রাজ্যপাল-তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে 'সলিড সেটিং', পুলিশের 'নারকীয় তান্ডবলীলা'য় ফুঁসছে বাম

রাজ্যপাল-তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে 'সলিড সেটিং', পুলিশের 'নারকীয় তান্ডবলীলা'য় ফুঁসছে বাম

বৃহস্পতিবার বাম ছাত্র-যুবদের ডাকা নবান্ন অভিযানে পুলিসের লাঠিচার্জ, দমননীতির প্রতিবাদে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে এই বনধ কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার বাম ছাত্র-যুবদের ডাকা নবান্ন অভিযানে পুলিসের লাঠিচার্জ, দমননীতির প্রতিবাদে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে এই বনধ কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

  • Share this:

VENKATESWAR  LAHIRI

#কলকাতা: রাজ্যপালের সঙ্গে বিজেপির 'সেটিং' এর  অভিযোগ হামেশাই  শোনা যায় শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের কথায়। এ বার তৃণমূলের সঙ্গে  রাজ্যপালের 'সলিড সেটিং' এর তত্ত্ব সামনে আনলেন বামপন্থীরা। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুলে  রীতিমতো আক্রমণাত্মক ছাত্র যুব নেতৃত্ব। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানায়, ‘বিজেপির কোনও সাধারণ কর্মী সামান্য আহত হলেও রাজ্যপাল ট্যুইটের পর ট্যুইট করে যান। অনেক সময় বিজেপি নেতাদের বাঁচাতে ছুটে যান ঘটনাস্থলেও। অথচ মমতার পুলিশের দ্বারা বামপন্থী যুব সমাজ যে ভাবে খাস কলকাতার রাজপথে নারকীয় তান্ডব লীলাার শিকার হল তখন রাজ্যপালের  মুখে কুলুপ। এই সময়ে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় থেমে গিয়েছে। এর থেকেই জলের মত পরিষ্কার যে, বিজেপি, তৃণমূল আর রাজ্যপাল আমে দুধে মিশে আছে।

বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যপালের এই নীরবতাই প্রমাণ করে যে রাজ্য প্রশাসনকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছেন রাজ্যপাল। সেই কলঙ্কিত জালিয়ানওয়ালাবাগের কথাও মনে করাল বামপন্থী ছাত্র যুবরা। বৃহস্পতিবার বাম ছাত্রযুবদের ডাকা নবান্ন অভিযানে পুলিসের লাঠিচার্জ ও শুক্রবার বাংলা বনধ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে বাম ছাত্র যুব নেতৃত্ব একদিকে যেমন সুর চড়ান পুলিশের বিরুদ্ধে পাশাপাশি রাজ্যপালকেও  কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তাঁরা। বামেদের ডাকে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে পালিত হয় ১২ ঘণ্টার বনধ। বৃহস্পতিবার বাম ছাত্র-যুবদের ডাকা নবান্ন অভিযানে পুলিসের লাঠিচার্জ, দমননীতির প্রতিবাদে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে এই বনধ কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। নেতৃত্ব দাবি করেছিল যে, কোথাও জোর করে বনধ পালন করা হবে না। তবে অনেক জায়গাতেই গাজোয়ারি করে বনধ সফল করার  অভিযোগ উঠেছে । জায়গায় জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনাও সামনে এসেছে।

ভারতের ছাত্র ফেডারেশন বা এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন , নবান্ন অভিযান করতে গিয়ে যা ঘটেছে তা ঘটা উচিত ছিল না। সরকার ও  পুলিসের পক্ষ থেকে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা হল যেন যুদ্ধক্ষেত্র। নির্মমভাবে কয়েকশো ছাত্রযুবর উপর হামলা করা হল। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। পাশাপাশি  বনধ সফল দাবি করে অভিযুক্ত পুলিশদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে  আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

পুলিশের অমানবিক অত্যাচারের প্রতিবাদে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনেও নালিশ জানানোর কথা  বলে এস এফ আই ।এদিনের এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সভানেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রতি মুহূর্তে আমাদের কাছে নতুন করে ছাত্র-যুব দের ওপর নৃশংস হামলার তথ্য সামনে আসছে। এখনও পর্যন্ত আমাদের অনেক সদস্য নিখোঁজ হয়ে রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সেই সমস্ত নির্দিষ্ট থানায় ইতিমধ্যেই মিসিং ডায়েরিও করা হয়েছে বলে দাবি ডিওয়াইএফআই নেত্রীর। বনধে মানুষের  সাড়াই  প্রমাণ করে বনধ সম্পূর্ণ সফল। তবে কোথাও কোনও গাজোয়ারি করে বনধ সফল করা হয়নি বলে দাবি মীনাক্ষীর। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর কেন চুপ? এই প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বামপন্থীরা।

Published by:Simli Raha
First published: