corona virus btn
corona virus btn
Loading

১৫ জুনের মধ্যে নদী বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ করার নির্দেশ সেচ মন্ত্রীর

১৫ জুনের মধ্যে নদী বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ করার নির্দেশ সেচ মন্ত্রীর

দেরিতে হলেও বোধোদয়। পাকা বাঁধ কবে তৈরি হবে কটাক্ষ বিরোধীদের

  • Share this:

#সুন্দরবন: আমফান থেকে শিক্ষা নিয়ে সুন্দরবনের মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে "আমাদের বাঁধ, আমরাই বাঁধব"। সেই নদী বাঁধ সংষ্কার নিয়েই তরজা বন্ধ করতে দ্রুত বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। আমফান ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাঁধ ভেঙেছে একাধিক জায়গায়। ভরা কোটালে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে একাধিক জনপদ। এই সমস্ত বাঁধ নির্মাণ কবে হবে বা আদৌ কংক্রিটের তৈরি করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন। তবে সেচ দফতর সূত্রে খবর, টাকা না পেলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আয়লা বাঁধ যা কংক্রিটের তা বানানো সম্ভব নয়। তবে যে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সুন্দরবনের মানুষদের যেতে হচ্ছে তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে অস্থায়ী ভাবে হলেও জুড়তে হবে নদী বাঁধ।

প্রতিনিয়ত সেখানে যেন নজরদারি চালানো হয়। অস্থায়ী ভাবে মেরামত হলেও পাকাপাকি ভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে শীঘ্রই সেচ দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন সেচ মন্ত্রী। সেচ দফতর সূত্রে খবর, আমফানের প্রভাবে বাঁধ ভেঙেছে ২৮ কিলোমিটার অংশে। ৭৬ কিলোমিটার নদী বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। সুন্দরবনের নদী বাঁধের ভাঙন আটকানো সম্ভব হয়নি। ৭১টি স্থানে সেই নদী বাঁধ ভেঙেছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ অংশে গিয়ে বাঁধ পরিদর্শন করে এসেছেন। বেশ কতকগুলি জায়গায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে এর সবটাই হচ্ছে অস্থায়ী ভিত্তিতে। কারণ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে কংক্রিটের রিং বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আর যা অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ। কিন্তু অস্থায়ী কাজেও ঢিলেমি চলছে বলে অভিযোগ। তাই এই কাজ দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।

২০০৯ সালে আয়লা ঘূর্ণিঝড় এর কারণে ভীষণ রকম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদী বাঁধ। প্রায় ১০০০ কিলোমিটার নদী বাঁধ রাজ্যে ক্ষতি হয়েছিল। যার মধ্যে ৭৭৭ কিলোমিটার নদীবাঁধ ছিল সুন্দরবন জুড়ে। তৎকালীন রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে বাঁধ নির্মাণ করতে সাহায্য চায়। ৭৫ শতাংশ কেন্দ্র দেবে ও ২৫ শতাংশ রাজ্য দেবে এই চুক্তিতে কেন্দ্র ৫০৩২ কোটি টাকা মঞ্জুর করে। ২০১০ সালে ৭৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে বামফ্রন্ট সরকার। ক্ষমতায় এসে ৯০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে তৃণমুল সরকার। তার পর কেন্দ্র টাকা দেওয়া বন্ধ করে বলে অভিযোগ। রাজ্য সরকার সূত্রে খবর, কেন্দ্র ১৭০০ কোটি মতো টাকা দিয়েছিল। যে টাকা বাঁধ নির্মাণ জন্য জমি অধিগ্রহণ করতেই খরচ হয়ে যায়৷ জমি অধিগ্রহণের জন্য ঠিক হয়, প্রতি বিঘা পিছু ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ করে। এছাড়া বাড়ি বা অন্য সম্পত্তি অধিগ্রহণ হলে তার দাম আলাদা দেওয়া হবে৷ এভাবেই যে সমস্ত জায়গায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার নদী বাঁধ কংক্রিটের করা সম্ভব হয়েছে। বাকি সব জায়গায় সেই অস্থায়ী মাটির বাঁধ হয়ে আছে। আর সেগুলিই আমফানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।

যে সমস্ত জায়গায় ফাটল ধরা পড়েছে তার মধ্যে আছে সন্দেশখালি, হিংগলগঞ্জ, কুলতলি, গোসাবা, বাসন্তী, মথুরাপুর, রায়দিঘী,পাথরপ্রতিমা,সাগরের কিছু অংশে। এই সব জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে, হয় হাতি বাঁধ যা ৫.৮ মিটার উঁচু বা সমুদ্র বাঁধ, যা ৭.২ মিটার উঁচু করতে হবে। ৪০ মিটার ভিতের এই বাঁধ আটকাতে পারবে জোয়ারের জল। এছাড়া নদীর দিকে বাঁধের সামনে ম্যানগ্রোভ আর জমির দিকে সুন্দরী গাছ বসাতে হবে। কিন্তু এই সব কাজ হবে কবে? প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী কান্তি গঙগোপাধ্যায় জানান, "দেরিতে হলেও বোধোদয় হয়েছে এদের। তবে অস্থায়ী বলে আর কতদিন চলবে। আয়লার পরে ১১ বছর হয়ে গেল এখনও নদী বাঁধ ঠিক হল না। এখন বলছে অস্থায়ী। মানুষের কষ্ট বুঝতে এখানে কেউ আসেনা।" যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা। তিনি জানিয়েছেন, "বাঁধ তৈরির কাজ আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। লকডাউনের জেরে শ্রমিক পেতে অসুবিধা হয়েছে। তাই আমাদের কাজ করতে সমস্যা হয়েছে।"

ইতিমধ্যেই সুন্দরবনের উত্তর ২৪ পরগণার অংশ নিয়ে সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বৈঠক করেছেন খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানে স্থির হয়েছে আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বাঁধ যেখানে যেখানে ভেঙে গিয়েছিল সেখানে তা জুড়ে দেওয়া হবে। কাজ শেষ করতে সমস্যা হবে না। তবে পাকাপাকিভাবে স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ কবে শেষ হবে সে দিকেই চেয়ে আছে সুন্দরবনবাসী।

ABIR GHOSHAL

Published by: Ananya Chakraborty
First published: June 12, 2020, 10:40 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर