corona virus btn
corona virus btn
Loading

উচ্চমাধ্যমিকে বাতিল পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা, কী বলছে পড়ুয়ারা?

উচ্চমাধ্যমিকে বাতিল পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা, কী বলছে পড়ুয়ারা?
Representative Image

ছাত্র-ছাত্রীদের তরফে প্রশ্ন উঠে আসছে, কী ভাবে পরীক্ষা না দিয়েই যদি আগে হয়ে যাওয়া পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ নম্বরকে বাতিল হওয়া পরীক্ষার বিষয়ের নম্বর যোগ করে দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে অনেক ছাত্র-ছাত্রী তুলনামূলকভাবে কম নম্বর পাবেন বলেই আশঙ্কা করছেন।

  • Share this:

#কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে মান্যতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখেই রাজ্য সরকার উচ্চমাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গত শুক্রবার। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়  সাংবাদিক সম্মেলন করে পরীক্ষা বাতিলের কথা ঘোষণা করেন।

পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণার পরপরই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষত, সিবিএসই-এর আদলে বাতিল হওয়া পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি করা হলেও কার্যত বাকি বিষয়গুলির কত নম্বর পাবেন তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে ছাত্রছাত্রীরা।

এ নিয়ে শনিবার থেকেই বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীরাই অবশ্য পরীক্ষা দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করছেন। বাতিল হওয়া পরীক্ষার মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, স্ট্যাটিসটিক্স, কলা বিভাগের ইকোনমিক্স, এডুকেশন, সংস্কৃত, ভূগোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির পরীক্ষা বাকি ছিল। পাশাপাশি বাণিজ্য বা কমার্স বিভাগের অ্যাকাউনন্ট্যান্সির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষা বাকি ছিল।

এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের তরফে প্রশ্ন উঠে আসছে, কী ভাবে পরীক্ষা না দিয়েই যদি আগে হয়ে যাওয়া পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ নম্বরকে বাতিল হওয়া পরীক্ষার বিষয়ের নম্বর যোগ করে দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে অনেক ছাত্র-ছাত্রী তুলনামূলকভাবে কম নম্বর পাবেন বলেই আশঙ্কা করছেন।

বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী স্নাতা পান্ডের বিজ্ঞান বিভাগের ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি ছিল। পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়াতে মন খারাপ দক্ষিণ কলকাতার এই ছাত্রীর। এ প্রসঙ্গে স্নাতা বলে,  " মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আমি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রির নম্বর পাবো তা আমার কাছে সন্তোষজনক হচ্ছে না। মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। পরীক্ষা দিলে অনেকটাই ভালো নম্বর পাওয়ার আশা অন্তত আমি করেছিলাম।"

একই মতামত উঠে এসেছে বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের আরেক ছাত্রী নন্দিনী শর্মার মন্তব্যেও। পরীক্ষা প্রসঙ্গে সে বলে,  "যারা অঙ্ক পরীক্ষা ভালো দিয়েছে তাদেরই লাভ হবে। কেন না নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরকেই বাতিল পরীক্ষার নম্বর হিসাবে দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু যারা অঙ্কে কম নাম্বার পাবে তারা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম নম্বর পেয়ে যাবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। তাই আমি অন্তত এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি সঙ্গে একমত হতে পারছি না।"

পাঠভবন স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শিঞ্জিনী বোস অবশ্য বলছে, "এটা ঠিক বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু যেভাবে বাতিল হয়ে যাবার পরীক্ষার নম্বর দেওয়া হবে সে ক্ষেত্রে আমাদের মত অনেক ছাত্র-ছাত্রী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এই পদ্ধতিটাকে বদলানো দরকার।"

অন্যদিকে শিক্ষাবিদদের একাংশ অবশ্য উচ্চমাধ্যমিকের বাতিল হয়ে যাওয়া পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে খানিকটা সংশয় প্রকাশ করছেন। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জয়েন্ট বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভাস্কর গুপ্ত বলেন,  "এটা ঠিক পরীক্ষা না দিলে ছাত্রছাত্রীদের কাছে মানসিক শান্তি থাকে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাগুলো সমস্যা না হলেও এটা ঠিক কিছুটা প্রভাব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ফেলবে পরীক্ষা না দেওয়ার বিষয়টি।" অবশ্য নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান শিক্ষক সন্দীপন মহারাজ রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি অবশ্য বলছেন,  "উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের এই মূল্যায়ন পদ্ধতির জন্য নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের কোনও ক্ষতি হবে না। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার সঙ্গে আমাদের মিশনের ছাত্রদের কথা হয়েছে। তবে সার্বিক ভাবে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরীক্ষার না হওয়ার বিষয়টি প্রভাব ফেলবে।"

যদিও শুক্রবারই সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যারা ফলাফল প্রকাশের পরে সন্তুষ্ট হতে পারবেন না, নম্বর নিয়ে তাদের আবারও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। যদিও সেই সুযোগ পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার পরেই পাবেন ছাত্রছাত্রীরা।

অন্যদিকে, আগামী ৩১  জুলাইয়ের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হবে বলেও  জানিয়েছেন তিনি। যদিও ফলাফল প্রকাশের পরপরই ছাত্রছাত্রীদের  মধ্যে ভর্তি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কারণটা অবশ্যই বাতিল হয়ে যাওয়া পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by: Arindam Gupta
First published: June 27, 2020, 3:44 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर