কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা আবহে জীবিকা বদল, মঞ্চ শিল্পী থেকে হয়ে গেছেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, অনভ‍্যস্থ পেশায় হাঁ করে রয়েছে বিপদ

করোনা আবহে জীবিকা বদল, মঞ্চ শিল্পী থেকে হয়ে গেছেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, অনভ‍্যস্থ পেশায় হাঁ করে রয়েছে বিপদ

করোনা আবহে থমকে পেশা। পরিবার চালাতে ধার-দেনায় ডুব। জীবিকা বদলে নতুন বিপত্তি

  • Share this:

#কলকাতা: জীবন বদলেছে। বদলেছে জীবিকাও। করোনা আবহে সবেতেই নিউ নরমালের ছোঁয়া। অনেকটা যেমন বদলেছে, হারিয়েছে তার থেকেও বেশি। পুরনো পেশা থমকে গেছে মারণ ভাইরাসের লাল চোখের রাঙানিতে। কিন্তু জীবন তো থেমে নেই! তাই পেটের টানে, জীবিকা বদলে মানিয়ে নিতে হয়েছে নিউ নরমালে। বেহালার কুমার শ‍্যাম যেমন।

দু'দশকের বেশি সময় ধরে সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত। মঞ্চে উপস্থাপনার পাশে মিমিক্রি ও কমিক রিলিফে গ্রাম বাংলার চেনা নাম। কাকদ্বীপ থেকে কাঁথি কিংবা বর্ধমান থেকে রানাঘাট খোলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে দৌড়ে বেরিয়েছেন গোটা বাংলায়। মঞ্চ শেয়ার করেছেন অন্বেষা দত্ত, শাকিল আনসারিদের মত চেনা শিল্পীদের সঙ্গে। কুমার শ‍্যামের নিজের কথায়,"সে এক দিন ছিল বটে। মাসে পনেরো, কুড়িটা শ‍্যো লেগেই থাকত। আজ কলকাতায়, তো কাল মেদিনীপুরে। কলকাতায় শো পিছু ইনকাম ছিল হাজার তিনেক টাকা। আর গ্রাম বাংলায় হেসে খেলে পাঁচ হাজার তো হয়েই যেত। এখন সেই সব কোথায়!"

নিউ নরমালে অনেক কিছু ফিরলেও ফেরেনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পেটের টানে, পরিবারের ভরণপোষণের তাগিদে বদলে ফেলতে হয়েছিল জীবিকা। মঞ্চের উপস্থাপক লকডাউন পিরিয়ডে হয়ে গিয়েছেন পাড়ার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। অনভ‍্যস্থ জীবিকায় বিপদ আসতে দেরি হয়নি। বিদ‍্যুতের শক খেয়ে ওপর থেকে ছিটকে পড়ে হাত ভেঙে শ‍্যাম এখন ঘরবন্দি। চিরঞ্জিত, প্রসেনজিতদের ডায়লগ বলা লোকটার মুখে এখন শব্দ ভাষা খোঁজে। চোখে জল নিয়ে শিল্পী শ্যাম ভারী গলায় বলে ওঠেন,"বাড়িতে পরিবার রয়েছে। মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ রয়েছে। কত দিন আর লোকের কাছে হাত পেতে চালাব! বাধ্য হয়ে তাই ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজে নেমে পড়ি। কিন্তু ওটা তো আমার কাজ নয়। অনভ্যস্ত হাতে বিদ্যুতের তার জুড়তে গিয়ে ইলেকট্রিক শক খেয়ে মইয়ের উপর থেকে ছিটকে পড়ি। হাত ভেঙে এখন আরও অসহায়। কী ভাবে পরিবারের পেট চালাব, জানি না।"

দুচোখে শূন্যতা। চিকচিক করে ওঠে চোখের কোণগুলো। মঞ্চে হাসির রোল তোলা কুমার শ‍্যাম এখন নির্বাক। পরিবারের খরচ চালাতে গলা অবধি ধার দেনায় ডুবে।

শিল্পী সত্তা উড়ে গেছে অভাবের জানলা দিয়ে। তবু স্বপ্ন দেখে মন। একদিন আবার সব স্বাভাবিক হবে। আবারও আলোয় ভাসতে থাকা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নায়কদের ডায়ালগ বলবেন।

PARADIP GHOSH

Published by: Ananya Chakraborty
First published: September 28, 2020, 9:20 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर