Abhishek Banerjee on Saayoni Ghosh: 'আমার বিকল্প সায়নী', নতুন 'নেত্রী'কে আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে গেলেন অভিষেক

তৃণমূলের যুব রাজ্য সভাপতি (TMC Youth State President) হিসেবে দায়িত্ব ভার বুঝে নেওয়ার পর সোমবার প্রথম তৃণমূল ভবনে যান সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)।

তৃণমূলের যুব রাজ্য সভাপতি (TMC Youth State President) হিসেবে দায়িত্ব ভার বুঝে নেওয়ার পর সোমবার প্রথম তৃণমূল ভবনে যান সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)।

  • Share this:

    #কলকাতা: যে পদে এতদিন ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), সেই পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন রাজনীতিতে প্রায় নতুন মুখ অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। তৃণমূলের যুব রাজ্য সভাপতি (TMC Youth State President) হিসেবে দায়িত্ব ভার বুঝে নেওয়ার পর সোমবার প্রথম তৃণমূল ভবনে যান সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। প্রথম দিনেই তাঁর গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। পরে বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের নতুন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন 'নেত্রী'কে আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে গেলেন। অভিষেক বলেন, "সায়নীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার বিকল্প ভেবেছে। সায়নী ফুল টাইমার হিসেবে কাজ করতে চায়।"

    অভিনেত্রী সায়নীকে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটে হেরে গেলেও লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন সায়নী। অভিনেত্রী সায়নীকেই তাই এ বার যুব সংগঠনের দায়িত্বে নিয়ে এলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনে আসেন সায়নী ঘোষ। এ দিন তিনি জানিয়েছেন, নিয়মিত ভবনে আসবেন তিনি। অফিসে বসবেন৷ সাংগঠনিক যে দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে, তা তিনি পালন করবেন। এই বিষয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়-সহ দলের যারা সিনিয়র নেতা আছেন তাঁদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে চান নয়া যুব সভাপতি।

    ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে সংগঠন ঢেলে সাজাতে চান মমতা বন্দোপাধ্যায়। সে কারণেই একাধিক জায়গায় সাংগঠনিক রদবদল করেছেন তিনি। একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুবদের। ফলে সায়নীর সংগঠনে দায়িত্ব নেওয়া আসলে ২০২৪'কে লক্ষ্য রেখেই। সায়নী জানিয়েছেন, আপাতত জেলার সমস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সাথে তিনি কথা বলবেন। খুব শীঘ্রই তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন৷ এরপর তিনি যাবেন জেলা সফরে৷

    প্রসঙ্গত, এবার তৃণমূল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও ভোটে হেরে গিয়েছেন শাসক দলের অনেক তারকা মুখ। আর তাঁদের মধ্যে অন্যতম সায়নী ঘোষ । আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির তারকা প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে হেরে যাওয়া সত্বেও সেই সায়নীকেই দলের যুব সংগঠনের সভাপতি পদে বসিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর দায়িত্ব নিয়ে সায়নী বলেছেন, রাজনীতি করতে হলে মাঠে নেমেই করতে হবে। আর নতুন রাজনৈতিক ইনিংসের শুরুতেই সায়নীর নিশানায় নাগরিকত্ব ইস্যু। ভোটের ঠিক আগেই তাঁর তৃণমূলে যোগদান অনেককেই অবাক করেছিল। এমনিতে টালিগ‍ঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অনেকের জন্য এ বারের ভোট ছিল রাজনীতি পরখ করার। বিশেষত বিজেপিতে একঝাঁক টালিগঞ্জের নবীন মুখ এ বার নিজেদের ভোটভাগ্যও পরখ করেছেন। কিন্তু তাঁদের সিংহভাগেরই ভাগ্যে শিঁকে ছেড়েনি। ভোটে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলেরও অনেক তারকা মুখ। আর তাঁদের মধ্যে অন্যতম সায়নী ঘোষ।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সায়নীকে যুব-র সভাপতি পদে বসানো মমতার মাস্টারস্ট্রোক। তাঁরা বলছেন, যিনি মাটির থেকে লড়াই করে উপরে উঠে এসেছেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট প্রচারে সায়নীর স্টাইল, মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রবণতায় মুগ্ধ হয়েছেন। এমনকী ভোটে হেরে গেলেও সায়নীকে আসানসোলের কোনও সরকারি দায়িত্বে আনার জন্য পথে পর্যন্ত নেমেছিল তৃণমূলের নবীন প্রজন্মের বহু মুখ। তাই সায়নীর মতো দাপুটে মেয়েকে দিয়ে দলের যুব সংগঠনের কাজ সফলভাবে চালানো সম্ভব বলেই মনে করেছেন তৃণমূল নেত্রী।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: