corona virus btn
corona virus btn
Loading

ইয়েস ব্যাঙ্ক নিয়ে ফাঁপরে রাজ্য খাদ্য দফতর  

ইয়েস ব্যাঙ্ক নিয়ে ফাঁপরে রাজ্য খাদ্য দফতর  

আজ থেকে চাষীদের জন্য নয়া ব্যবস্থা

  • Share this:

#কলকাতা: ইয়েস ব্যাঙ্ক নিয়ে চিন্তিত রাজ্য খাদ্য দফতর। ধান কেনার জন্য রাজ্যের ৪২ কোটি টাকা মজুত আছে এই ব্যাঙ্ক। চাষীদের সমস্যা মেটাতে আজ থেকে তাদের দেওয়া হবে পি এন বি'র চেক। রাজ্যে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়ায় ইয়েস ব্যাঙ্ক কাণ্ডের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ধান কেনার জন্য সরকারের ৪২ কোটি টাকারও বেশি ইয়েস ব্যাঙ্কে মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমে পড়েছে খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। শনিবার সকাল থেকে দফায় দফায় এনিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। আপাতত ঠিক হয়েছে, যে চাষিরা ধান বিক্রি করে ইয়েস ব্যাঙ্কের চেক পেয়ে তা ভাঙাতে পারেননি, তা আজ থেকেই ফেরত নিয়ে অন্য ব্যাঙ্কের চেক দেওয়া হবে। সেই কাজের জন্য খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা পি এন বি ব্যাঙ্কের চেক নিয়ে বিভিন্ন জেলায় রওনা হতে শুরু করে দিয়েছেন। নতুন করে এখনই প্রায় ৫০০ চেক ইস্যু করতে হবে দফতরকে। বদল করতে হবে প্রায় ৪৫০০ চেক। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়া কোনও অবস্থাতেই বন্ধ করা যাবে না, তার জন্য দ্রুতই সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে খাদ্য দফতরের অধীনস্থ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ নিগম (ইসিএসসি) শুক্রবার থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ধান সংগ্রহের শিবির আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে। যদিও তারা জানাচ্ছেন আগামী বুধবার থেকে সমস্ত ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে। খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমান, মেদিনীপুর, আলিপুরদুয়ার সহ সব জেলায় ধান কেনার স্থায়ী কেন্দ্রগুলি যাতে স্বাভাবিক নিয়মেই চলে তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চারটি জেলায় ধান কেনার স্থায়ী কেন্দ্র বা সিপিসি'তে চাষিদের ইয়েস ব্যাঙ্কের চেক দেওয়া হয়। যে জেলাগুলিতে ধান কেনার শিবিরে ইয়েস ব্যাঙ্কের চেক দেওয়া হয়, সেখানেও বিকল্প ব্যবস্থা করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছে সমবায় দপ্তরের সংস্থা বেনফেড। সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত চাষিরা এখনও ইয়েস ব্যাঙ্কের চেক পেয়েও তা ভাঙাতে পারেননি, তাঁদের কাছ থেকে তা ফেরত নিয়ে অন্য ব্যাঙ্কের চেক দেওয়া হবে।

চাষিদের ধান বিক্রির টাকা মেটানোর উপর এমন সমস্যা তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, অন্তত এক সপ্তাহ আগে এই সিদ্ধান্ত জানানো উচিত ছিল। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই বিষয়টিতে অন্তত ছাড় দেওয়া উচিত ছিল। এই বিষয়টি অর্থদপ্তরের মাধ্যমে আলোচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ধান কেনার যে টাকা ইয়েস ব্যাঙ্কের কাছে মজুত রয়েছে, তা অন্য কোনও ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে দ্রুত স্থানান্তর করা যায় কিনা সেই চেষ্টা চলছে। এটা করা যাবে বলে আশা করছেন খাদ্যমন্ত্রী। ইয়েস ব্যাঙ্ক ওই টাকা পাঠাতে রাজি বলে খাদ্য দফতর সূত্রে খবর। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ওটা সরকারি টাকা। তাই স্থানান্তর করা সম্ভব। ধান কেনার টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্কের চেকের মাধ্যমে মেটানো হয়। ইয়েস ব্যাঙ্ক ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে চাষিদের ধানের দাম মেটানো হয়। দাম মেটানোর জন্য ওই ব্যাঙ্কগুলির বিশেষ অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময় দফায় দফায় টাকা পাঠায় খাদ্য দফতর ও বিভিন্ন সমবায় সংস্থাগুলি। খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, এবার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা চাষিদের ধানের দাম বাবদ মেটানো হয়েছে ইয়েস ব্যাঙ্কের চেকের মাধ্যমেই। অপর সমবায় সংস্থা বেনফেডের প্রায় ১০ কোটি টাকা ইয়েস ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে। এই ব্যাঙ্ক ধান কেনার প্রক্রিয়ায় গত দু'বছর ধরে দারুণ কাজ করেছে বলে খাদ্য দফতর জানাচ্ছে। এমনকি চেক সরবরাহ তারাই আগে করে। এতে কাজের সুবিধা হয়েছে রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন সরাসরি চাষিদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। তখন ইয়েস ব্যাঙ্ক খুব তাড়াতাড়ি লক্ষাধিক ছাপানো চেক দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। সেই সংস্থার এমন পরিণতিতে বেশ আশ্চর্য হয়েছে খাদ্য দফতর। তবে এর প্রভাব ধান সংগ্রহে পড়বে না বলেই জানাচ্ছে রাজ্য খাদ্য দফতর। তবে তাদের মজুত টাকা কীভাবে দ্রুত ট্রান্সফার করা যায় সেটাই এখন মাথাব্যথা রাজ্যের কাছে।

ABIR GHOSHAL

First published: March 7, 2020, 12:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर