স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট আলোকিত করবে পশ্চিমবঙ্গকে ! সবুজ মিশনের পথে আরও এক পা হাঁটল রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ৫৬ হাজার স্মার্ট এলইডি স্ট্রিটলাইট উৎসর্গ করলেন রাজ্যের জনগণকে

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 22, 2019 07:27 PM IST
স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট আলোকিত করবে পশ্চিমবঙ্গকে ! সবুজ মিশনের পথে আরও এক পা হাঁটল রাজ্য
photo source collected
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 22, 2019 07:27 PM IST

#কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সেজে উঠবে আলোতে। অন্ধকার পশ্চিমবঙ্গে কখনই জায়গা পায় না। শিক্ষার আলোয় আলোকিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। এখানকার মানুষও আলোকময়। তাই সেই রাজ্যে কোনও রকম অন্ধকারই যে জায়গা পেতে পারে না। হতে পারে রাস্তার আলো ! তাই বা কেন পিছিয়ে থাকবে। এবার সেই স্ট্রিট লাইটকে আরও উন্নত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নয়া উদ্যোগ। আজ ২২ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ৫৬ হাজার স্মার্ট এলইডি স্ট্রিটলাইট উৎসর্গ করলেন রাজ্যের জনগণের উদ্দেশ্যে। এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবুজ মিশনের অঙ্গ। এই আলোগুলি বাঁকুড়া, বেলডাঙা, বজবজ ও খড়দায় লাগানো হবে। আলোগুলি লাগাবে এনার্জি এফিসিয়েন্সি সার্ভিসেস লিমিটেড (EESL) সংস্থা। এই সংস্থা ভারত সরকারের শক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির একটা যৌথ উদ্যোগ। ৬০ হাজার এই আলো ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ কমাবে। এর ফলে ১২.২ মিলিয়ন বিদ্যুতের ইউনিটের খরচ কমবে। ফিরহাদ হাকিম জানান, " কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভা এলাকায় প্রায় ১ লক্ষ স্মার্ট এলইডি আলোর নতুন পার্টম লাগানো হবে। পাশাপাশি এই আলোকগুলিকে একটি ওয়েব-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে জুড়ে দেবে EESLসংস্থা। এর ফলে আলোগুলিকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি করা যাবে। এবং জ্বালানির অতিরিক্ত খরচও কমানো যাবে। এছাড়াও সেন্ট্রালাইজড কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম উইথ জিআইএস ম্যাপিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বেলডাঙাতে এই কাজ করা হয়ে গিয়েছে। এই অনুষ্ঠানে আজ উপস্থিত ছিলেন, নগরোন্নয়ন দফতরের প্রিন্সিপ্যাল সচিব সুব্রত গুপ্ত, গ্রিন সিটি মিশনের যুগ্ম সচিব শ্রীমতি পাপিয়া ঘোষ রায়চৌধুরী এবং EESL-এর প্রজেক্ট ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডিরেক্টর ভেঙ্কটেশ দ্বিবেদি। ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, " আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে স্মার্ট এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী লাইট মানুষের জন্য উৎসর্গ করছি। এই আলো নাগরিকদের জীবনে আলো জ্বালাবে। আরও বেশি বিদ্যুৎ বাঁচাবে। নিরাপত্তা বাড়াবে। রাজ্যের মানুষের জীবনে সবুজ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।"

সুব্রত গুপ্ত বলেন, " এই আলোগুলো লাগানোর ফলে আমরা বায়ুদূষণ ভালরকম কমাতে পারব, শহরগুলির বাতাস পরিচ্ছন্ন করতে পারব এবং শহরগুলিকে সবুজ করতে পারব। এটাই গ্রিন সিটি মিশনের মুল উদ্দেশ্য। বাকি পুরসভা , কপোর্রেশন, উন্নয়ন পর্ষদে আমরা এই পরিকল্পনা কার্যকর করার চেষ্টা করছি। এতে বিলের খরচও কমবে।"

পশ্চিম বাংলার সাড়ে সাত লক্ষ্য রাস্তার আলোর মধ্যে সাড়ে তিন লক্ষ আলোকে এলইডি আলোয় বদলে ফেলা হয়েছে। ২০১৯ মার্চের মধ্যে বাকি আলোগুলিকেও বদলে ফেলা হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী EESL রাজ্য সরকারকে দেবে ৩৬০ ডিগ্রি সমর্থন। অর্থাৎ তারাই এই গোটা কাজটা নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে করবে। এবং সাত বছরের মেয়াদে সেগুলিকে রক্ষা করবে। তারাই বাতিস্তম্ভ লাগাবে, দেখাশোনা করবে। লাইটের ক্ষতি হলে তা বদলে দেবে। এতে যা খরচ হবে তার ৫০ শতাংশটাকা প্রথমে দেবে রাজ্য সরকার। বাকি টাকা সাত বছর ধরে বার্ষিক কিস্তিতে দেওয়া হবে।

এই অনুষ্ঠানে গ্রিন সিটি মিশনের যুগ্ম সচিব পাপিয়া ঘোষ চৌধুরী বলেন,"এতে মহিলা, শিশু ও বয়স্কদের জন্য সামাজিক প্রভাব হবে বিরাট। তাঁরা নিরাপদে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারবেন। নাগরিকরা আরও ভাল পরিষেবা পাবেন।" EESL-এর প্রজেক্ট ও বিজনেস ডেভলপমেন্ট ডিরেক্টর ভেঙ্কটেশ দ্বিবেদি বলেন, "আমাদের প্রয়াস হল রাজ্যগুলিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়ে উঠতে সাহায্য করা। রাজ্যের ভূমিকা জোরদার করা। বাংলায় আমাদের এই কাজ EESSL ও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের মধ্যে দারুণ একটঅ মেলবন্ধন গড়ে ওঠার প্রমান। সারা রাজ্য জুড়ে আমরা আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে এগিয়ে যেতে চাই।"

First published: 07:23:54 PM Aug 22, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर