• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • EXCLUSIVE: ভোটের আগেই ৫০০ শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি SSC, জারি শিক্ষক নিয়োগের নয়া বিধি, জানুন বিস্তারিত

EXCLUSIVE: ভোটের আগেই ৫০০ শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি SSC, জারি শিক্ষক নিয়োগের নয়া বিধি, জানুন বিস্তারিত

স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিস

স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিস

রাজ্যের তরফে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্র যে তৈরি হতে চলেছে সেই বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী।

  • Share this:

#কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগেই আদিবাসীদের মন জয়ের চেষ্টা রাজ্যের। সোমবারই স্কুল সার্ভিস কমিশন সাঁওতালি মাধ্যমে স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করল। এই প্রথম সাঁওতালি মাধ্যমে স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার।

স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই অল চিকি ভাষার প্রত্যেকটি ক্লাসের প্রত্যেকটি বিষয়ের বই রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি বলেছিলেন, সাঁওতালি মাধ্যমে স্কুলগুলিতে দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগ হবে। বাঁকুড়া,পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম,বীরভূমের বেশ কিছু অংশে সাঁওতালি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০০ টির মত শূন্য পদে রয়েছে সাঁওতালি মাধ্যমে স্কুলগুলিতে। উচ্চ প্রাথমিক,নবম-দশম, একাদশ- দ্বাদশ মিলিয়ে এই সংখ্যক শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ হবে বলেই স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর। এক্ষেত্রে সাঁওতালি মাধ্যমে স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সোমবারই নয়া শিক্ষক নিয়োগের বিধিও জারি করেছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর।

শিক্ষক নিয়োগের নিয়মে অনেকটাই সরলীকরণ করা হবে বলে এবার একাধিকবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যত দ্রুত শেষ করা যায় তার জন্য সরকার সবরকম পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও একাধিকবার দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের তরফে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্র যে তৈরি হতে চলেছে সেই বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী।

সোমবার সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষক নিয়োগের জন্য রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর নয়া বিধি জারি করেছে। নয়া বিধিতে একাধিক বদল আনা হয়েছে। বদল গুলি হল:

১) শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে থাকছে না কোন ইন্টারভিউ। ভেরিফিকেশনের মতো সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়াও বাদ রাখার সিদ্ধান্ত ৷ ভেরিফিকেশন পদ্ধতির কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযথা সময় ব্যয়ও কমবে বলে মত কমিশনের ৷

২) এবার থেকে অ্যাকাডেমিক স্কোরের কোনও জায়গা থাকছে না। কারণ এই স্কোরের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল ৷ তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হল অ্যাকাডেমিক স্কোরের জায়গা ৷

৩) টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেট এবং প্রিলিমিনারি টেস্ট এই দুটির ওপরই নির্ভর করেই হবে শিক্ষক নিয়োগ। তার সঙ্গে হবে ইংরেজি এবং যে মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষকতা করবেন সেই প্রার্থী সেই মাধ্যমের ওপর পরীক্ষা। ইংরেজি এবং সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য ১০০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। এটার গুরুত্ব থাকবে ১০০ নম্বরের এবং প্রিলিমিনারি টেস্টের গুরুত্ব থাকবে ১০০ নম্বরের। অর্থাৎ মোট ৩০০ নম্বরের নিরিখে পরীক্ষা হবে শিক্ষক নিয়োগের।

৪) যত সংখ্যক শূন্য পদ থাকবে তত সংখ্যক নামের মেধাতালিকা প্রকাশ হবে। কোন ওয়েটিং লিস্ট থাকবে না।

৫) বিধিতে বলা হয়েছে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া করবে স্কুল সার্ভিস কমিশন।

৬) তবে সবক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন এর নিয়ম মেনে।

৭) নিয়োগের নয়া বিধি অনুযায়ী চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক, উচ্চপ্রাথমিক, মাধ্যমিক বিভাগের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে না ৷ একবার আবেদন করলেই শূন্যপদের সংখ্যা অনুযায়ী নিয়োগ করা হবে ৷

সম্প্রতি উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। নতুন করে ভেরিফিকেশন, ইন্টারভিউ করতে এসএসসিতে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু করছে এসএসসি। তার মধ্যেই সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কার্যত ভাবমূর্তি রাখার চেষ্টা করছে স্কুল সার্ভিস কমিশন বলে মত রাজনৈতিক মহলের। তবে সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া মার্চের মধ্যেই শেষ করতে চাইছে SSC।

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by:Elina Datta
First published: