সিঁথি থানায় মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় ! ঘটনায় কাগজ কুড়ানি আসুরা বিবির ভূমিকা

সিঁথি থানায় মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় ! ঘটনায় কাগজ কুড়ানি আসুরা বিবির ভূমিকা

রাত্রি নিবাসের অন্যান্য পরিজনেরা জানান আসুরা বিবি ৯মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি যথেষ্ট অসুস্থ।

  • Share this:

 #সিঁথি: সিঁথি থানার কাণ্ডে প্রশ্নের মুখে পুলিশ । তারমধ্যেই নতুন ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য।  ১৭ ই জানুয়ারি প্রদীপ পাল নামে এক প্রোমোটার, তিনি সিঁথি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন,যে তার বিল্ডিং থেকে এক লক্ষ দশ হাজার টাকর ট্যাপ কল চুরি গেছে। ওইদিনই সেই মর্মে মামলা শুরু করে থানা। তদন্ত শুরু করে সিঁথি থানার পুলিশ।   ১০ ই ফেব্রুয়ারি থানার পুলিশ আসুরা বিবি নামে এক ফুটপাথবাসী কাগজ কুড়ানিকে আসামী চিহ্নিতকরণের জন্য ডেকে নিয়ে যায়। তারপর ডেকে নিয়ে যায় রাজকুমার সাহুকে। আসুরা বিবিকে দিয়ে পুলিশ স্বীকার করাতে চায় যে রাজকুমারকে  গুলি বিক্রি করেছে সে।রাজকুমার সাহু অস্বীকার করলে তাকে পুলিশ মারধর করে এবং প্রদীপ পালের অভিযোগের ভিত্তিতে যে সমস্ত ট্যাপ কল চুরি হয়েছিল, সেগুলি কিনে দিতে বলে রাজকুমার সাহু কে ও তার পরিবারের লোকজনদের।

প্রশ্ন এখানে ,প্রদীপ পাল কত বড় প্রভাবশালী বা কোন প্রভাবশালীর নিকটের মানুষ ? যার ফলে পুলিশ রাজকুমারকে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা দিতে হবে নইলে কলগুলি কিনে দিতে বলে !   থানার মধ্যে রাজকুমার সাহুর মৃত্যুর পর, প্রত্যক্ষদর্শী আসুরা বিবির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওই আসুরা বিবি পাইকপাড়া কলকাতা পৌর সভার রাত্রি নিবাসে থাকতো। ১০ তারিখ ঘটনার পর আসুরা বিবি ফিরে যায় তার ওই রাত্রি নিবাসে।  ১১ তারিখ সকাল থেকে আসুরা বিবি তার ছোট্ট দুটি সন্তানকে নিয়ে কোথায় চলে গেছে কেউ জানেনা।

ওই রাত্রি নিবাসের অন্যান্য পরিজনেরা জানান আসুরা বিবি ৯মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি যথেষ্ট অসুস্থ। তাকে ঐদিন থানায় নিয়ে গিয়ে রীতিমতো অত্যাচার এবং মানসিক চাপ দিয়েছিল পুলিশ। সবার উপরে বড় প্রশ্ন যদি চুরি যায়, কোন কিছু বা চুরির অভিযোগ থাকে, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে তারপর পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে উদ্ধার করতে হয়। রাজকুমার সাহুকে বেশ কয়েক বছর আগে লালবাজার চোরাই মাল কেনার অপরাধে একবার ধরে নিয়ে গিয়েছিল। সে সময় বেশ কয়েকদিন জেল খাটে। এলাকার মানুষের দাবী, গত বারে ওকে কোনো দোষ না করেও নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। রাজকুমার কোন রাজনৈতিক দলের সাথে থাকত না। প্রচুর গরীব মানুষ ওর দ্বারা উপকৃত হতো। ও কোনদিন চুরির কোন জিনিসপত্র কিনত না। তিন পুলিশ অফিসার, সৌমেন্দ্রনাথ দাস,অরিন্দম দাস ও চিন্ময় মহন্ত।এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং থানা থেকে লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। পুলিশ পুলিশের তদন্ত করছে। তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়ে এখন অবধি সন্তুষ্ট নয় রাজকুমারের পরিবার।   সারা এলাকায় একটাই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রদীপ পালের কল কিনে দেওয়ার জন্য পুলিশ এত চাপ দিলো কেন? আর সেই চাপের ফলে একজন মানুষকে মেরে ফেলতে হল!   এই বিষয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বললে, তারা কেউ মুখ খুলতে চাননি।

SHANKU SANTRA 

First published: February 12, 2020, 10:54 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर