১৯-র নির্বাচনে ১৫০ পেরোবে না বিজেপি, মঞ্চে অঙ্ক কষে বুঝিয়ে দিলেন মমতা

News 18 Bangla Creative

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এখন কোমর বেঁধে নামছে বিরোধীরা ! গতকাল অনাস্থা প্রস্তাবে বিরোধী দলগুলির সামনে রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল বিজেপি ৷

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এখন কোমর বেঁধে নামছে বিরোধীরা ! গতকাল অনাস্থা প্রস্তাবে বিরোধী দলগুলির সামনে রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল বিজেপি ৷ যদিও লোকসভায় টিডিপির আনা সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবে বিজেপির কাছে হেরে যায় বিরোধীরা ৷ তবে, ১৯-র নির্বাচনে বিজেপি ধরাশায়ী হবে ৷ ধর্মতলার মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় অঙ্ক কষে একথা বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ একইসঙ্গে ফেডারেল ফ্রন্টের কাণ্ডারি যে তিনিই হতে চলেছেন সেটিও স্পষ্ট ৷ তবে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হবে কি না সেটি সময়ের অপেক্ষা ৷ কিন্তু মোদি সরকারকে হঠাতে তিনি যে আঞ্চলিক দলগুলির মুখ হতে চলেছেন, তা নিশ্চিত ৷ পাশাপাশি জোট রাজনীতির মূল মঞ্চ হতে চলেছে ১৯ জানুয়ারির জনসভা ৷

    মমতা বলেন,

    বিজেপি শিবিরে ভাঙন ধরেছে ৷ অনাস্থায় বিজেপিকে ভোট দেয়নি শরিকরা ৷ আস্থা ভোটে ভোট পেয়েছে কার থেকে? ভোট দিয়েছে এআইএডিএমকে ৷ জয়ললিতাজি থাকলে ভোট পেত না বিজেপি ৷ আগামীদিনে তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিন ভোট পাবে ৷ এআইএডিএমকে ভোট পাবে না ৷’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই আগামী দিনের জাতীয় রাজনৈতিক লাইনটাও ঠিক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    একইসঙ্গে মমতা বলেন,

    ‘উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী-মুলায়ম এক হবে ৷ মধ্যপ্রদেশেও ভোট পাবে না বিজেপি ৷ রাজস্থান,বিহারেও ভোট পাবে না বিজেপি ৷ ওড়িশা,পঞ্জাব,বাংলাতেও বিজেপি হারবে ৷ তাহলে কোন রাজ্যে ক্ষমতা থাকবে বিজেপির হাতে ? কেন্দ্রে সংখ্যা থাকবে না বিজেপির ৷’

    একইসঙ্গে মমতা বলেন,

    গতকাল আস্থা ভোটাভুটি ছিল লোকসভার ভিতরে ৷ কিন্তু বাইরের পরীক্ষাটা একেবারেই আলাদা ৷ সেখানে কোনওভাবেই কেন্দ্রের ক্ষমতা বিজেপির হাতে থাকবে না ৷ এমনটাই দাবি তাঁর ৷

    তবে, তৃণমূল সুপ্রিমো কেন এতটা আত্মবিশ্বাসী ৷ বেশ কয়েকটি রাজ্যের উপর চোখ রাখলেই সেই বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট হয়ে যাবে ৷

    পশ্চিম ভারতের গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিক্কর ৷ গোয়ার ৪০টি আসনের বিধানসভা ভোটে বিজেপি পায় ১৩টি আসন৷ অন্যদিকে কংগ্রেস ১৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েও অন্য দলের সমর্থন জুটিয়ে সময়মতো সরকার গঠনের দাবি পেশ করতে না পারায়, দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিজেপি সেই সুযোগকে কাজে লাগায় ৷ অন্য আঞ্চলিক দলের সমর্থনে সরকার গঠনের দাবি পেশ করে বিজেপি ৷ মোট ২২ জন বিধায়ককে নিয়ে বিজেপি জোট সরকার গঠন করে ৷ তবে, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি যথেষ্ট টালমাটাল হতেই পারে ৷

    রাজস্থানে পুরসভা ভোটে ৷ সেখানে বিজেপি জোরদার ধাক্কা খেয়েছে ৷ বসুন্ধরা রাজের উপর আস্থা হারিয়েছে সাধারণ মানুষ ৷ তাই ২০১৯ এ কতটা ঘুরে দেখাতে পারবে সেটা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে ৷

    দক্ষিণ ভারতে রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলির উপর ভরসা করে সাধারণ মানুষ ৷ যদি তামিলনাড়ুর উপর নজর রাখা যায় ৷ এএআইডিএমকে এনডিএ-র অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপিকে আস্থা ভোটেও সমর্থন করেছে ৷ কিন্তু ১৯-র নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মনে আদৌ কি ভরসা যোগাতে পারবে ? সেই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে ৷ কারণ জয়ললিতার উপর সাধারণ মানুষের ভালবাসা, আস্থা, বিশ্বাস অগাধ ছিল ৷ যার জেরে ২০১৪ র নির্বাচনে সহজেই জয় পেয়েছে এএআইডিএমকে ৷ কিন্তু আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে স্তালিনের ডিএমকে দলের দিকেই বেশ কিছুটা পাল্লা ভারি ৷

    অন্ধপ্রদেশ ৷ অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যকে বিশেষ সুবিধা প্রদানকারী রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করার দাবি প্রত্যাখ্যানের পর গত মার্চ মাসে ভারতের এনডিএ জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল টিডিপি । গত ৮ মার্চ মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন দলের দুই সাংসদ অশোক গণপতি রাজু ও ওয়াই.এস.চৌধুরী । চন্দ্রবাবু নাইডু বিজেপির বিরুদ্ধে অনশনে বসেন ৷ অতএব অন্ধ্রপ্রদেশেও যে বিজেপির হাতে ক্ষমতা নেই তা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকেই স্পষ্ট ৷

    অন্যদিকে রয়েছে গুজরাত ৷ নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী পদে আসার পরই নিজের রাজ্যের প্রতি অবহেলা ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে ৷ প্রসঙ্গত, ন্যানো নিয়েও রাজ্যের মানুষদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ৷ যার জেরে সাধারণ মানুষের মনেও আস্থা হারিয়েছেন মোদি ৷ তাই আপাতত কোনওভাবেই গুজরাতেও বিজেপি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না ৷ এমনটাই মত রাজনীতিবিদদের ৷

    এছাড়াও রয়েছে উত্তরপ্রদেশ ৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুলায়ম-মায়াবতী জোটের সামনে ধোপে টিকবে না বিজেপি ৷ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনের পর সেটিও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ৷ বিহারেও সমস্ত আসনই যে লালুর হস্তগত হতে চলেছে ৷ সেই বিষয়টিও আজ নিশ্চিত করে দিলেন মমতা ৷ মমতার কথায়, বিজেপিকে বিহারে আটকাবে লালু ৷ ওডিশায় আটকাবে নবীন পট্টনায়ক ৷’ এছাড়াও মহারাষ্ট্রে বিজেপি শিবসেনা সম্পর্ক নষ্ট হতে বসেছে ৷ যার জেরে ২০১৯সালের কুফল ভুগতে হতে পারে বিজেপিকেই ৷ এমন একটা ইঙ্গিত মিলছে ৷

    অন্যদিকে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর ৷ সম্প্রতি পিডিপি-র সঙ্গে জোট ভেঙেছে ৷ এরপর বিজেপির প্রতিও আস্থা হারিয়েছে সাধারণ মানুষ ৷ অন্যদিকে রয়েছে বাংলা ৷ ২০১৪ তে ৩৪টি তৃণমূলের দখলে ছিল ৷ কিন্তু এবারের টার্গেট ৪২টি আসনই ৷ ২১-র মঞ্চে সেই টার্গেটও স্থির করে দিলেন মমতা ৷ তিনি বলেন, ৪২-এ ৪২ ৷ লোকসভা ভোটে ৪২ আসন চাই ৷ দেশকে পথ দেখাবে তৃণমূল ৷ আমরা চেয়ারকে কেয়ার করি না ৷ কেয়ার করি জনগণকে ৷

    তবে, কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারে চিড় ধরেছে ৷ কারণ সম্প্রতি প্রকাশ্য জনসভায় কান্নায় ভেঙে পরেন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী ৷ তিনি বলেন, ‘ভগবান বিশ্বকান্তের মত আমি নীলকন্ঠ বিষ পান করছি ৷ আপনারা খুশি আমি জানি আমাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে ৷ কিন্তু আমি অখুশি ৷ জোট সরকারে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতে আমি আর চাইনা ৷ বিশ্বনাথের মত এই জোট সরকারের বিষ গিলতে হচ্ছে আমাকে জোট সরকারের বিষ পান করছে ৷’ তবে, কুমারস্বামীর এহেন বক্তব্যের পর কংগ্রেস না জেডিএস নাকি বিজেপি সুবিধা পাবে ভোটে ৷ সেটি আপাতত বোঝা অনিশ্চিত ৷

    First published: