কলকাতায় এক টুকরো শান্তিনিকেতন! গল্ফগ্রিনে অন্যরকম দোল

 কলকাতায় এক টুকরো শান্তিনিকেতন! গল্ফগ্রিনে অন্যরকম দোল

সেই ২০০১ সাল থেকে গল্ফগ্রিন সেন্ট্রাল পার্কে বসন্ত উৎসব পালিত হয়ে আসছে

  • Share this:

কলকাতা: বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাসের সতর্কতায় বসন্তোৎসব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও শহর কলকাতায় সেই উৎসব যেন এক টুকরো শান্তিনিকেতনের আমেজ। তবে শহরের দোল যেন কিছুটা ব্যতিক্রমী ভাবনায় রাঙা। দোল উৎসব হলেও সেই উৎসবে রং আর আবির অমিল। বলা ভাল উৎসবের সুর যেন, ‘খেলবো হোলি রঙ দেব না তাই কখনও হয়!’ হ্যাঁ, এই গানের কথাই যেন সত্যি করেছেন অনেকে৷ গল্ফগ্রিনের বাসিন্দারা যেন অন্যরকম এক দোল খেললেন।

সেই ২০০১ সাল থেকে গল্ফগ্রিন সেন্ট্রাল পার্কে বসন্ত উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এবছরও সেন্ট্রাল কো-অর্ডিনেশন কমিটির ব্যবস্থাপনায় বসন্ত উৎসব পালিত হল এখানে। তবে এক অচেনা বসন্তোৎসবের সাক্ষী থাকলেন উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা। উৎসবে দেখা নেই লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, গোলাপী আবিরের। কোনও রঙও নেই। এককথায় রঙীন নয়, রঙহীন মুখের ছবিই দেখলো মহানগর। উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তপন দাশগুপ্তের বক্তব্য, ‘করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণেই আমরা সতর্ক। আর সে কারণেই বসন্ত উৎসব অন্যান্য বছরের মতো এবারও রঙিন হলেও রঙ কিম্বা আবিরকে বাদ দিয়েই এই উৎসবে গা ভাসালাম'।

‘খোল দ্বার খোল....বাজলো যে দোল....’। আরও নানান রবি ঠাকুরের গানের তালে নাচলেন নৃত্যশিল্পীরা। একদিকে মঞ্চে রবীন্দ্র সংগীত আর অন্যদিকে শহরের একাধিক নানা বয়সের শিল্পীরা যোগ দেন সেই গানের তালে নৃত্যানুষ্ঠানে। বসন্ত উৎসব রঙ ছাড়া তো ফিকে? যদিও একথা মানতে চাননি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদেরই একজন নৃত্যশিল্পী বিনতা চক্রবর্তী বললেন , ‘আসলে মনকে রঙিন হতে হয়। আবির কিম্বা রঙটা বিষয় নয়। আজ আমরা তাই ফুলের রঙে, রবি ঠাকুরের গানে রঙিন হলাম৷’ ময়ূরী পাল মজুমদারের কথায়, ‘বসন্ত উৎসবে যে আবির মাখতেই হবে এমন কি আছে। করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষাও তো পেতে হবে। আর যেখানে আমাদের এই উৎসবে সব সময়ের সঙ্গী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এটাই তো আনন্দের।’ নানা রঙের ফুল, নাচ-গান আর হুল্লোড়, সব মিলিয়ে সব্বাই অনাবিল আনন্দে মেতে রইলেন গল্ফগ্রিন সেন্ট্রাল পার্কের বসন্ত উৎসবে। এখানে রঙ ছিল না।

তবে রঙ বেরঙের হরেক রকম ফুল, গান কবিতায় সবাই হয়ে ওঠেন রঙিন। ফুল দিয়ে একে অপরকে সাজিয়ে তুললেন শিল্পী এবং উদ্যোক্তারা। একের পর এক বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানের বাতিলের খবরে ভেঙে পড়েছিলেন শিল্পীরা। অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এখানকার বসন্ত উৎসবকে ঘিরেও। শিল্পীদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, ‘টানা কয়েক দিনের রিহার্সাল মাঠে মারা যাবে না তো? অবশেষে সমস্ত জল্পনাকে দূরে ঠেলে সরিয়ে রেখে বাঙালির প্রাণের উৎসবে সামিল হলেন আট থেকে আশি। করোনা ভাইরাস সতর্কতাকে মাথায় রেখে উৎসবের আয়োজকদের উৎসব প্রাঙ্গণে আবির-রঙ না খেলার শর্তে রাজি হয়ে এক ‘অন্য দোল’ উৎসবের ছবি ধরা পড়ল ভালবাসার শহর তিলোত্তমায়। যে উৎসব প্রাঙ্গণ থেকে সমাজের প্রতি সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হল। কবির ভাষায় ওঁরা যেন বললেন, ‘ ...... রাঙা হাসি রাশি রাশি , রাঙা নেশা মেঘে মেশা প্রভাত আকাশে’।

 VENKATESWAR  LAHIRI

First published: March 9, 2020, 4:21 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर