দেবীর প্রিয় তিথি অষ্টমী, পূজায় ভক্তদের মেলে বিশেষ প্রাপ্তি

দেবীর প্রিয় তিথি অষ্টমী, পূজায় ভক্তদের মেলে বিশেষ প্রাপ্তি
  • Share this:

#কলকাতা: অষ্টমী তিথি। সেই তিথির পুজো আর সময়ান্তরের পুজো। বলা ভাল ট্রানজিশনের পুজো। ধর্মীয় কাহিনীতে বলা হয়, অষ্টমী আর নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে নাকি অসুর বধ হয়েছিল। প্রতিমা কল্পনাতেও প্রতিমার পায়ের নিচে শূলবিদ্ধ অশুভ প্রতীক।

অষ্টমী তিথি হল অসুরবিনাশী শুদ্ধসত্তার আবির্ভাব তিথি। অষ্টমী তিথিতে দেবী মহালক্ষ্মীরূপা বৈষ্ণবী শক্তি। দেবী সেদিন রাজরাজেশ্বরী মূর্তি। দু’হাতে বর দেন ভক্তদের। শ্রেষ্ঠ উপাচার সেদিন নিবেদিত হয়। পদ্ম, জবা, অপরাজিতা, বেলপাতা— কত রকমের ফুলমালায় মাকে সাজানো হয়।

এক ভয়ানক যুদ্ধে মহিষাসুরকে শূলবিদ্ধ করলেন দেবী। গল্পটা ওইখানেই শেষ। এরপর তো যুদ্ধ শেষের জয়ের কাহিনী। শুভ-অশুভের লড়াইয়ে সবসময়েই শুভ শক্তি জিতেছে। জীবনেও কি তাই হয় ? কিন্তু মানুষ সেটাই চান। আর এইখানেই মাহাত্ম্য। শুভশক্তির জিত। আর ওই জয়ের সময়টাকেই স্মরণীয় রাখার জন্য জন্ম নেয় নানান গল্পকথা।

একটা সন্ধিক্ষণের উপাসনা। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট আর নবমী তিথির শুরুর ২৪ মিনিট। এই সেই সন্ধিক্ষণ। সেই সময়ান্তর। যাকে এই সময় আমরা বলি ‘ট্রানজিশনাল টাইম’। খারাপ-ভাল দ্বন্দ্বের সেই চূড়ান্ত ক্ষণ। অসহনীয় খারাপের শেষে সহনীয় ভাল। এবং আরও ভাল সময়ে উত্তরণ।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রকৃতির উপাসনার সেই সময়। মাহেন্দ্রক্ষণ। যখন তীব্র বর্ষা কাটছে দেশে। জল নামছে। জেগে উঠছে জমি। সবুজে সবুজ প্রকৃতি-পরিবেশ। ফসল রোঁয়ার ঋতু। সেই সন্ধিক্ষণের উপাসনা। যাতে ফসল ভাল হয়। খেয়েপরে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যায়। ব্যক্তি থেকে সমষ্টি। খারাপ সময় কাটিয়ে শুরু ভালোয় পা বাড়ানো। সেই কারণেই কুমারি পুজো। সেই কারণে ১০৮ পদ্মের সন্ধান, ১০৮ জবা-১০৮ অপরাজিতা আর ১০৮ বেলপাতার মালায় সাজানো। ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো। আলোকিত করা মনকে। শুরু সেলিব্রেশন উৎসবের।

জয়ের মূহুর্ত নয়, শুভ-অশুভের দ্বন্দ্বের সময়, আন্দোলনের মুহুর্ত, ওই সন্ধিক্ষণই মনে করায় মানুষের লড়াই সংগ্রামকে।

আরও দেখুন-

First published: 09:53:18 PM Oct 05, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर