কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'খুব ভুল করলে, আমি কি পাপী?' স্ত্রীকে মুক্তি দিয়ে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ সৌমিত্রর

'খুব ভুল করলে, আমি কি পাপী?' স্ত্রীকে মুক্তি দিয়ে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ সৌমিত্রর
সুজাতাকে ডিভোর্স নোটিস পাঠালেন সৌমিত্র৷
  • Share this:

#কলকাতা: রাজনীতি ভাঙল সংসার৷ স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতায় প্রকাশ্যেই কেঁদে ফেললেন সাংসদ৷ শুধু বঙ্গ রাজনীতি কেন, জাতীয় রাজনীতিতেও এ ছবি কখনও দেখা গিয়েছে কি না, তা মনে করা যাচ্ছে না৷ কিন্তু সোমবার দুপুরে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং তাঁর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ-এর টানাপোড়েনে সেই দৃশ্যেরই সাক্ষী থাকল গোটা দেশ৷

এ দিনই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন বিষ্ণপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ৷ তার পরেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন সৌমিত্র৷ সেখানেই স্ত্রীকে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন তিনি৷ দশ বছরের সংসার কেন ভাঙল, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রকাশ্যেই কেঁদে ফেলেন রাজ্য বিজেপি-র যুব মোর্চার সভাপতি৷

আবেগতাড়িত সৌমিত্র স্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, 'দশ বছরের সম্পর্ককে এ ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলবে জানা ছিল না৷ ২০১১-র ২১ নভেম্বর প্রেমপর্ব শুরু হয়েছিল৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতকর্মের বিরোধিতা করেছিলাম৷ দু' বছর আগে যখন সোচ্চার হয়েছিলাম, সেদিন অনেকেই আমার সঙ্গেই ছিল না৷ বিজেপি-র মুকুলদা, কৈলাসজিরা আমার সঙ্গে ছিলেন৷ কিন্তু সেদিন সুজাতাও আমার সঙ্গ দিয়েছিল৷' সৌমিত্র জানিয়েছেন, 'সব দম্পতি মধ্যেই ঝগড়া হয়৷ তিন মাস আমাদের মধ্যেও ঝগড়া চলছিল৷ ঝগড়া হলেও তোমাকে ছাড়া একদিনও কোনও মহিলার সঙ্গে কাটাইনি৷ রাজনীতি তো রাজনীতির মতো চলবে৷ নিজের উচ্চাশার জন্য তুমি এই সিদ্ধান্ত নিলে৷'

সাংবাদিক সম্মেলন যত এগিয়ে এসেছে, ততই সৌমিত্রর গলা ভারী হয়ে এসেছে৷ তিনি বলেন, 'তোমার সঙ্গে আমার রাগ, অভিমান হয়েছে৷ বেশ কিছু তোমার সঙ্গে কথা হয়নি৷ আজকেও সৌমিত্র খাঁ তোমাকে নিখাদ ভালবাসে৷ অনেক লড়াইয়ের সঙ্গী ছিলে৷ তুমি সেদিন লখিন্দর- বেহুলার মতোই কাজ করেছিলে৷ যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তোমার বাড়ি ভাঙা হয়েছিল, তুমি তাঁর সঙ্গ দিলে? আমি কি খুব খারাপ? আমি কি পাপী? '

তবে স্ত্রীর সিদ্ধান্তে মানসিক ধাক্কা খেলেও সৌমিত্রর গলায় এ দিন কাঠিন্যও শোনা গিয়েছে৷ তিনি বলেন, 'খাঁ পদবী থেকে মুক্তি দিলাম৷ সৌমিত্র খাঁ নামটা থেকে মুক্তি দিচ্ছি৷ ভারতীয় জনতা পার্টির সৈনিক হয়ে কাজ করব৷ আমার এলাকার সাতটা বিধানসভা বিজেপি-কে তুলে দেব৷ আগে ১২ ঘণ্টা কাজ করলে ২০ ঘণ্টা কাজ করব৷ সুজাতা খুব ভুল করলে৷ অনুরোধ করে বলছি, সুজাতা মণ্ডল লেখ৷ খাঁ পদবী লিখবে না৷ এটা আমার বংশের পরিচয়, জাতির পরিচয়৷' সৌমিত্রর কথায়, সুজাতা তাঁর একমাত্র দুর্বলতা ছিল৷ কিন্তু এবার আর তাঁর কোনও পিছুটান থাকল না৷ কারণ বৃদ্ধ বাবা-মা ছাড়া তাঁর জীবনে আর কেউ নেই৷ ফলে দলের জন্য আত্মবলিদান দিতে তিনি তৈরি৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: December 21, 2020, 4:01 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर