সন্দেহজনক রেশন কার্ড ধরতে বিশেষ কমিটি, বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ রাজ্য সরকারের

সন্দেহজনক রেশন কার্ড ধরতে বিশেষ কমিটি, বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ রাজ্য সরকারের

সবচেয়ে বেশি ফারাক ধরা পড়েছে দুই চব্বিশ পরগণা, নদীয়া,  মুর্শিদাবাদ জেলায়। সবচেয়ে কম বিভ্রান্তি ধরা পড়েছে ঝাড়গ্রাম জেলায়।   

  • Share this:

#কলকাতা: সন্দেহজনক রেশন কার্ড মোকাবিলায় তৎপর রাজ্য খাদ্য দফতর৷ হচ্ছে দফায় দফায় জেলা ভিত্তিক বৈঠক৷  সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক রেশন কার্ড চিহ্নিত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণায়। প্রায় ৫০৬১৬ রেশন কার্ড হিসাব মিলছে না এই জেলায়।

উত্তর ২৪ পরগণার অবস্থাও খুব খারাপ৷  সেখানে মিলেছে প্রায়  ৪৫৫৩৮ রেশন কার্ডের রেকর্ড৷ নদীয়ার সংখ্য়া ৩৯২০১৷ মুশিদাবাদে  ৩৫৩৯২ রেশন কার্ড।  সবচেয়ে কম ফারাক ধরা পড়েছে ঝাড়গ্রাম জেলায়৷ সেখানে মাত্র  ১১ রেশন কার্ড সমস্যা ধরা পড়েছে।

কলকাতার হিসেব করে দেখা গিয়েছে উত্তর কলকাতাতে ৩১৭১৷  দক্ষিণ কলকাতায় সেই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয়গুণ বেশি৷ প্রায় ২০১৬৫ রেশন কার্ড।

রাজ্য খাদ্য দফতরের ডেটাবেস অনুযায়ী সাড়ে চার লক্ষ নতুন রেশন কার্ড সংক্রান্ত হিসাব মিলছে না।  আপাতত এই রেশন কার্ডগুলো সন্দেহজনক হিসাবেই পরিচিত হতে চলেছে। এই ঘটনা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির কাছেই ধরা পড়েছে জেলা ভিত্তিক এই পরিসংখ্যান।

খাদ্য দফতরে রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ নথিবদ্ধ থাকছে ই-পস মেশিনে। ফলে খাদ্য দফতরের প্রধান অফিসের কন্ট্রোল রুমে বসে নজরদারি করা যাচ্ছে সমস্ত দোকানের ওপর। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছে এই ব্যবস্থা।

সেখানে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়লো ই-পসের নথি আর দফতরের ডেটাবেসের নথির অমিল। হিসাবে ধরা পড়েছে, ১৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৯২ জন রেশন গ্রাহকের নথি আপলোড করা হয়েছে ই-পস যন্ত্রে। এর মধ্যে ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯৩৭ রেশন কার্ড সংক্রান্ত নথি খাদ্য দফতরের ডেটাবেসে নেই। ৯ লক্ষ ১১ হাজার ৩৫৫ রেশন কার্ড সংক্রান্ত নথি অবশ্য মিলে গিয়েছে।

এই বিষয় নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে খাদ্য দফতর।  প্রতি জেলার খাদ্য নিয়ামক দফতরের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সোমবার এই ব্যপারে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘যে বা যারা এই কাজগুলি করছিলেন তাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। তবে আমরা কার্ডগুলি যাঁদের, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এর ফলে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পাবে। ‘

আপাতত দফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতি রেশন গ্রাহকের নথি  এবং ডিলারদের কাছে থাকা নথি যাচাই করা হবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশেষ "শিট" পাঠানো শুরু হয়েছে। শিটেই রেশন কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য থাকবে। প্রতিটি রেশন কার্ড সম্পর্কে তথ্য এখানে দিতে হবে।

রাজ্যের যে সমস্ত রেশন দোকানগুলিতে ১০০ বেশি অসংগতি ধরা পড়েছে সেখানের রিপোর্ট আগে তৈরি করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ওনারস আসোসিয়েশন। তাঁদের নেতা বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘ডিলারদের দোষ হোক বা সরকারি আধিকারিকদের। প্রকৃত সত্য জানা জরুরি। তাই রাজ্য সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়ে যথাযথ কাজ করেছে‘  ।

Abir Ghosal

First published: February 3, 2020, 4:50 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर