ব্যাঙ্ক জালিয়াত রোমানিয়ানদের আটকাতে লুক আউট নোটিশ জারি করল কলকাতা পুলিশ

ব্যাঙ্ক জালিয়াত রোমানিয়ানদের আটকাতে লুক আউট নোটিশ জারি করল কলকাতা পুলিশ
  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাতা: কলকাতায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত রোমানিয়ানদের মধ্যে চারজনই এখনও অধরা। তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য লুকআউট নোটিশ জারি করল লালবাজার।

সূত্রের খবর, যাদবপুর ও চারু মার্কেট এলাকায় ৭০ জনের বেশি ব্যাঙ্ক গ্রাহক সম্প্রতি ব্যাঙ্ক জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। দশ লক্ষের বেশি টাকা খোয়া গিয়েছে তাঁদের। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেই লালবাজারের গোয়েন্দারা বুঝতে পারেন এটা রোমানিয়ান চক্রের কাজ। যারা এটিএমে স্কিমার যন্ত্র বসিয়ে বহু গ্রাহকের তথ্য হাতিয়েছে। দিল্লি থেকে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছিল জানতে পেরে সেখানে টিম পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে একজন রোমানিয়ানকে ধরে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু সেই রোমানিয়ানের বাকি সঙ্গীরা এখনও অধরা।

গোয়েন্দারা মনে করছে, তারা এখন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও, দেশের বাইরে পা রাখেনি। তাই লুক আউট জারি করলে তাদের দেশ ছেড়ে পালানো আটকানো যাবে। যদিও সেই চার রোমানিয়ানের মধ্যে একজন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলেই পুলিশের কাছে খবর।

লালবাজার সূত্রে খবর, কোনও অভিযুক্ত অপরাধ করে যদি দেশ ছেড়ে পালানোর সম্ভাবনা থাকে তাহলে তদন্তকারী সংস্থা লুক আউট নোটিশ জারি করে থাকে। এই নোটিশ পৌঁছে যায় দেশের সব বিমানবন্দর, জাহাজবন্দর, চেক পয়েন্টে। নোটিশে অভিযুক্তের নাম, ছবি, কি অভিযোগ রয়েছে, সেই সব তথ্য দেওয়া থাকে। তখন সেই জায়গাগুলি দিয়ে অভিযুক্ত পালাতে গেলে চেকিংয়ে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। লুক আউট নোটিশের ছবি বা বর্ণনার সঙ্গে মিল পেলে আটক করে খবর দেওয়া হয় তদন্তকারী সংস্থাকে। তারা এসে গ্রেফতার করে।

IMG-20191209-WA0024

এক্ষেত্রে লালবাজার মনে করছে, চারজনের মধ্যে একজন রোমানিয়ান পালালেও বাকি তিনজন দিল্লির আসেপাশে লুকিয়ে রয়েছে। তবে তারাও নিজেদের দেশে পালানোর চেষ্টা করতে পারে। সেজন্য এখনও দিল্লিতেই রয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের একটি টিম। রোমানিয়ানরা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলেই ধরা পড়ার আসায় রয়েছে তারা। পাশাপাশি দিল্লি সহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজও চলছে তাদের।

যাদবপুর ও চারু মার্কেট থানা এলাকার বাসিন্দারা যে স্কিমিং জালিয়াতির শিকার হয়েছে সেই রোমানিয়ান চক্রের অন্যতম একজন মাস্টারমাইন্ড এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে। যতক্ষণ না গোটা চক্রটিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে ততক্ষণ শহরের বহু গ্রাহকের তথ্য যে নিরাপদ নয় সেই আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তবে ধৃত রোমানিয়ান পুলিশি জেরায় জানিয়েছে, তাকে অন্য এক রোমানিয়ান ক্লোন করা কার্ড দিয়েছিল। সেই কার্ড দিয়েই সে টাকা তুলত। তার কাছে গ্রাহকদের তথ্য নেই। সেই বয়ান অবশ্য কতটা সত্য তা যাচাই করছে গোয়েন্দারা। তবে প্রশ্ন, তাহলে কলকাতার গ্রাহকদের ডেবিট কার্ডের তথ্য তাহলে কার কাছে? গোটা চক্র গ্রেফতার নাহলে কি নিরাপদ নয় গ্রাহকরা? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে লালবাজার অবিলম্বে পিন নম্বর বদলানোর পরামর্শ দিয়েছে।

First published: 09:28:32 PM Dec 19, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर