চার ‘সান্তা’-র জন্য লক্ষ্মী,গুঞ্জা,সরস্বতীদের মুখেও বড়দিনে উঠল কেক

চার ‘সান্তা’-র জন্য লক্ষ্মী,গুঞ্জা,সরস্বতীদের মুখেও বড়দিনে উঠল কেক

জিঙ্গল বেলের ক্যারোলের মূর্ছনা না থাকলেও নিষ্পাপ মুখের হাসি বুঝিয়ে দিচ্ছে এটা সত্যিই বড়দিন

  • Share this:

Venkateswar Lahiri

#কলকাতা: বড়দিন আলাদা করে ওদের জীবনে কোনও আনন্দ দেয় না। আর পাঁচটা দিনের মতই প্রতিমুহূর্তে লড়াই করে যেতে হয় ওদের। সান্তার কাছ থেকে উপহার পাওয়া তো দূর অস্ত, এই বিশেষ দিনে অনেকেরই জোটে না খাওয়া। আনন্দের দিনে যেখানে উৎসবের উষ্ণতা গায়ে মেখে হুল্লোড়ে সামিল সব্বাই। সেখানে উৎসবে গা ভাসানো ওদের কাছে বিলাসিতারই সমান। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের শিশুদের কথা জানতে পেরে ওই শিশুদের কাছে সান্তা ক্লজ হয়ে এসেছে চারজন প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার।বাঁকুড়া ও আসানসোলের প্রত্যন্ত এলাকার অতি গরীব ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের কাছে একবছর আগে সান্তা হয়ে এসেছে চার প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার।

আফ্রিকা ও  মধ্য প্রাচ্যের চার দেশে থাকেন সামিক সামন্ত, বাপিরাজ রায়, অর্পণ তরফদার ও সৌরভ সরকার। মোটা মাইনের চাকরি। বিদেশে কাজের পর বন্ধু বান্ধবের অভাব। সময় কাটে স্যোশাল মিডিয়াতে। সেখানেই পরিচয় আসানসোল ও কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'ফিড' র সদস্যদের সঙ্গে। সংস্থাটি বিভিন্ন পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয় প্রবাসী মানুষের। যোগাযোগ হয় বাঁকুড়ার চিচুরিয়ার জঙ্গল ঘেরা প্রত্যন্ত একটি সান্ধ্য স্কুলের সঙ্গে। অপুষ্টিতে ভোগা পড়ুয়াদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলানো হয়। পড়ুয়াদের দের অবস্থা দেখে বাকরূদ্ধ হয়ে যান প্রবাসী ইঞ্জিনিয়াররা। প্রস্তাব দেন ওদের বিকালের টিফিনের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু বাজেট অনেকটাই। যোগাযোগ করেন বন্ধু বাপিরাজের সঙ্গে। শুরু হয় রোজ বিকালের টিফিনের প্রকল্প। চলছে একবছর ধরে। অপুষ্টি কমেছে অনেকটাই। কেমন আছে ওরা ? মাঝে মাঝেই ভিডিও কল করে এ রাজ্যের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে কথা বলেন প্রবাসী ইঞ্জিনিয়াররা।

IMG-20191224-WA0004 IMG-20191224-WA0005

সামিক ও বাপিরাজের এই প্রকল্প দেখে উৎসাহিত হন তাজাকিস্তানবাসী ই়ঞ্জিনিয়ার অর্পণ তরফদার ও আফ্রিকার সিয়েরা লিওনবাসী ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ সরকার। অর্পণ ও সৌরভও কথা বলেন নতুন প্রকল্পের জন্য। ফিড সংস্থাটির মাধ্যমে আসানসোলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি শ্রমিক বস্তির শিশুদের সঙ্গে প্রবাসীদের আলাপ হয় ভিডিও কলে। তাদের সঙ্গে কথা বলে অবাক হন । প্রায় দিনই নাকি এদের খাবারই জোটেনা। দেরি না করে আটচল্লিশ জন বস্তিবাসী শিশুদের জন্য শুরু করেন রোজ সকালের টিফিনের প্রকল্প। মাঝে মধ্যেই ভিডিও কল মারফত বাচ্চাদের হাসিমুখ দেখতে পেয়ে ওদের জন্য খুব আনন্দ হয়। অর্পণবাবু বলেন,‘‘ বিদেশে অনেক দিন ধরে থাকার জন্য দেশের জন্য মন টানে। সবসময় ভালো কিছু করতে ইচ্ছা করে। পৃথিবীতে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের অর্ধেক থাকে ভারতে। তাই এই কাজ করে সত্যি আনন্দ পাচ্ছি। ভিডিও কলে সরাসরি কাজ দেখতেও পাচ্ছি। ’’স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ফিডের তরফে অমিতাভ চক্রবর্তী , চন্দ্রশেখর কুন্ডু বলেন, "স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুলোর উপর অনেক মানুষ আজ আস্থা হারিয়েছেন। বহু সংস্থার কাজে স্বচ্ছতার অভাব। অনুদান দিয়েও মানুষ জানতে পারছেন না, কোথায় তার অনুদান ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের সংগঠন আলাদা। ফিড অনুদানকারীদের সাথে উপকৃত শিশুদের সরাসরি নিয়মিত যোগাযোগ করায়। এতে স্বচ্ছতাও থাকে এবং মানুষ কাজ করে আনন্দও পায়৷ "

IMG-20191224-WA0001

বুধবার রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে বড়দিন।বিদেশে বসেও নীরবে যেভাবে লক্ষী, গুঞ্জা, অনিতা কিম্বা সুরজদের পাশে থেকে যেভাবে প্রতিদিন সান্তা হয়ে রয়েছেন চার প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বস্তিবাসী শিশুদের এক অভিভাবক সোনা বাউরির কথায়, " আজ বিদেশি বাবুদের জন্য আর কিছু হোক না হোক , আমাদের সন্তানদের পেটের জ্বালা কমেছে। উৎসবের দিনে ওদের মুখেও কেক জুটেছে"।

আরও দেখুন

First published: 06:22:15 PM Dec 25, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर