কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

উত্তরের জন্য দারুণ খবর, বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের জন্যে জমি দিল রাজ্য   

উত্তরের জন্য দারুণ খবর, বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের জন্যে জমি দিল রাজ্য   

জমি পাওয়ার ২ বছরের মধ্যে নতুন বিমানবন্দরের পরিকাঠামো তৈরি হয়ে যাবে বলে বাগডোগরা বিমানবন্দর সূত্রের খবর।

  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#বাগডোগরা: উত্তরের মানুষদের জন্যে সুখবর। বাগডোগরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্যে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হল জমি। বহুদিন ধরেই এই জমির চাহিদা ছিল কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের তরফ থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরেই সেই জমি হাতে তুলে দেওয়া হল বিমানবন্দর অধিকর্তার হাতে। সব ঠিক থাকলে করোনার প্রকোপের মধ্যেই  বাগডোগরা বিমানবন্দর কাজ শুরু হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভায় বাগডোগরা বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য ১০৪ একর জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য সরকার।

রাজ্য সরকার সূত্রে খবর, বিমানবন্দরের সামনের অংশে থাকা চা বাগানের জমির লিজ তুলে নিয়ে সরকারের মাধ্যমে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়াকে (এএআই) দেওয়ার নথিপত্র তৈরি শুরু হয়ে গিয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর জমি হস্তান্তর বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় এক দফা আলোচনা হয়েছে। রাজ্য জমি দেওয়াই শুরু হয়ে যাবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাগডোগরার নতুন বিমানবন্দরের কাজ। প্রস্তাবিত নতুন পরিকাঠামো তৈরির পরে বিমানবন্দরের নাম ভাবা হচ্ছে- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ ছাড়াও আরও কয়েকটি নামের প্রস্তাব এসেছে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের কাছে। রাজ্যের তরফে সেগুলি এএআই-কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিমান মন্ত্রক থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এই বিষয়ে।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বাগডোগরা উত্তরবঙ্গের একমাত্র সচল এবং বাণিজ্যিক বিমানবন্দর। সম্প্রতি দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দরের তালিকায় ১৭ নম্বরে বাগডোগরার নাম এসেছে। ২০১৪-১৫ সালে বাগডোগরা বছরে ১০ লক্ষ যাত্রীর রেকর্ড পার করে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, "বাগডোগরা বিমানবন্দর আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রসারণ হলে শুধু শিলিগুড়ি নয়, সুবিধা হবে সিকিম এবং ভুটানের।" মুখ্যমন্ত্রী আশাবাদী বাগডোগরা বিমানবন্দরে আসবে আরও আন্তর্জাতিক বিমান। ২০১০ সালে বায়ুসেনা এবং রাজ্য সরকার এএআইকে ২৩ একরের মতো জমি দেয়। তাতে অত্যাধুনিক ক্যাট-২ প্রযুক্তির ইন্সট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম বা আইএলএস বসানো হয়। খারাপ আবহাওয়ায় এবং রাতের বিমান চলাচলের সমস্যা মিটতেই বায়ুসেনাও সন্ধ্যা ৬টার পর বিমান ওঠানামার অনুমতি দেয়।

বাগডোগরা একটি সামরিক বিমানবন্দর। এখানে এটিসি বায়ুসেনাই নিয়ন্ত্রণ করে। তারপর থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে বাড়তে বছরে ২৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। বিমানের সংখ্যা এবং গন্তব্যও বাড়তে থাকে। নানা অভিযোগও উঠতে থাকে বিমানবন্দরে যাত্রী পরিষেবা নিয়ে। শেষে এএআই রাজ্যের কাছে  জমি চায়। কিন্তু সরকারের হাতে জমি না থাকায় তা কিনতে হবে বলে রাজ্য জানিয়ে দেয়। এএআই চেয়ারম্যান নিজে এই বিষয়ে এসে রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। শেষপর্যন্ত এএআই বোর্ড জমির জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। যা দেশে প্রথম। গত দু’বছরে কয়েকটি বেসরকারি মালিকানাধীন জমির সমস্যা মেটানো হয়েছে। এরপরে একটি চা বাগানের জমি এএআই-র পছন্দ হয়। বাগানের জমি হওয়ায় লিজ ফেরত নিয়ে তা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাগানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে গত এক বছর ধরে প্রশাসনিক স্তরে কাজ চলছিল। টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা এখন ৭০০। তাই পুরনো টার্মিনাল যতটা সম্ভব বাড়ানো হবে। কিন্তু নতুন টার্মিনাল ভবন না হলে কোনওদিনই সমস্যা মিটবে না। জমি পাওয়ার ২ বছরের মধ্যে নতুন বিমানবন্দরের পরিকাঠামো তৈরি হয়ে যাবে বলে বাগডোগরা বিমানবন্দর সূত্রের খবর।

Published by: Simli Raha
First published: September 30, 2020, 2:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर