কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

দলকে কড়া বার্তা দিতে শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক, নেত্রীর মন্তব্য শুনে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললেন সুব্রত বক্সি!

দলকে কড়া বার্তা দিতে শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক, নেত্রীর মন্তব্য শুনে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললেন সুব্রত বক্সি!

শীর্ষ নেতৃত্বদের নিয়ে ডাকা ভার্চুয়াল বৈঠকে কি এমন ঘটল যে সুব্রত বক্সির মতো কাঠখোট্টা স্বভাবের জন্য পরিচিত মানুষও কান্নায় ভেঙে পড়লেন?

  • Share this:

#কলকাতা: এমনই দৃশ্য দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠকে ৷ একুশে বড় যুদ্ধ ৷ ভোটের ময়দানে কোমর বেঁধে ঝাঁপানোর আগেই অন্দরমহলে কোন্দল ৷ দলে একের পর এক বিধায়ক-নেতা-কর্মীদের গলায় বেসুরো সুর ৷ দলের পতাকা কাঁধে ময়দানে নামার সময় যখন, তখন কেউ করছেন দলের প্রতীক ছাড়া অরাজনৈতিক সভা তো কেউ আবার ফেসবুকে লিখছেন দল বিরোধী কথা ৷ এমন পরিস্থিতি ঘর সামলাতে কড়া হাতে রাশ ধরলেন নেত্রী ৷

শীর্ষ নেতৃত্বদের নিয়ে ডাকা ভার্চুয়াল বৈঠকে কি এমন ঘটল যে সুব্রত বক্সির মতো কাঠখোট্টা স্বভাবের জন্য পরিচিত মানুষও কান্নায় ভেঙে পড়লেন? সে রহস্যভেদ করতে হলে জানতে হবে আজকের সভায় কী বললেন দলনেত্রী ৷

একের পর এক বিধায়ক-নেতার দলবিরোধী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘দলবিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে ৷আমাদের সঙ্গে নেই যাঁরা তাঁদের সরাতে হবে ৷ যাঁদের সাহস আছে আমাদের সঙ্গে থাকুন ৷ না থাকতে পারলে লুটেরাদের কাছে যান ৷ দলের হয়ে কাজ না করলে তৃণমূলে থাকতে হবে না ৷ দলে থেকে অন্য দলের হয়ে কাজ বরদাস্ত করা হবে না ৷’

কড়া সুরে বকাবকির মাঝেই হঠাৎই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নেত্রী, বলেন, এখন এমন অনেকে আছেন যারা তাঁর মৃত্যু কামনা ছাড়া আর কিছুই করছেন না ৷ যাতে আমি চলে গেলে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারে ৷ প্রিয় দিদির মুখে এমন কথা শুনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যেকেই হতভম্ব হয়ে যান কিন্তু সবথেকে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া আসে সুব্রত বক্সির কাছ থেকে ৷ এমন কথা শুনে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি ৷ কাঁদতে কাঁদতেই বলেন, ‘আপনি এমন কথা বলবেন না। আপনি থাকবেন। আপনি সারাজীবন আমাদের নেত্রী থাকবেন। আমাদের রাস্তা দেখাবেন।’

দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে এভাবে কাঁদতে দেখে হতচকিয়ে যান স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ৷ সুব্রতবাবুকে শান্ত করতে তিনিই উদ্যোগী হন ৷ বলেন, ‘জল খান ৷ শান্ত হন ৷ এভাবে কাঁদবেন না প্লিজ ৷ ’ নেত্রীর কথায় তিনি নিজেকে সামলে নিলেও এরপর যতক্ষণ বৈঠক চলেছে ততক্ষণই সুব্রত বক্সি মুখ কালো করে বসেছিলেন ৷ বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের থেকে জানা গিয়েছে এদিন তেমন কথাও বলেননি বক্সিবাবু ৷

এরই মাঝে মমতা বন্দোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, তার এত দিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তিনি পরবর্তী চার জেনারেশনকেও তৈরি করে দিতে পেরেছেন। আগামী দিনের রাজনীতির ব্যাটন তারা ধরবেন। সূত্রের খবর, এই কথা শোনার পরেই আবেগ মথিত হয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মীদের বক্সিদা।

দলের একাধিক নেতা মন্ত্রী জানাচ্ছেন, এক একটা নির্বাচন এক একটা লড়াই। দল একটা পরিবারের মতই। যেটাকে আগলে রেখেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। কেউ এসেছেন, কেউ চলে গেছেন, কেউ আবার ফেরত এসেছেন। কিন্তু প্রত্যেকের সাথে যোগাযোগ থেকে গেছে।   সেখান থেকেই আবেগের জন্ম হয়েছে। তবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দলকে সামনে কঠিন লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন সুব্রত বক্সিও। ঘরে বসে না থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পথেই লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন।

Abir Ghosal

Published by: Elina Datta
First published: December 4, 2020, 10:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर