জন্যই যদি আমাকে ছাড়তে হয়, তাহলে কাকীমাকে কেন খাঁ পরিবার ত্যাগ করেননি ? সেও তো আমারই মতো খাঁ বাড়ির বউ, তাকেও বার করে দিক ৷ দল বদলালেই কেন ডির্ভোস দিতে হবে!

প্র: সৌমিত্র হাত জোড় করে কাল বলেছিলেন, সুজাতা খাঁ পদবিটা সরিয়ে দাও৷ কি করবেন আপনি?

উ: আমি কোনওদিনই স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত হতে চায়নি ৷ তাঁকে সিঁথির সিঁদুরে স্থান দেব ৷ কিন্তু তার মানে এটা নয়, যে একটা মেয়ে তাঁর বাবার পরিচয় স্বামী পরিচয়ে পরিচিত হয় ৷ আমি চাইব মানুষ আমাকে কর্মদক্ষতা দিয়ে সুজাতা নামেই চিনুক কোনও পদবী দিয়ে নয় ৷

প্র: সুজাতা কি সুখী আছে?

উ: জোড়াফুলের দলে এসে সুজাতা এখন নিশ্বাস নিতে পারছে তাতে আমি খুব খুশি ৷ কিন্তু পার্সেনাল ক্ষেত্রে মন ভারাক্রান্ত ৷ দলের চাপে পার্টির ব্যানারে প্রেস মিট ডেকে দলের চাপে সৌমিত্রকে এসব বলতে হল !

Published by: Elina Datta
First published: December 22, 2020, 11:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर