corona virus btn
corona virus btn
Loading

আসুরা বিবি-র নিরাপত্তায় পাইকপাড়ার নাইটশেল্টার যেন 'দূর্গ'

আসুরা বিবি-র নিরাপত্তায় পাইকপাড়ার নাইটশেল্টার যেন 'দূর্গ'

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতে পারে পুলিশের হাতে।

  • Share this:

#কলকাতা: তাঁর উপরেই নির্ভর করছে সিঁথি-কাণ্ডের তদন্তের ভবিষ্যৎ। সিঁথি থানায় ব্যবসায়ী রাজকুমার সাউয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এই আসুরা বিবিই অন্যতম সাক্ষী। তাই সাক্ষীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে লালবাজার। পাইকপাড়ার যে নাইট শেল্টারে রাখা হয়েছে আসুরাকে তার বাইরে একজন ইনস্পেক্টরের নেতৃত্বে সর্বক্ষণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মহিলা পুলিশ-সহ মোট ১১ জন পুলিশকর্মী আসুরার নিরাপত্তার দায়িত্বে। নাইটশেল্টারের মেইন গেট, ভিতরে ঢোকার দরজা এবং তাঁর সঙ্গে সর্বক্ষণ রয়েছে পুলিশকর্মী। বাইরে থেকে কেউ শেল্টারে ঢুকতে গেলে দিতে হচ্ছে বৈধ পরিচয়। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঢুকতে গেলে গেটেই আটকে দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশ ছাড়া বাইরের কারও সাথে কথা বলতেও দেওয়া হচ্ছে না। মাছিও গলতে পারছে না সেখানে। তাই নাইট শেল্টারের আবাসিকরাই বলছেন, পাঁচিল ঘেরা এই বাড়ি যেন 'দূর্গে' পরিণত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার একটি চুরির ঘটনার তদন্তে সিঁথি থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় ব্যবসায়ী রাজকুমার সাউ ও আসুরা বিবিকে। পুলিশের দাবি, আসুরা বিবি কিছু চোরাই সামগ্রী নাকি রাজকুমারকে নাকি বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু আসুরার অভিযোগ, দোষ স্বীকার করার জন্য পুলিশ দু'জনকেই বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিল। তাঁর সামনেই রাজকুমারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। চোখের সামনে রাজকুমারকে মারা যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেন আসুরা।

এই ঘটনার পরে রাজকুমারের পরিবারের তরফে পুলিশি হেফাজতে মারধরের জেরে মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে সিঁথি থানার তিন অফিসারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। 'ক্লোজ' করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা শুরু হয়েছে।

আসুরা এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হলেও ঘটনার পর মৃতের পরিবারের বিরুদ্ধেই ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন। আবার নিজের পরিবারের কাছে দাবি করেছেন, থানায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকেও নাকি মারধরও করেছে।

মূল সাক্ষীর এভাবে বারবার বয়ান বদলের পর এখন রাজকুমারের দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তদন্তের গতিপ্রকৃতি ঠিক করে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যে ঘরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল রাজকুমারকে, সেখানে সিসিটিভি না থাকায় থানার ভিতরে ঠিক কি ঘটেছিল তা জানা সম্ভব ওই রিপোর্ট থেকেই। কারণ, মারধর বা ইলেকট্রিক শকের জেরে মৃত্যু হয়েছে কিনা বলে দেবে এই রিপোর্টই। তাতেই স্পষ্ট হবে কি হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতে পারে পুলিশের হাতে। প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় যেহেতু ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত চলছে তাই তিন চিকিৎসকের সামনে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। নিরপেক্ষতার জন্য কোনও পুলিশকর্মীকেও রাখা হয়নি সেখানে।

এদিকে শুক্রবারও লালবাজারে মৃতের পরিবারের দু'জনকে বয়ান রেকর্ড করার জন্য ডাকা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে। পাশাপাশি, লালবাজারের তদন্তকারীরাও পাইকপাড়ার মৃতের বাড়িতেও আসেন তদন্তের জন্য।

Sujoy Pal

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: February 14, 2020, 3:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर