corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘‌অনাহারে মরছে, সবাই বলছে রোগে মরছে’‌, বলছেন ঝুপড়ির বাসিন্দা

‘‌অনাহারে মরছে, সবাই বলছে রোগে মরছে’‌, বলছেন ঝুপড়ির বাসিন্দা

এই অঞ্চলে প্রায় হাজার পাঁচেক ঝুপড়িবাসী থাকেন

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌ সকাল সাতটা। নারকেলডাঙ্গা ক্যানেল রোডে দাঁড়িয়ে। আমাদের গাড়ি দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু বয়স্ক থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কচিকাঁচা সবাই দৌড়ে এলো। ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা এই লক ডাউনের সময়, ওদেরকে খাবার দিতে গেছি। যখন জানল আমরা সংবাদমাধ্যমের লোক তখন কেউ কটুক্তি, আবার কেউ মনের বেদনা উগ‌ড়ে দিলেন আমাদের সামনে। এই অঞ্চলে প্রায় হাজার পাঁচেক ঝুপড়িবাসী থাকেন। এরা বেশিরভাগ কাগজ, প্লাস্টিক কুড়িয়ে বিক্রি করেন। বেশ কিছু আছেন ভিক্ষে করে, কেউ আবার ঢালাই কাজের শ্রমিক। আবার কেউ বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। সারাদিনে কারওর একশ, দুশো বা তিনশো টাকা রোজগার। বাড়িতে পেট বলতে কারো পাঁচজন ,কার‌ওর ছ'জন কারওর বা দশ জন। বিগত এক মাসের ওপর হল এঁদের কোনও রোজগার নেই। সারাদিনে কোনভাবে আধপেটা অনাহারে দিন চলে যাচ্ছে এঁদের। নারকেলডাঙ্গা এই অঞ্চলকে রেড জোন বলে ঘোষণা করেছে সরকার। এই ক্যানেল রোড ছেড়ে, বাইরে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই।

পারভীনা বিবি এখানেই থাকেন। তিনি বললেন, ‘‌অনাহারে মারা যাচ্ছে মানুষজন। আর সবাই বলছে রোগে মারা যাচ্ছে।' কথাটা তীর্যক হলেও অনেকেই বাস্তবের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন বলে মনে করেন। মাঝে মাঝে এই অঞ্চলে কেউ না কেউ কিছু কিছু খাবার নিয়ে আসে। তাতেই কোন ভাবে চলে যাচ্ছে এঁদের। নিয়মিত সরকারি পক্ষ থেকে কিংবা কর্পোরেশন থেকে কোন ভাবে খাবার দেওয়া হয় না। গিয়ে দেখা গেল বেশকিছু মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ কিন্তু তাদের ওষুধ কেনার টাকা নেই। এই খালপাড় ঝুপড়ি নিয়ে বহু ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এখানে মাদকাসক্ত, চোর, ছিনতাইবাজের মত অপরাধীরা থাকে। প্রায়ই পুলিশ এসে কাউকে না কাউকে ,কোন না কোন অপরাধে ধরে নিয়ে যায়।

আফসার আলী খান, ভিক্ষে করেন, কোনও না কোনও রাস্তার মোড়ে বসে। বিশেষভাবে সক্ষম। সঙ্গে মধুমেহ রোগ আছে। উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েড আছে। এখন রোজগার নেই । ওষুধ অনিয়মিত হয়ে গেছে। একটি বাঁকা হাত আর একটি স্বাভাবিক হাত, দুটো কোনমতে জোড় করে বলছিলেন, একটু খাবারের ব্যবস্থা করে দেবেন! যেভাবে চারদিকে ওরা ঘিরে ধরেছিল, তাতে সামাজিক দূরত্ব তো অনেক দূরের কথা, ওদের কথা মত ওঁরা অনাহারে ,অনেকটা মৃত্যুর কাছাকাছি। অতএব মুখে মাস্ক কিংবা দূরত্ব বজায় রাখা তেমন কিছু গুরুত্ব পায় না ওদের কাছে। এই মানুষগুলো সারাদিন রাস্তার ডান দিক আর বাম দিক দেখে । যদি কোন গাড়ি ওদের জন্য খাবার নিয়ে আসে। খিদেতে বাচ্চাগুলোর চোখের জল শুকিয়ে চিবুকে শুকনো রেখা হয়ে আছে। বড়রা হাল ছাড়েননি। কোন গাড়ি দেখলে হাতে একটা থালা আর একটা বাটি নিয়ে , দৌড়াচ্ছেন যদি কিছু খাবার জোগাড় করা যায়।

SHANKU SANTRA

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: May 1, 2020, 12:33 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर