শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ, গেরুয়া পথেই পা বাড়িয়ে রুদ্রনীল

শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ, গেরুয়া পথেই পা বাড়িয়ে রুদ্রনীল
শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ রুদ্রনীলের৷

  • Share this:

    #কলকাতা: এবার শাসক শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে গেরুয়া পথে পা বাড়ালেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ৷ ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে তাঁর৷ রুদ্রনীলকে 'ময়দানে নামার' প্রস্তাবও দিয়েছেন বিজেপি নেতা৷ যদিও এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেই দাবি রুদ্রনীলের৷ কিন্তু তাঁর কথাতেই পরিষ্কার, তাঁর বিজেপি-তে যোগদান হয়তো সময়েরই অপেক্ষা৷

    শাসক ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে সরকারি পদও পেয়েছিলেন রুদ্রনীল৷ কিন্তু সম্প্রতি শাসক দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে অভিনেতার৷ আমফান পরবর্তী সময়ে চাল চুরি, ত্রিপল চুরি নিয়েও সরব হন রুদ্রনীল৷ পাশাপাশি কাটমানি কাণ্ডে কেন কারও শাস্তি হল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি৷ রুদ্রর অভিযোগ আইনি পথে শাস্তি না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমার চোখে দেখাতেই দুর্নীতিতে প্রশ্রয় পেয়েছেন তৃণমূল নেতাদের একাংশ৷


    এ দিন রুদ্রনীলের গলায় শুভেন্দু অধিকারীর দরাজ প্রশংসা শোনা গিয়েছে৷ এক পরিচিত অভিনেতার জন্মদিনের অনুষ্ঠানেই তাঁর সঙ্গে শুভেন্দুর দেখা হয়েছে বলে জানান রুদ্রনীল৷ যদিও শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় বলে জানিয়েছেন অভিনেতা৷ শুভেন্দুকে রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা বলেও প্রশংসা করেছেন রুদ্রনীল৷ রাখঢাক না করেই রুদ্র বলেন, দেখা হয়েছে, আড্ডাও হয়েছে৷ ওনার কাজ ভাল লাগে, নেতৃত্ব ভাল লাগে৷ উনি আমায় বললেন ময়দানে নেমে পড়ুন, সবাই মিলে কাজ করব৷ কিন্তু আমার পূর্ব নির্ধারিত কিছু কাজ রয়েছে৷ দিন দশ পনেরোর মধ্যেই সেগুলি শেষ হবে৷ তার পরেই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেব৷

    এর পাশাপাশি এ দিন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ নিয়েও শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রুদ্রনীল৷ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের সরিয়ে হাওড়ায় স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নিয়ে দল করার চেষ্টা করেছেন বলেই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ রুদ্রর৷ তাঁর প্রশ্ন, 'শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, লক্ষ্মীরতন শুক্লাদের বিরুদ্ধে তো দুর্নীতির অভিযোগ নেই৷ তাহলে যুব সমাজের প্রতিনিধি এই তরুণ নেতাদের কেন এ ভাবে দল ছেড়ে চলে যেতে হবে?' রাজীবের ইস্তফার পর রুদ্র জানিয়েছেন, ডোমজুড়ের বিধায়ক কী করবেন তার উপরেও অনেকটা নির্ভর করবে তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ৷

    তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে রুদ্র বলেন, 'যখন তৃণমূলে আসার পর আমি খারাপ কাজগুলোর সমালোচনা করতাম, তখন আমাকে সিপিএমের দালাল বলা হত৷ ২০১৪ সালের পর থেকে যখন আমি সরকারি পদে এসে ভুলগুলি ধরতে থাকলাম, তখন থেকে আমায় বিজেপি-র দালাল বলতে শুরু করলেন শাসক দলের কয়েকজন নেতা৷ অথচ তখন রাজ্যে বিজেপি-র সেভাবে প্রভাবই ছিল না৷ আমি যদি শেষ পর্যন্ত বিজেপি-তে যোগদানও করি, তাহলে শাসক দলের এই নেতাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব৷'বিজেপি নেতাদের কাছে গত কয়েক দিন ধরেই রুদ্রনীলের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে এসেছে৷ অভিনেতার জন্মদিনে তাঁর বাড়িতে যান বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পান্ডা৷ এর পর রুদ্রর সঙ্গে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়েরও দেখা হয় বলে খবর৷ কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যাননি রুদ্রনীল৷

    তৃণমূল অবশ্য রুদ্রনীলকে গুরুত্ব দিতেই নারাজ৷ দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, 'রুদ্রনীল সক্রিয়ভাবে তৃণমূল করতেন, এটা আমার জানা নেই৷ যদি মনে করেন কোথাও চলে যাবেন, গটগট করে চলে যান৷ যতদিন পদের মেয়াদ ছিল, চুপ করেছিলেন৷ মেয়াদ ফুরোতেই মুখ খুলছেন৷ উনি ভাল অভিনেতা, এখন অভিনয়টা আরও ভাল করছেন৷'

    Pracheta Panja

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    লেটেস্ট খবর