অসুরের গলায় সুর, ট্রেনে শুয়ে গানে মত্ত সনাতন

অসুরের গলায় সুর, ট্রেনে শুয়ে গানে মত্ত সনাতন

ট্রেনের বার্থের হাতলের সঙ্গে হাতকড়ায় বাঁধা হাত ৷ চোখের চাউনি নিস্প্রাণ ৷

  • Share this:

#কলকাতা: ট্রেনের বার্থের হাতলের সঙ্গে হাতকড়ায় বাঁধা হাত ৷ চোখের চাউনি নিস্প্রাণ ৷ ট্রেনের ছাদের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় রাগ প্রধান গান ৷ হ্যাঁ, সেই সনাতন ঠাকুর ৷ সূচকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ৷ যার নিমর্ম অত্যাচারে পৃথিবী থেকে অকালেই বিদায় নিয়েছে ফুলের মতো এক শিশু ৷ সে সনাতনই গান গাইলেন ট্রেনের বার্থে শুয়ে ৷ সুর, তালে, যেন পরিণীত কোনও গায়ক ! গেয়ে গেলেন অবলীলায় ৷ একটার পর একটা গান ! কখনও রাগ প্রধান তো কখনও আধুনিক ৷ অবাক লাগে এই সেই মানুষ? যে ছোট্ট মেয়ের শরীরে বিঁধে দিয়েছিল সূচ !

পুরুলিয়ায় সুচবিদ্ধ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল তার মাকে ৷ এসএসকেএমে শিশুকন্যার মৃত্যু হতেই অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে পুলিশ। শিশুকন্যার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিল নদীয়াড়া গ্রামও। সনাতনের পাশাপাশি শিশুর মায়ের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ গ্রামবাসীদের। অপরাধ প্রমাণ হলে চরম শাস্তি চায় সনাতনের পরিবারও। এত কিছুর পরে অবশেষে খোঁজ মিলল সনাতান ঠাকুরের ৷

রবিবার উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরকে ৷ উত্তরপ্রদেশের রেনুকোট পিপড়ি গ্রামে স্থানীয় রাধা কৃষ্ণ মন্দিরে সাধু সেজে ছিল সনাতন ৷ আদালত থেকে ৬ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নেয় পুরুলিয়া পুলিশ ৷ ২ অগাস্ট পুরুলিয়া আনার কথা সনাতনকে ৷

অভিযুক্ত সনাতনের বিরুদ্ধে খুনের ধারা যোগ করে পুলিশ। এছাড়াও সনাতনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে।

পকসো আইন ২০১২

৩৭৬ ধারা - ধর্ষণ

৩২৬ - শিশুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন

৩০৭ - খুনের চেষ্টা

৩০২ - খুন

সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট শরীর। বিকৃতকাম বয়স্ক সেই শরীরেই গেঁথে দিয়েছে সাত সাতটি সুচ। বুকে-পিঠে-মেরুদণ্ডে এমনকী যৌনাঙ্গেও নানা আঘাতের চিহ্ন। এমন পরিস্থিতিতে পুরুলিয়ার শিশুকন্যাকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএমে।

কিন্তু শেষপর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি ৷ অস্ত্রোপচার সফল হলেও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে শিশুকন্যাটিকে রাখা হয়েছিল ৷ গতকাল ভোর রাতে মৃত্যু হয় তার ৷

মেয়ের উপরে এরকম অত্যাচারের পরেও কেন মুখ খোলেননি মা ? জানা গিয়েছে, স্বামী পরিত্যক্তা ওই মহিলা পুরুলিয়ার মফস্বল থানার সতরো এলাকায় থাকত। বছর পঁয়ষট্টির বিপত্নীক সনাতন নদিয়াড়ায় গ্রামের বাড়িতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলাকে নিয়ে থাকতে শুরু করে। অভিযুক্তকে বাঁচাতেই মহিলা প্রথমে নাম বলেননি বলে অভিযোগ। শিশুটি সনাতনকে পছন্দ না করায় চলত নির্যাতন। মারধর তো বটেই, সাড়ে তিন বছরের শিশু রেহাই পায়নি বৃদ্ধের বিকৃত লালসা থেকেও। যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত থেকেই তা স্পষ্ট। এক্স-রে রিপোর্ট বলছে, শিশুর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সাতটি সুচও। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে বোর্ড গড়ে শুরু হয় শিশুর চিকিৎসা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাঠানো হয় বাঁকুড়া মেডিক্যালে। সেখান থেকে কলকাতার এসএসকেএমে পাঠানো হয় তাকে৷

First published: 08:16:32 PM Aug 03, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर