Mamata Banerjee to contest from Bhawanipore: মমতাকে জায়গা করে দিতেই ইস্তফা, ক্ষোভ নেই, দাবি 'অনুগত সৈনিক' শোভনদেবের

দলনেত্রীকে জায়গা করে দিতে ইস্তফা শোভনদেবের৷

বিধানসভায় গিয়ে অধ্য়ক্ষ বিমান বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হাতে ভবানীপুরের (Bhawanipore) বিধায়ক হিসেবে পদত্য়াগপত্র তুলে দেন শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায় (Sobhandeb Chatterjee)৷ পুরনো কেন্দ্রেই ভোটে দাঁড়াবেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)৷

  • Share this:

    #কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জায়গা করে দিতেই ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন তিনি৷ বিধানসভায় গিয়ে পদত্যাগ করার আগে নিজেই জানিয়ে দিলেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ তবে তৃণমূলের প্রবীণ এই নেতা দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত নিতে হওয়ায় কোনও ক্ষোভ নেই তাঁর৷ বরং নিজের কেন্দ্র থেকে জিতে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন, সেটাই চান তিনি৷ তাঁর ভবিষ্যতও দলই ঠিক করবে বলে জানিয়েছেন শোভনদেব৷

    পদত্যাগ করতে যাওয়ার আগে শোভনদেব বলেন, 'ছ' মাসের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটে জিতে আসতে হত৷ আমি তাঁর নিজের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে জিতেছিলাম৷ উনি যাতে সুষ্ঠু ভাবে ভোটে জিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন, সেই কারণেই আমি বিধায়ক পদ ছেড়ে দিচ্ছি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেতাটা আমাদের সবার, দলের অস্তিত্বের প্রশ্ন৷ সেই প্রশ্ন যখন উঠল, আমি ঠিক করলাম পদত্যাগ করি, উনি ভোটে দাঁড়িয়ে জিতুন৷ আমার ভবিষ্য়ৎ কী হবে, সেটা উনি সিদ্ধান্ত নেবেন৷'

    তবে শোভনদেব কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন, দলের থেকেই এই বার্তা পেয়েছেন তিনি৷ একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিধায়ক পদ ছাড়তে হওয়ায় কোনও ক্ষোভ নেই তাঁর মনে৷ তৃণমূলের প্রবীণ নেতা বলেন, 'দলের নির্দেশ না স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিলাম এ ভাবে বলা ঠিক নয়৷ কোনও না কোনও জায়গা থেকে তো বার্তা এসেছিল৷ কিন্তু সেটা আমি সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিয়েছি৷ ' শোভনদেব বাবু জানিয়েছেন, তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়নি৷ তবে যদি বিধানসভার স্পিকার তাঁকে বলেন যে আইনি কারণে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে, তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিতেও তৈরি বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী৷

    পদত্য়াগ করতে বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়৷ 

    এর পরই বিধানসভায় গিয়ে অধ্য়ক্ষ বিমান বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হাতে পদত্য়াগপত্র তুলে দেন তিনি৷ নিয়ম মেনে তা গ্রহণ করেন স্পিকার বিমান বন্দ্য়োপাধ্য়ায়৷

    নিজেকে দলের অনুগত সৈনিক বলে উল্লেখ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, 'খারাপ লাগার প্রশ্নই নেই৷ আমি বারুইপুরের বিধায়ক ছিলাম৷ ১৯৯৮ সালে আমাকে রাসবিহারী কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়৷ এর পর ভবানীপুরে দাঁড়াতে বলা হয়৷ কোনও সিদ্ধান্তেই আমি প্রতিবাদ করিনি৷ আজকেও কোনও প্রতিবাদ করছি না, স্বেচ্ছায় ছাড়ছি৷' শোভনদেব বাবু জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বোচ্চ নেত্রী৷ তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই চূড়ান্ত৷

    এ বারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অন্যদিকে, ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি-র রুদ্রনীল ঘোষকে পরাজিত করেন শোভনদেব৷

    তৃণমূল সূত্রের খবর, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি৷ তাঁকে অন্য় কোনও কেন্দ্র থেকে জিতিয়ে আনার সুযোগ যেমন থাকছে, সেরকমই প্রবীণ এই নেতাকে রাজ্য়সভায় পাঠানোর সুযোগও আছে শাসক দলের সামনে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: