ফিল্মি কায়দায় দিল্লিতে গ্রেফতার রোমানিয়ান ব্যাংক জালিয়াত

ফিল্মি কায়দায় দিল্লিতে গ্রেফতার রোমানিয়ান ব্যাংক জালিয়াত

দিল্লিতে বসেই রোমানিয়ানরা অপারেশন চালাচ্ছে সে ব্যাপারে প্রথমেই নিশ্চিত ছিল লালবাজার।

  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাতা: দিল্লিতে বসেই রোমানিয়ানরা অপারেশন চালাচ্ছে সে ব্যাপারে প্রথমেই নিশ্চিত ছিল লালবাজার। সেজন্য রাজধানীতে ১৫ জনের টিম পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যারা দিনরাত এক করে এটিএম কাউন্টারে নজর রাখছিল। সেই নজরদারিতেই এল সাফল্য।

সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ দিল্লির গ্রেটার কৈলাশ এলাকায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের বাইরে নজরদারি চলছিল লালবাজারের গোয়েন্দাদের। তারা দেখেন সন্দেহভাজন এক বিদেশি নাগরিক ওই এটিএমে ঢুকছে। যার মাথায় টুপি ও কালো শীতপোশাক। যার চেহারার সাথে পুলিশের হাতে আসা সন্দেহভাজনের মিল রয়েছে।

এটিএমে ঢুকলেও মুহূর্তের মধ্যে বেরিয়ে পড়ে সন্দেভাজন। পুলিশি নজরদারি রয়েছে বুঝতে পেরে মুহূর্তের মধ্যে বেরিয়ে দৌড়তে শুরু করে। দৌড়েই অটোয় উঠে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। তীর নিশানায় লেগেছে বুঝে গোয়েন্দা দলটিও অটোতে পিছু নেয়। রাজধানীর রাস্তায় বেশ কিছু পথ এভাবে অটোতে করে 'চোর-পুলিশে'র ধাওয়া চলতে থাকে। কিছুদূর পর রোমানিয়ান যে অটোতে ছিল সেটিকে হারিয়ে ফেলে পুলিশ। গ্রেটার কৈলাসের অলিগলিতে পথ হারালেও এলাকাতেই আছে ধরে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ শুরু হয়। তারপর অবশ্য একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয় সিলিভিউ ফ্লোরিন স্পিরিডন নামের সেই রোমানিয়ানকে। যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকত সেখান থেকে লক্ষাধিক টাকা। স্কিমিং ডিভাইস তৈরির সরঞ্জাম মিলেছে।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলিধর শর্মা জানিয়েছেন, সম্প্রতি যাদবপুর, চারু মার্কেট এলাকায় যে সব গ্রাহকরা ব্যাংক জালিয়াতির শিকার হয়েছেন, সেই চক্রের অন্যতম মাথা গ্রেফতার হয়েছে। তিনি বলেন, "আরও কয়েকজন রোমানিয়ান এই চক্রে যুক্ত রয়েছে। তাদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।" ধৃত রোমানিয়ানকে আগামীকাল কলকাতায় এনে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়েছে তা জানার চেষ্টা করবে লালবাজার।

গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কলকাতায় ৭০ জনের বেশি ব্যাংক গ্রাহক এই এটিএম জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। অজান্তেই তাদের আকাউন্ট থেকে উঠে গিয়ে সবমিলিয়ে ১২ লক্ষেরও বেশি টাকা। লালবাজার তদন্ত শুরু করেই বুঝতে পারে স্কিমিং পদ্ধতিতে জালিয়াতি করা হয়েছে। অর্থাৎ এটিএমে স্কিমার যন্ত্র বসিয়ে গ্রাহকদের সব তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াতরা। বছরখানেক আগেও কলকাতার একাধিক এটিএমে এই পদ্ধতিতে জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল রোমানিয়ানদের। তারপর নতুন করে কোনও এটিএমে স্কিমিং না করা হলেও গ্রাহকদের পুরনো তথ্য দিয়েই টাকা তোলা হচ্ছিল এবার।

লালবাজার সূত্রে খবর, ধৃত এই রোমানিয়ান স্কিমার যন্ত্র তৈরি ও তা এটিএমে বসানোর কাজ করত। গ্রেটার কৈলাসের ফ্ল্যাটে বসেই তৈরি করত স্কিমার যন্ত্র। এই বছরেই তিনবার ভারতে এসেছে ট্যুরিস্ট ভিসায়। নিজেকে বিদেশি বিমান সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে ঘর ভাড়া নিয়েছিল। তার সঙ্গেই আরও কয়েকজন রোমানিয়ান এসেছে। তারাও এক সাথে থাকতো। তবে তাদের নাগাল এখনও মেলেনি।

গোয়েন্দা বিভাগের এক অফিসার বলেন, "কলকাতা ছাড়াও দিল্লিতে একই কায়দায় প্রায় ২০০জন জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। সারা দেশের বিভিন্ন শহর এদের টার্গেট ছিল।"

আপাতত গোটা চক্রটিকে গ্রেফতার করতে মরিয়া লালবাজার। চক্রের বাকিদের খোঁজেই এখনও দিল্লিতে রয়েছে লালবাজারের বাকি দলটি।

First published: December 9, 2019, 9:01 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर