কলকাতা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

মেশিনে চাপা পড়ে বাদ যাওয়া হাতের পাঞ্জা তৈরি করে শ্রমিককে নবজন্ম কলকাতা মেডিক্যালের

মেশিনে চাপা পড়ে বাদ যাওয়া হাতের পাঞ্জা তৈরি করে শ্রমিককে নবজন্ম কলকাতা মেডিক্যালের

পায়ের চামড়া কেটে মেশিনে চাপা পড়ে বাদ যাওয়া হাতের পাঞ্জা তৈরি করে ডানকুনির শ্রমিককে নবজন্ম কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ৷

  • Share this:
#কলকাতা:  বিহারের খাগারিয়া জেলার এক অখ্যাত গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ কুমার সিং। চূড়ান্ত দারিদ্র্য পরিবারে। বছর ২৩-এর সৌরভ ৩ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে এই রাজ্যে আসে।বাবা,মা-কেও গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে সে।হুগলির ডানকুনিতে একটি পাইপ কারখানায় শ্রমিকের কাজ জুটে যায় তার। কষ্টে-সৃষ্টে হলেও দিন গুজরান হয়ে যাচ্ছিল। গত বছরের ২৬ অক্টোবর নেমে আসে বিপত্তি। কারখানাতেই কাজ করার সময় একটি ভারী মেশিনের তলায় তার বাঁ হাতটা পিষ্ট হয়ে যায়। বাঁ হাতের তালু ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে, সেখান থেকে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে। কোথাওই তার বাঁ হাতের পাঞ্জা ঠিক করে দেওয়া এক প্রকার প্রায় অসম্ভব বলে জানানো হয়। ধারদেনা করে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমে ভর্তি হয় সৌরভ কুমার। কিন্তু বাঁ হাতের অবস্থা দিনকে দিন সঙ্গীন হয়ে যায়। দুটি আঙুল বাদ দিয়ে বাঁ হাতের পাঞ্জা পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে।বাঁ হাতটা নাড়ানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে সৌরভের পক্ষে। ভবিষ্যতে আর কাজ করা, সংসারে দু’মুঠো ভাত তুলে দেওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে সৌরভের জীবনে। হতাশায় ভেঙে পড়ে সৌরভ-সহ  গোটা পরিবার। ধীরে ধীরে পচন ধরে যায় গোটা বা হাতে। গত ১৪ জানুয়ারি, মঙ্গলবার কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয় সৌরভকে। প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন অসাধ্য সাধনের। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল বলে দিয়েছে যে হাতের পাঞ্জা বাদ দিতে হবে সেই অবস্থাতেই মেডিকেল কলেজের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের কিছু অকুতোভয় চিকিৎসক পণ করলেন যে তারা অস্ত্রোপচার করে সৌরভকে সুস্থ করে তুলবেন। দু-দুটো অস্ত্রোপচার করা হয়। বা পায়ের পাতা থেকে চামড়া তুলে এনে সৌরভের বা হাতে প্রতিস্থাপন করা হয়। কুড়ি ঘণ্টা ধরে চলে এই অস্ত্রোপচার। অবশেষে সাফল্য,সাতদিন পরে সৌরভের বা হাতের ড্রেসিং খুলে মিরাকল। প্রায় আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে সৌরভের বাঁ-হাত। আনন্দে চোখে জল এসে যায় সৌরভ- -সহ তার পরিবারের। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না।
প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শান্তনু সুবা জানান, অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং অপারেশন ছিল এটা। হতদরিদ্র পরিবারের এই যুবককে সুস্থ করে তোলাটা সত্যিই একপ্রকার দুঃসাধ্য ছিল, তবুও ৬ জনের বিশেষ টিম এই অস্ত্রোপচার করে। সৌরভ এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আগামী কিছুদিন তাকে ফিজিওথেরাপি করতে হবে। এরপর সে আবার আগের মতোই কাজ করতে পারবে। সৌরভের বাবা অনন্ত কুমার সিং চোখের জল ফেলতে ফেলতে বললেন, ‘‘ আমার ঈশ্বর এই চিকিৎসকরাই। এরাই আমার একমাত্র ছেলেকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিল।’’ Abhijit Chanda
Published by: Siddhartha Sarkar
First published: January 24, 2020, 8:45 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर