মিনি বাসের ধাক্কায় ডান পা গিয়েছে বাদ, কৃত্রিম পা নিয়েই ফের ডিউটিতে সার্জেন্ট !

মিনি বাসের ধাক্কায় ডান পা গিয়েছে বাদ, কৃত্রিম পা নিয়েই ফের ডিউটিতে সার্জেন্ট !
Photo Credit: Kolkata Police

একেই বলে হয়তো মনের জোর ৷ যার জোরেই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ভুলে উঠে দাঁড়িয়েছেন নিজের পায়ে ৷

  • Share this:

#কলকাতা: একেই বলে হয়তো মনের জোর ৷ যার জোরেই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ভুলে উঠে দাঁড়িয়েছেন নিজের পায়ে ৷ যে পা ডাক্তারি ভাষায় কৃত্রিম বা প্রোস্টেথিক লেগ৷ কিন্তু কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট সুদীপ রায়ের কাছে এটাই শক্তি, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার, দায়িত্বের একামাত্র শক্তপোক্ত খুঁটি ৷

স্মৃতিতেও এখনও টাটকা ৷ ২০১৭ সালের ৭ জুন ৷ ডাফরিন রোডে ডিউটি করার সময়ে বেপরোয়া এক মিনিবাস ধাক্কা মেরেছিল সুদীপবাবুকে। মিনিবাসের চাকা পিষে দিয়েছিল সুদীপের ডান পা। টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া কোমরের জয়েন্ট বা পেলভিস জয়েন্ট, থেঁতলে যায় ডান পা নিয়ে ৷ এই অবস্থায় সুদীপকে ভর্তি করা হয় একবালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা প্রাণ বাঁচালেও বাদ দিতে হয় তাঁর ডান পা।

তখন মনে হয়েছিল সব শেষ ৷ কীভাবে চলবে সংসার? কীভাবে এগোবে জীবন৷ কিন্তু হারেননি সুদীপ ও তাঁর পরিবার ৷ মনে জোর রেখে গিয়েছেন ৷ ঠিক একদিন দাঁড়াতে পারবেন আবার, ভরসা ও বিশ্বাস দু’ই ছিল ৷ শেষমেশ জিতলেন সুদীপই ৷

সুদীপের কথায়, হাসপাতালে এক দিন তাঁকে দেখতে এসেছিলেন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। ভরসা দিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন, ‘আমরা তোমার পাশে আছি।’ কমিশনারের নির্দেশ মতোই বেনিয়াপুকুরের একটি সংস্থার মাধ্যমে জার্মানি থেকে উন্নত মানের কৃত্রিম পা আনানো হয়। ১৬ অক্টোবর অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম পা বসানো হয় সুদীপের শরীরে। আত্মীয়রা জানিয়েছেন, টাকা দিয়েই দায়িত্ব মেটাননি লালবাজার। নিয়মিত ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন পুলিশকর্তারা।

সুদীপের দুই চিকিৎসক জানিয়েছেন রোগীর মনের জোরটাই আসল । তাঁদের কথায়, ‘মনের জোরে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ে অনেকেই অসাধ্যসাধন করেছেন। সুদীপবাবুও মনের জোরেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।’ আর লালবাজারের পুলিশ কর্তারা বলছেন, তাঁর ‘অবিশ্বাস্য ঘটনা! এত মনোবলও কারও থাকতে পারে! আশা করি, খুব শীঘ্রই উনি কাজে ফিরবেন।’

First published: 02:49:24 PM Dec 10, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर