কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট নয়, ট্রাফিক সচেতনতায় আজ নাগরিকদের সার্জেন্ট শিবু দাস

কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট নয়, ট্রাফিক সচেতনতায় আজ নাগরিকদের সার্জেন্ট শিবু দাস
রাস্তায় ঘুরে ঘুরে নাগরিকদের সচেতনতার পাঠ দিচ্ছেন শিবু দাস

রাস্তায় ঘুরে ঘুরে নাগরিকদের সচেতনতার পাঠ দিচ্ছেন শিবু দাস

  • Share this:

Venkateswar Lahiri #কলকাতা: পেশা তবলার শিক্ষক। নেশা শহরের মানুষকে সুরক্ষিত রাখা। আর এই লক্ষ্যেই বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে নাগরিকদের সচেতনতার পাঠ দিচ্ছেন শিবু দাস। একদিকে যখন কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কিম্বা রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দুর্ঘটনা এড়াতে 'সেভ লাইফ সেফ ড্রাইভ' কর্মসূচিতে নানাভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি-সহ নাগরিকদের ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে সমাজের আজ বন্ধু তিনি। চোখের সামনে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা দেখেছেন। পরিচিতদের দুর্ঘটনায় মৃত্যুও প্রত্যক্ষ করেছেন। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তাকে বেশ কয়েকটি বিষয় ভাবতে শিখিয়েছে। তার সেই মনের ভাবনা থেকেই লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা তবলা শিক্ষক শিবু দাস কে পথচলা শিখিয়েছে । আর যেন কেউ দুর্ঘটনার শিকার না হন। পেশা যাই হোক না কেন, মনের ইচ্ছে যদি থাকে তাহলে অসম্ভব কিছুই নয় তার উদাহরণ শিবু দাস। দুর্ঘটনার হাত থেকে সহ নাগরিকদের বাঁচানো। আর তাই পথে নেমে পথচলতি মানুষকে সচেতন করতে নিজের মোটর বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ান এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে। দু চাকার গাড়িতে নানান সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড, পোস্টার। তবলার শিক্ষকতা থেকে যে আয় হয় তার একটা অংশ দিয়ে তার দু চাকার গাড়িতে ভরান পেট্রোল। এরপর সময় বের করে দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা প্রতিদিন শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব থেকে পশ্চিম নানা প্রান্ত চোষে বেড়ান। উদ্দেশ্য পথচলতি মানুষকে যারা বিশেষ করে যানবাহন চালান তাঁদের সচেতন করা। শিবু দাসের দু চাকার মোটরবাইকে ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কিত নানান পোস্টার, প্ল্যাকার্ড দিয়ে মোড়া। কোথাও লেখা "যত গতি তত ক্ষতি , ধীরে চালান বিপদ তাড়ান"। আবার কোথাও লেখা "প্রাণে যদি থাকে ভয়, কানে মোবাইল রাস্তায় নয়"। আবার কোথাও বা হেলমেট পরার পরামর্শ । হঠাৎ করে কেন এই ভাবনা? প্রশ্নের উত্তরে শিবু দাস বললেন," রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করার সময় অনেক সময় দেখি অনেকেই ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালান না। অনেকেই বেপরোয়া গাড়ি চালান। অনেকেরই মাথায় থাকে না হেলমেট ।গাড়ি চালানোর সময় সিট বেল্ট লাগানো থাকে না অনেকেরই।

স্কুটার মোটরসাইকেল চালাতে চালাতে অনেকেই মোবাইলে কথা বলেন। বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে আমার মনে হয়েছিল এই সমস্ত অনিয়ম। তাই শহরের একজন সহ নাগরিক হিসেবে সবাইকে সুরক্ষিত রাখতে আমারও যে কিছু কর্তব্য রয়েছে, সেই কর্তব্য থেকেই আমার এই ভাবনা"। সত্যি শিবু দাসের মত মানুষের আজ বড়ই অভাব। কলকাতা শহরের অনেক ট্রাফিক সার্জেন্ট এর কাছে শিবু দাস একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র। পাশাপাশি ভরসারও । ট্রাফিক সচেতনতামূলক কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন লিফলেট সাধারণ মানুষকে বিলি করে বেড়ান শিবদাস। তাঁর কথায়, এই প্রচেষ্টার ফলে অনেকেই সচেতন হয়েছেন। তবে এখনও অনেকেই নিয়ম না মেনেই যানবাহন চালান। সেই সমস্ত নাগরিকদের আরো সচেতন করতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি মানুষের পাশে থাকব। এই সমাজ বন্ধুর দাবি, সাম্প্রতিককালে দুর্ঘটনার হার কলকাতায় অনেকটাই কমেছে। নাগরিকরা যদি নিয়ম মেনে যানবাহন চালান তাহলে দুর্ঘটনার হার আরো অনেকটাই কমবে। যেভাবে নিজের রোজগার থেকে প্রতিদিন নিজের মোটরবাইকে 200 টাকা করে পেট্রোল ভরে সহ নাগরিকদের শুধুমাত্র সুরক্ষার জন্য শহর পরিক্রমা করে বেড়াচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

First published: December 19, 2019, 12:01 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर