• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • বেড অ-মিল, এসএসকেএম-এ ৭ দিন অপেক্ষার পর বিনা চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

বেড অ-মিল, এসএসকেএম-এ ৭ দিন অপেক্ষার পর বিনা চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

মার্চ মাসে কাব্য নামে ওই শিশুটি অস্থি মজ্জা দান করার মতো প্রয়োজনীয় ওজনে পৌঁছয়৷ তার পরেই তার বোন ম্যারো অভিজিতের শরীরে সফল ভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়৷ আপাতত অভিজিতের বিপদ কেটে গিয়েছে৷ ভবিষ্যতে তাকে আর রক্তও দিতে হবে না৷ Representative Image

মার্চ মাসে কাব্য নামে ওই শিশুটি অস্থি মজ্জা দান করার মতো প্রয়োজনীয় ওজনে পৌঁছয়৷ তার পরেই তার বোন ম্যারো অভিজিতের শরীরে সফল ভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়৷ আপাতত অভিজিতের বিপদ কেটে গিয়েছে৷ ভবিষ্যতে তাকে আর রক্তও দিতে হবে না৷ Representative Image

সোমবার সুমিত ফিরে গেল বর্ধমানের কালনার নিভূজিবাজারে। নিজের বাড়িতে। বাবা মায়ের কোলে চেপে। সাদা কাপড়ে শরীর ঢেকে...

  • Share this:

#কলকাতা : সুস্থ হয়ে আবারও ফিরে যাবে নিজের গ্রামে। আবারও দাপিয়ে দস‍্যিপনা করবে বাড়ির উঠোনে। এমন আশায় ভর করেই ১৪ মাসের সুমিতকে নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন ওর বাবা-মা। সোমবার সুমিত ফিরে গেল বর্ধমানের কালনার নিভূজিবাজারে। নিজের বাড়িতে। বাবা মায়ের কোলে চেপে। সাদা কাপড়ে শরীর ঢেকে।

সোমবার কলকাতা সাক্ষী থাকল এমনই এক অমানবিক, মর্মান্তিক ঘটনার। জন্ম থেকেই পিঠের নীচের দিকে টিউমার। চিকিৎসা করাতে একরত্তি সুমিতকে নিয়ে তাই দৌড়ে বেরিয়েছেন সুমিতের বাবা-মা, পরিবার-পরিজনরা। প্রথমে কালনার অম্বিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। সেখান থেকে কলকাতার নীলরতন সরকারে রেফার। এনআরএস থেকে রেফার হয়ে এসএসকেএমে।

রাজ্যের প্রথম সারির সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সাত দিন ধরে চরকি পাক খেয়েছেন সুমিতের বাবা-মা। প্রথমে আউটডোরে দেখিয়েছেন। সেখানকার চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। তারপরেও কেটে গিয়েছিল বেশ কয়েকটা দিন। এসএসকেএম-এর দরজায় দরজায় ঘুরে শুনতে হয়েছে নো-বেড। শয‍্যা ফাঁকা নেই, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই যুক্তিতে চিকিৎসা থমকে গিয়েছে ১৪ মাসের ফুটফুটে শিশুর।

বিনা চিকিৎসায় বাড়তে থাকে  টিউমারের ভয়াবহতা। দিন কয়েক আগে ফেটে যায় টিউমার। বাড়তে থাকে ছোট্ট শিশুর অসুস্থতা। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে ১৪ মাসের সুমিত। সাত দিন ধরে এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে খোলা আকাশের নিচে, গাছের তলায় সুমিতকে কোলে করে শহরের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একটা বেড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন বাবা-মা। অপেক্ষাই সার হয় কালনার দরিদ্র, হতভাগ্য পরিবারের। সোমবার সব শেষ। যন্ত্রণায় কাঁপতে কাঁপতে একটা সময়ে নিথর হয়ে যায় ছোট্ট শরীরটা। কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না সুমিতের মা। শোকস্তব্ধ বাবা দৌড়ে বেড়াচ্ছিলেন হাসপাতালের এ-মাথা থেকে ও-মাথা। ছেলের ডেথ সার্টিফিকেট জোগাড় করার জন্য। কাকা বীরেন সর্দার বলছিলেন, " ৭ দিন ধরে অপেক্ষা করেছি গাছতলায়। দরজায় দরজায় ঘুরেছি হাসপাতালে। একটা বেড পাওয়া গেল না। চিকিৎসা ছাড়াই চোখের সামনে চলে গেল বাচ্চাটা।"

নিউজ ১৮ বাংলা এই মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরার পর প্রশাসনের নজরে আসে তা। কিন্তু তখন যে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। গ্রাম থেকে শহরে ছুটে এসেও কোলের শিশুকে বাঁচাতে পারল না কালনার সর্দার দম্পতি। কে নেবে এই দায়!

PARADIP GHOSH

Published by:Rukmini Mazumder
First published: