নিহত এসআই-এর পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার, অমিতাভ মালিকের স্ত্রীয়ের সঙ্গে বাবাকেও চাকরি

এসআই অমিতাভ মালিক

নিহত এসআই-এর পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার, অমিতাভ মালিকের স্ত্রীয়ের সঙ্গে বাবাকেও চাকরি

  • Share this:

     #কলকাতা: ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়েও পুলিশে চাকরি। মোটা বেতনের ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে নেশার টানেই বেছে নিয়েছিলেন পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন। অশান্ত পাহাড়ে গুরুঙবাহিনীর একটা গুলিতেই সব শেষ ৷ মেধাবী ছাত্র, সাহসী পুলিশ অফিসারের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই ৷ নিহত অমিতাভ মালিকের শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়াল রাজ্য সরকার ৷

    গুরুঙবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে নিহত এসআই অমিতাভ মালিকের স্ত্রীয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাবাকেও চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার ৷ ফোন করে অমিতাভর পরিবারকে সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।

    নিহত এসআই-এর বাবা সৌমেন মালিককে মধ্যমগ্রাম বা বারাসতের কোনও স্কুলে চাকরি দেবে শিক্ষা দফতর। পুলিশে চাকরি দেওয়া হবে অমিতাভর স্ত্রীকে । মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানালেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

    এছাড়া নিহত এসআই-এর পরিবারকে আর্থিক সাহায্যও দেবে রাজ্য সরকার ৷ মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে ৷

    দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে দার্জিলিঙে পোস্টিং। গুরুঙবাহিনীকে আটকাতে মরণপণ লড়াই। আজ সাধের সেই দার্জিলিঙেই হল চরমতম স্বপ্নভঙ্গ। না। এখনও বিশ্বাসই হচ্ছে না অমিতাভ মালিকের পরিবারের। গুরুঙের সন্ধানে অভিযানে যেতেই পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি। মাথায় গুলি লেগে লুটিয়ে পড়েন বাহিনীর সামনে থাকা এস আই অমিতাভ মালিক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। শোকে কথা হারিয়েছে মধ্যমগ্রামের শরৎকানন।

    শোকের মধ্যেও এখন একটাই কথা বাবা-মায়ের। গুরুং বাহিনীকে থামাতে দার্জিলিঙে এক অন্য লড়াই চালাচ্ছিলেন ছেলে। দু-দুবার পাতলেবাসে গুরুঙের ডেরায় অভিযানে অংশ নেন ডাকাবুকো এসআই অমিতাভ মালিক। গোর্খাদের মিছিল থেকে ছোঁড়া ইটে আহতও হন। এবার একেবারে সব শেষ। গুরুঙের খোঁজে সিরুবাড়িতে গিয়ে শুক্রবার গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এসআইয়ের। শোক স্তব্ধ মধ্যমগ্রামের বাদুরের শরৎ কানন।

    এমনটা হওয়ার যদিও কথা ছিল না। ছোট থেকেই তুখোর মেধাবী অমিতাভ । ঈর্ষণীয় কেরিয়ার গ্রাফ। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়েও চাকরি নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে। হেলায় ছেড়ে দিয়েছেন আকর্ষণীয় আরও অনেক চাকরির অফার। জীবনে শুধু একটাই লক্ষ্য ছিল। দেশের জন্য কিছু করা।

    অমিতাভর কেরিয়ার গ্রাফ-----

    ----মধ্যমগ্রাম হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন অমিতাভ ----বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে পাশ করেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ---মুম্বই আইআইটিতে পড়ার সুযোগ এলেও অর্থের অভাবে সেখানে যেতে পারেননি ---ন্যাশনাল টিবেটান বর্ডার ফোর্সেও সুযোগ পান অমিতাভ মালিক ---পরিবারের আপত্তিতে নিতে পারেননি সেই চাকরি ---চাকরি পান ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কেও --২০১৪ সালের জুনে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চাকরিতে --ব্যারাকপুরে ছ’মাস প্রশিক্ষণের পর প্রথম পোস্টিং হয় দার্জিলিংয়ে

    দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে সকলের আদরের শানু। শোকস্তব্ধ প্রতিবেশীদের গলায় ঝরে পড়েছে গর্ব। একই সুর পুলিশ, প্রশাসনের গলাতেও।

    পুলিশে চাকরি পেয়ে নিজের খরচে নতুন করে সারিয়ে তুলেছিলেন ভাঙাচোরা বাড়ি। মাত্র ছমাস আগে বিয়ে হয়েছিল। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল পরিবার। অগষ্টে মাত্র একদিনের জন্য বাড়ি এসেছিল ছেলে। কথা দিয়ে গিয়েছিল গুরুঙদের আটকে খুব তাড়াতাড়ি ফিরবে ঘরে। ছেলে ঘরে ফিরল, কফিনবন্দি হয়ে নিথর দেহে ।

    First published: