বাজল স্কুলের ঘণ্টা, ৩৩৩ দিন পর বন্ধুর সঙ্গে দেখা, কী বলছে ওরা

বাজল স্কুলের ঘণ্টা, ৩৩৩ দিন পর বন্ধুর সঙ্গে দেখা, কী বলছে ওরা
বাজল স্কুলের ঘণ্টা।

এত দীর্ঘ অভিশপ্ত দিন কাটানোর পর বন্ধুদের দেখে ওদের মুখে হাসি।

  • Share this:

#কলকাতা: ফেস মাস্ক, মাস্ক, স্যানিটাইজার, প্রতি বেঞ্চে দু জন, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পড়ুয়ারা ৩৩৩ দিন পর শুরু করল অফলাইন ক্লাস। এত দীর্ঘ অভিশপ্ত দিন কাটানোর পর বন্ধুদের দেখে ওদের মুখে হাসি।

বিদ্যাসাগরের হাতে তৈরি রাজ্যর অন্যতম পুরনো নারী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান বারাসাত কালীকৃষ্ণ গার্লস হাইস্কুলে।দীর্ঘ আট মাস বিদ্যালয় থেকে দূরে থাকা মেয়েরা স্কুলে এসে নিজের প্রাণ ফিরে পেল। তীব্র আওয়াজে বেজে উঠল ফের স্কুলের ঘন্টা। ছুটির ঘন্টা নয়, প্রাণ খুলে হাসা, চার দেওয়ালে বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ মিলল।

দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে সময় আর সামান্য। তাই দেরিতে হলেও বন্ধুর দেখা পেয়ে খুশি ওরা।  বাবার স্কুটির পিছন থেকে লাফ মেরে নামল নীতিশা ঘোষ। নোটিস বোর্ডে চোখ বুলিয়ে গেটের দিকে এগোল সে।মুখচোখ হবে সদ্য ম্যাচ জিতে, ভিক্ট্রি ল্যাপের জন্য আবার মাঠে নামছে ।স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা  অভিভাবক  বিমলা রায়ের কথায়, ওরা হাঁপিয়ে উঠেছিল বাড়ি আর ফ্লাটের চৌহদ্দিতে আটকে থেকে।স্কুল খোলায় একটু মুক্তির আনন্দে গত কয়েক দিন ধরে নেচে চলেছে বাড়িতেই। বন্ধুদের বারবার ফোন ঠিক কটার সময় স্কুলে পৌছাবে তারা।


অন্য অভিভাবকরাও এ দিন বলছিলেন স্কুল করোনা কালে অন লাইন ক্লাস করিয়েছে।তবুও স্কুলে পড়ার গুরুত্ব আলাদা। যদিও বিলক্ষণ জানেন এখনও ভয় কাটেনি। করোনা অতিমারী না মিটতে স্কুলে বাচ্চাকে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত নয়ন অভিভাব ঝুমা পাল। তাঁর কথায়, "স্কুল খুলেছে খুব ভাল তবে শিক্ষিকারা যেন নজর রাখেন মেয়েদের উপর। এরা তো আবার দস্যিপনা সব সময় এগিয়ে থাকে।আর এত দিন বন্ধুদের কাছে পেয়ে যেন করোনা কালে নিয়মগুলো না ভোলে এরা সেটা যেন দেখা হয়।"

বারাসত কালীকৃষ্ণ গার্লস স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা মৌসুমী সেনগুপ্ত বলছিলেন, "করোনা কালেও তাদের স্কুলে আসতে হয়েছে মিডে মিল ও অন্যান্য কারণে।কিন্তু আজ মেয়েদের ফিরে পেয়ে স্কুল ফিরে পেল প্রাণ।তবু সময়টা ভাল নয়।তাই স্কুলে প্রার্থনার জন্য আজ আর মাঠে সারি বদ্ধ হওয়া নয়।আজ জনগনমন অধিনায়ক গাওয়া হল ক্লাসে ক্লাসে।"

Published by:Arka Deb
First published: