corona virus btn
corona virus btn
Loading

'আমরা যেন সবাই কুষ্ঠ রোগী', আর্তনাদ করোনা রোগীর পরিবারের ! পাড়া ছাড়ার হুমকিও মিলছে !

'আমরা যেন সবাই কুষ্ঠ রোগী', আর্তনাদ করোনা রোগীর পরিবারের ! পাড়া ছাড়ার হুমকিও মিলছে  !
photo source collected

গৃহকর্তার শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে, তাই পাড়া ছেড়ে চলে যেতে হবে পুরো পরিবারকে। হ্যাঁ, এমনটাই দাবি করেছে পাড়ার লোকেরা।

  • Share this:

#কলকাতা: গৃহকর্তার শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে, তাই পাড়া ছেড়ে চলে যেতে হবে পুরো পরিবারকে। হ্যাঁ, এমনটাই দাবি করেছে পাড়ার লোকেরা। ঘটনাটি ঘটেছে বাগুইআটিতে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মী মধ্য পঞ্চাশের ওই ব্যক্তি বাগুইআটির জ্যাংরায় একটি আবাসনে থাকেন। লকডাউনের মাঝে নিয়মিত অফিস গেছেন তিনি। গত সপ্তাহে মাঝামাঝি জ্বর আসে তাঁর। তিন দিন পর জ্বর না কমলে কোভিডপরীক্ষা করান তিনি। তখন জানতে পারেন শরীরে দানা বেঁধেছে মারণ ভাইরাস। চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও কোনও পছন্দের হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি ওই ব্যাংক কর্মী। তখন ডাক্তারদের পরামর্শে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা চালানোর পরিকল্পনা করেন পরিবারের লোকজন। এর দিন দুয়েক পর থেকে জ্বর কমা  শুরু করে তার। শরীরে অন্য কোনও নতুন উপসর্গ আর দেখা যায়নি। কিন্তু করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে শোনার পর পাড়ার লোকজন আবাসনে এসে দাবি করে যে, ওই পরিবারকে পাড়া ছেড়ে চলে যেতে হবে।

তাদের বক্তব্য ছিল, পাড়ায় এক জনের শরীরে করোনা থাকলে তা থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো পাড়াতে। সন্ধ্যে থেকে মাঝরাত পর্যন্ত আবাসনের সামনে দাঁড়িয়ে এই দাবি করতে থাকে তারা। একটা সময় কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে পাড়ার লোকেরা। ওই ব্যাংক কর্মীর স্ত্রী বলেন, 'এক জন অসুস্থ লোক, ৭৫ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়ি আর ক্লাস নাইনে পড়া ছেলেকে নিয়ে আমি  এই সময় কোথায় যাব? নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছিল। ওরা এমন করছিল যে মনে হচ্ছিল আমরা যেন সবাই কুষ্ঠ রোগী।' তখন আবাসনের  বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করে। তাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। শেষ পর্যন্ত এক আত্মীয়র মাধ্যমে থানায় খবর  দেন তারা। পাড়ার লোকেদের নরমে গরমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। তখনকার মতো থামলেও  সকাল বেলা আবার কিছু লোক আবাসনের সামনে হাজির হয়ে চিৎকার শুরু করে। তবে এবার আবাসনের ব্যক্তিরাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ওই ব্যাংক কর্মীর স্ত্রী বলেন, 'পাড়ার লোকেদের যখন এই রকমের ব্যবহার, তখন আবাসনের প্রতিবেশীরাই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাদের সাহায্যেই আমরা এই কদিন দু'বেলা খেতে পাচ্ছি।'

SOUJAN MONDAL 
Published by: Piya Banerjee
First published: June 17, 2020, 12:21 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर