২০০ বছরের পুরনো এই পুজোয় কুমারীদের সঙ্গে পূজিত হন সধবারাও

২০০ বছরের পুরনো এই পুজোয় কুমারীদের সঙ্গে পূজিত হন সধবারাও

নবজাগরণের বাংলা। চন্দননগর থেকে কলকাতায় এসেছিলেন রামচাঁদ শীল।

  • Share this:

#চন্দননগর: নবজাগরণের বাংলা। চন্দননগর থেকে কলকাতায় এসেছিলেন রামচাঁদ শীল। বাসা বানিয়েছিলেন গঙ্গার তীরে। তাও ২০০ বছরের আগের ঘটনা। রাজা রামমোহন রায় তখন মধ্য গগনে। ধর্ম-সমাজ নিয়ে আলোচনার ঝড়। নিরাকার-সাকারের বিতর্ক। শিক্ষিত ব্যবসায়ী মানুষ রামচাঁদ শীল নিজেও দোটানায়। সাকার ছেড়ে নিরাকারে ? নাকি অন্য কোন পথ ?

দেবী নয়। শক্তি নয়। নয় মা কিম্বা মেয়ে। শীল বাড়িতে দুর্গা হলেন প্রকৃতি। তাকেই পূজা করেন শীল পরিবার। বাংলার আবহাওয়ায় তখন নবজাগরণের খোলা হাওয়া। নিরাকার সাকারের বিতর্কে শিক্ষিত সমাজ। ১৮২৮ পরবর্তী সময়ে ব্রহ্মতত্ত্ব থেকে আত্মতত্ত্বের দর্শন। রামমোহন রায় থেকে বিবেকানন্দ। সেই কারণেই দেবী বা শক্তি নন।

পঞ্চকোষ নিয়ে আমাদের জীবন। মোদ্দা কথা, জীবনের পাঁচ উপাদান । অন্ন–প্রাণ–মন-বিজ্ঞান-আনন্দ। সেই জীবনের উপাসনাই করতেন রামচাঁদ শীল। সেই কারণেই অন্নের জন্য লক্ষ্মী, প্রাণের জন্য দুর্গা, মনের জন্য ভাগবত পাঠ। বিজ্ঞানের জন্য সরস্বতী উপাসনা। আর আনন্দ নিমিত্ত দোল উৎসব।

আধুনিকতার খামতি ছিল না। কিন্তু সেই সময়ের টানাপোড়েনও অস্বীকার করতে পারেননি শীল পরিবার। এগিয়ে থেকেছেন সময়ের থেকে। কখনো পিছুটানকেও ছেড়ে আসতে পারেননি। পরিবারের মেয়েদের ধুনো পোড়ান তার একটা নিদর্শন।

অষ্টমীতে ধুনো পোড়ান যারা, সেই নারীদের পুজো হয় পরদিন নবমীতে। কুমারী পুজোর সঙ্গে সঙ্গে এখানে সধবা পুজোও হয় ।

Loading...

শুধুই কি নিয়ম নীতি। সাজগোজে আজো নজর কাড়েন এই পরিবারের মহিলা পুরুষরা। কিছুটা নিয়ম আর অনেকটাই মেয়ে বউদের সাজগোজ। ।

এখানে অন্নভোগ হয় না ৷ লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিহিতা বাড়ির মেয়ে বউদের নাকে নথ পরতে হয়৷

এই ভাবেই সাজেগোজে, বাবুয়ানি স্মৃতিতে, নবজাগরণের ঐতিহ্যে মিলে মিশে শীল বাড়ির পুজো। শুধু দেখবার জন্য নয়, ইতিহাসের পাঠও বটে। নবজাগরণের প্রভাবে জারিত এক অন্য জীবন।

First published: 02:20:00 PM Aug 25, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर