'চিঠঠি আই হ্যায়, আই হ্যায়...' বিধানসভা শেষ, পৌঁছল ধনকড়ের চিঠি...

'চিঠঠি আই হ্যায়, আই হ্যায়...' বিধানসভা শেষ, পৌঁছল ধনকড়ের চিঠি...

সরকারের তোলা অভিযোগকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়ে সদনে তা পেশ করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠালেন রাজ্যপাল। কিন্তু, কাজে এল না রাজ্যপালের সেই "চাল"

  • Share this:

ARUP DUTTA

#কলকাতা: এ যেন সেই গল্প। অবশেষে বর পৌঁছল ছাদনাতলায়। কনেও তৈরি মালা বদলের জন্য। কিন্তু, বাদ সাধলেন কনের মা। কারণ, বর নাকি চরিত্রহীন। জেনে শুনে এই ছেলের হাতে মেয়েকে সমর্পন! নৈব নৈব চ। তাই, বর আসার আগেই মেয়ে নিয়ে বিয়ের আসর ছেড়ে চম্পট দিয়েছে মা। আর, বেগতিক বুঝে গুটি গুটি পায়ে বিয়ের আসর ছাড়ছেন আমন্ত্রিতরা। বিধানসভায় এস সি, এস টি কমিশন সংক্রান্ত বিল নিয়ে রাজভবন ও বিধানসভার কিসসা আজ অনেকটা সেদিকেই গড়াল।

সরকারের তোলা অভিযোগকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়ে সদনে তা পেশ করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠালেন রাজ্যপাল। কিন্তু, কাজে এল না রাজ্যপালের সেই "চাল"। শোনা কথা, রাজভবন থেকে চিঠি নিয়ে রওনা দিয়েছেন 'বর', আর তা জেনেই 'কনে'-র মায়ের মত পত্রপাঠ বিধানসভার অধিবেশন শেষের ঘোষনা করে দেন স্পিকার। ফলে, রাজ্য সরকারে সাধের এস সি এস টি বিলে বাড়া ভাতে ছাই পড়লেও, বিধানসভায় বিল পাশ আটকে দেওয়ার অপবাদ মাথায় নিয়ে দিনের শেষে মাঠ ছাড়তে হল রাজভবনকে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তপশিলি জাতি, উপজাতিদের নিরাপত্তা দিতে কমিশন গড়তে চেয়েছিল সরকার। সে কারণেই বিল আনতে নিয়মমাফিক রাজ্যপালের অনুমতি চেয়েছিল রাজ্য। কিন্তু, কে আর জানত তা নিয়ে জল এতদূর গড়াবে? রাজ্যের সেই বিলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কার্যত বিল আটকে দিয়েছেন রাজ্যপাল। আর তা নিয়েই সরকার ও শাসক দলের সঙ্গে রাজ্যপালের দ্বৈরথ আজ চরমে। কিন্তু, বিল নিয়ে এই প্রশ্ন তুললেন কেন রাজ্যপাল? এটা কি শুধুই রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত বজায় রাখার চেষ্টা? না কি আরও গূঢ় কোন ইঙ্গিত?

আজ দিনের শুরুতেই এস সি এস টি বিল নিয়ে রাজ্যপালকে বিঁধে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছিল তৃণমূল। আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে বিরোধীদের ভূমিকায় নেমে শাসক দলের এই প্রতিবাদেই ছিল অন্য সুর। একসময় বিধানসভার সেই রেশ পৌঁছয় দিল্লিতেও। আর, শাসকের এই রনং দেহি মেজাজ দেখেই বোধহয় পাল্টা আসরে নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন রাজ্যপাল। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রীতিমত আস্তিন গুটিয়ে নেমে পড়ল রাজভবন। এরই মধ্যে রাজ্যপাল তথা আচার্যের ডানা ছাঁটার খবরও তার কাছে পৌঁছল ৷ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এরপর আর দেরি করতে চাননি ধনকড়। তড়িঘড়ি বিধানসভাকে কার্যত " শো কজ " করে চিঠি পাঠালেন রাজ্যপাল। তরজা যখন জমে উঠল বলে ভেবে প্রহর গুনছে রাজভবন, তখনি নাটকের শেষ অঙ্ক। পড়ল যবনিকা। বিধানসভার অধিবেশন শেষ ঘোষনা করে নিজের ঘরে এলেন স্পিকার। আর, তখনই হাতে পেলেন রাজ্যপালের ফরমান। কিন্তু, বৃথাই..। কারণ, ততক্ষণে বিজনেস না থাকায়, এ বছরের মত বিধানসভা মুলতুবি ঘোষণা করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ্য বিমান বন্দোপাধ্যায়। ফলে, রাজ্যভবনের চিঠি এল, কিন্তু পেশ হল না, পড়া হল না বিধানসভায়। যা চেয়েছিলেন ধনকড়। চলতি বিধানসভায় নাম না করে মোদিকে কটাক্ষ করে হিন্দি গানের এক কলি গেয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত। আজ রাজ্যপালের চিঠি আসার খবর পেয়ে শাসক দলের এক বিধায়ক গেয়ে উঠলেন আরে এতো ' চিঠঠি আয়ি হ্যায়, আয়ি হ্যায়...' মুচকি হাসলেন পার্থ।

First published: 10:51:00 PM Dec 10, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर