সাধ্যের বাইরে সাধের পোস্ত, রাজ্যে চাইছে পোস্ত চাষের অনুমতি

সাধ্যের বাইরে সাধের পোস্ত, রাজ্যে চাইছে পোস্ত চাষের অনুমতি
photo: posto

বাঙালি বলছে, এরাজ্যেই পোস্ত চাষের অনুমতি দেওয়া হোক।

  • Share this:

স্বাদের পোস্ত। পোস্ত তো সাধেরও। কিন্তু পোস্ত কি সাধ্যের? বাঙালির হেঁশেল থেকে এখন এই প্রশ্নই শোনা যাচ্ছে। যে পোস্তকে আগে সবাই বলত গরিবের খাবার, এখন তার দামে আগুন। এদিকে রাজ্যে পোস্ত চাষেও নিষেধাজ্ঞা। তাহলে কি আলু পোস্ত, ঝিঙে পোস্ত আর পোস্তর বড়া ছাড়াই পেট ভরাতে হবে? বাঙালি বলছে, এরাজ্যেই পোস্ত চাষের অনুমতি দেওয়া হোক।

সবুজ চাষের জমি। তাতে মাথা দোলাচ্ছে সাদা সাদা ফুল। কয়েক বিঘা জমিজুড়ে চাষ হচ্ছে পোস্ত। সেই পোস্ত, যা না খেলে পস্তাতে হয়। তবে পোস্ত চাষের এই ছবি এখন খুব একটা দেখা যায় না। কারণ, রাজ্যে পোস্ত চাষ বেআইনি।

- কাঁচা অবস্থায় পোস্ত গাছের ফল থেকে রস বের করে নেওয়ার আশঙ্কা থাকে

- সেই রস থেকে আফিম ও মরফিন তৈরি হত

- পশ্চিমবঙ্গ থেকে আফিম ও মরফিন লক্ষাধিক টাকায় চোরাচালান হত

তাই রাজ্যে আমদানি করতে হয় পোস্ত। আমদানি ঘাটতিতে পোস্ত হয়েছে মহার্ঘ। রাজ্যের বিভিন্ন খুচরো বাজারে কেজি প্রতি বারোশো চোদ্দশো টাকা দরে পোস্ত বিক্রি হচ্ছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার অনেকে তাই পোস্তর বিকল্প হিসেবে খাচ্ছেন খোসা ছাড়ানো তিল। স্বাদে খানিকটা পোস্তর মত।

- পোস্তর দাম বেশি হওয়ায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় অনেকে খাচ্ছেন খোসা ছাড়ানো তিল বা খোসলা

- খোসলার স্বাদ অনেকটা পোস্তর মত

- পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, কাটোয়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় পোস্ত চাষ হয়

যদিও এসবই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে। আবগারি দফতর খবর পেলেই পোস্ত চাষ নষ্ট করে দেয়। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশে পোস্ত চাষ বৈধ। এরাজ্যে সরকারি নজরদারিতে পোস্ত চাষের অনুমতি চান কৃষকরা।

আইনজীবীরা বলছেন,

- পোস্তচাষের জন্য সেন্ট্রাল ব্যুরো অব নারকোটিকসের অনুমতি প্রয়োজন

- প্রয়োজন আবগারি দফতরের ছাড়পত্রও

- পশ্চিমবঙ্গও পোস্ত চাষের অনুমতি পেতেই পারে

প্রশাসনও বলছে, সরকারি নজরদারিতে অনুমতি নিয়ে পোস্ত চাষ হতে পারে।

আমদানি হওয়া পোস্ত বেআইনিভাবে মজুত রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফা লুটছে না তো? সেই কারণেই কি দাম বৃদ্ধি? তাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে কৃষকদের পক্ষে কেন্দ্রীয় ছাড়পত্র জোগাড় করা কঠিন। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়ে অনুমতির ব্যবস্থা করুক। সেক্ষেত্রে সরকারি নজরদারিতে মরফিন বিক্রি করা হোক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে৷ এতে একদিকে পোস্ত বিক্রি করে লাভবান হবেন রাজ্যের কৃষকরা। আরেকদিকে সাধ্যের মধ্যেই থাকবে আমবাঙালির সাধের পোস্তও।

First published: 04:41:20 PM Aug 21, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर