৭৯ বছর পেরিয়ে বন্ধ হয়ে গেল নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী রক্সি সিনেমা হল

৭৯ বছর পেরিয়ে বন্ধ হয়ে গেল নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী রক্সি সিনেমা হল
সংগৃহীত ছবি

কর্মহীন হয়ে গেলেন হলের কাজে যুক্ত ২০০ জন কর্মী।

  • Share this:

#কলকাতা: মাল্টিপ্লেক্সের জমানায় ফের এক সিঙ্গেলস্ক্রিনের অকাল মৃত্যু। বন্ধ হয়ে গেল ধর্মতলার রক্সি টকিজ। বুধবার সন্ধ্যেয় শেষ শো'তে একটি একটি ইংরেজি সিনেমা দেখানো হয়েছে। লিজ পুনর্নবীকরণর টাকা দিতে না পারায় বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় রক্সিতে। আর তার জেরে কর্মহীন হয়ে গেলেন হলের কাজে যুক্ত ২০০ জন কর্মী।

শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার পুরনো সিনেমা হলগুলো একে একে সবই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্লোব, মেট্রো, লাইট হাউস, নিউ এম্পায়ার, এলিট একে একে সব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এবার বন্ধ হয়ে গেল রক্সিও। দীর্ঘ কয়েক দশক চলার পর ১১ মার্চ সন্ধ্যা ছ'টায় শেষ শো দেখানো হয়। শেষ দিন একটি বাংলা এবং একটি ইংরেজি সিনেমা দেখানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০ বছর ধরে রক্সি টকিজের লিজ ছিল 'দ্য বেঙ্গল প্রোপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেড'-এর অধীনে।

১৯০৮-০৯ সালে অপেরা হাউজ হিসেবে পথ চলা শুরু করেছিল রক্সি। তখন তার নাম ছিল এম্পায়ার থিয়েটার। চল্লিশের দশকের শুরুতেই তা পরিবর্তিত হয়ে সিনেমা হলে পরিণত হয়। সূত্রে খবর, ২০০৫ সালে রক্সির লিজের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। পুরসভার তরফ থেকে নতুন করে লিজ পুনর্নবীকরণের জন্য ৭৮ কোটি টাকা দিতে বলা হয়। কিন্তু দ্য বেঙ্গল প্রপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেডের তরফ থেকে বলা হয়, সিনেমা হল এখন আর তেমন চলে না, ফলে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার বেশি দেওয়া তাদের পক্ষে দেওয়া নয়। স্বাভাবিক ভাবেই বকেয়া না মেটানোয় পুরসভার তরফ থেকে রক্সি টকিজের মালিকানা চলে যায় কলকাতা পুরসভার হাতে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের তরফ থেকে রক্সিতে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

দ্য বেঙ্গল প্রোপার্টিজ  প্রাইভেট লিমিটেডের তরফ থেকে দেবাশীষ দে জানান, 'আমাদের কিছু টাকা বকেয়া ছিল। পুরসভার তরফ থেকে যা দাবি করা হয়েছিল সেই পরিমাণ টাকা আমরা দিতে আগ্রহী নই। আজ পুরসভার তরফ থেকে রক্সি টকিজ অধিগ্রহণ করতে এসেছিল। আমরা তাদের হাতে হলের মালিকানা তুলে দিয়েছি। এদিকে পুরসভা এই সম্পত্তি অধিগ্রহণ করার ফলে বিপদে পড়েছেন হলের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ। এই বিল্ডিং এই মোট ২১টি ভাড়াটে ছিল। তার মধ্যে কিছু দোকানদার এবং কিছু আবাসিক রয়েছেন। রয়েছে দুটি বারও। একই সঙ্গে মোট ২০০ জন কাজ করতেন সিনেমা হল, দোকান এবং বারে। আজ কাজ হারালেন তাঁরাও।

SOUJAN MONDAL

First published: March 12, 2020, 6:55 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर