কলকাতা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

১৪ দিন পর বাগুইহাটি থেকে উদ্ধার 'ফিফি', সন্ধান দেওয়ায় ১০ হাজার টাকা পুরস্কার পেলেন দোকানকর্মী

১৪ দিন পর বাগুইহাটি থেকে উদ্ধার 'ফিফি', সন্ধান দেওয়ায় ১০ হাজার টাকা পুরস্কার পেলেন দোকানকর্মী

ফিফি'র সন্ধান দেওয়ায় ১০ হাজার টাকা পুরস্কার পেলেন বাগুইহাটি অর্জুনপুরের এক দোকানকর্মী।

  • Share this:

#কলকাতা: 'ফিফি হারিয়ে গিয়েছে'। কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে এই পোস্টারটি সর্বত্র ছেয়ে গিয়েছিল। দেশি কুকুরের ছবি দেওয়া ওই পোস্টারে 'ইনাম'ও ঘোষণা করা ছিল। অর্থাৎ কেউ ফিফি'র সন্ধান দিতে পারলে নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। শেষমেশ ১৪ দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর সেই পোস্টারের সূত্রেই মিলল ফিফি'র সন্ধান। আর তার সন্ধান দেওয়ায় ১০ হাজার টাকা পুরস্কার পেলেন বাগুইহাটি অর্জুনপুরের এক দোকানকর্মী।

দেশি বা নেড়ি প্রজাতির কুকুর ফিফি'র ঠিকানা দিল্লি। জন্মস্থানও। তবে সে 'অনাথ' নয়। বি-টেকের ছাত্রী নন্দিনী কৌশিক ও মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী দুতিস্মিতা দাসই তার সব। মাসআটেক আগে নন্দিনী রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছিলেন ফিফি'কে। নামটাও তাঁরই দেওয়া।

সম্প্রতি কলকাতার বাসিন্দা একটি পরিবার ফিফি'কে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তাই ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের কার্গোতে করে ফিফি'কে কলকাতায় পাঠানো হয়। যাঁদের দত্তক নেওয়ার কথা ছিল তাঁরা ফিফি'কে 'রিসিভ'ও করেন। কিন্তু গাড়িতে তোলার সময় কোনওভাবে পালিয়ে যায় সে। তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিল ১৪ দিন। তখন থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন দুই অভিভাবক। ফিফি'র খোঁজে দিল্লি থেকে কলকাতা এসে নাওয়া-খাওয়া ভুলেছিলেন দুই বান্ধবী।

ফিফি'কে খুঁজতে চেষ্টায় কোনও খামতি রাখেনি দুতিস্মিতা ও নন্দিনী। থানা-পুলিশ থেকে শুরু করে সাংসদ তথা পশুপ্রেমী মানেকা গান্ধী পর্যন্ত দৌড়েছেন দুই বান্ধবী। মানেকার হস্তক্ষেপে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সাহায্য করছে ফিফি'কে খুঁজে বের করতে। বিমানবন্দরের সিসিটিভিও পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু খোঁজ মেলেনি।অসহায় ফিফি'কে খুঁজে পেতে বিমানবন্দর এলাকায় কয়েকশো পোস্টার দেওয়া হয়েছিল। তাতে ফিফির ছবি-সহ তার বিবরণ ও যোগাযোগের নম্বরও ছিল। সেই সূত্রেই মঙ্গলবার বাগুইহাটি এলাকা থেকে একজন ফোন করে জানান তিনি ফিফি'কে দেখেছেন। প্রমাণস্বরূপ ছবিও পাঠান। ফিফি ওই এলাকাতেই রয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে ছুটে যায় উদ্ধারকারী দলের সদস্য শ্রীময়ী চক্রবর্তী, আদিত্য রায়চৌধুরী, পৌলমি সাহা ও প্রসেনজিতরা। তাঁরা অর্জুনপুরে গিয়ে ফিফি'কে দেখতে পেলেও প্রথমেই উদ্ধার করতে পারেননি। তবে সে যেখানে ঘাঁটি গেড়েছে তা চিহ্নিত করে আসেন।

বুধবার সকালে অর্জুনপুরের সেই দোকানকর্মী উদ্ধারকারী দলকে জানায় ফিফি তার ঘাঁটিতে ফিরেছে। বিশ্রাম নিচ্ছে। তারপর দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। শ্রীময়ী বলেন, "ফিফি এমনিতে ভালই আছে। তবে সামান্য জ্বর রয়েছে। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। ওই দোকানকর্মী গত ক'দিন ধরে ফিফিকে খাওয়াচ্ছিলেন। তাই সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিল ফিফি। সেই জন্যই উদ্ধার করা গেল।" ফিফি'র খোঁজ দেওয়া ও তার দেখভাল করার জন্য ইতিমধ্যেই ঘোষণামতো ১০ হাজার টাকা পুরস্কারমূল্য দেওয়া হয়েছে ওই দোকানকর্মীকে।

ফিফি'র অন্যতম অভিভাবক দুতিস্মিতা বলেন, "ফিফি'কে এবার আমরা দিল্লিতে নিয়ে যাব। আমাদের কাছেই রাখব।" প্রিয়জন হারালে তাঁকে খুঁজে পেতে মানুষ যা করে ঠিক ততটাই উদ্যোগ নিয়েছিলেন দুতিস্মিতা, নন্দিনী-সহ ফিফি'র গোটা উদ্ধারকারী দল। ঘরে পোষা কোনও বিলেতি কুকুর নয়, হারিয়ে যাওয়া সাধারণ নেড়ি কুকুরকে খুঁজে পেতে দিল্লি থেকে কলকাতায় আসা এবং খুঁজে পেতে মোটা টাকা ইনাম ঘোষণা। এত উদ্যোগ কেন? দলের সদস্যদের জবাব, "কারণ, আমরা মানুষ আর কুকুরের মধ্যে কোনও ফারাক দেখি না।"

SUJOY PAL

Published by: Shubhagata Dey
First published: July 8, 2020, 11:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर