মমতার বিরুদ্ধেই অসৌজন্যের অভিযোগ, কান্নায় ভেঙে পড়লেন 'কৃতজ্ঞ' রাজীব

মমতার বিরুদ্ধেই অসৌজন্যের অভিযোগ, কান্নায় ভেঙে পড়লেন 'কৃতজ্ঞ' রাজীব
রাজভবনের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রাজীব বন্দ্য়োপাধ্যায়৷

  • Share this:

    #কলকাতা: পদত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেও মমতার বিরুদ্ধেই অসৌজন্যের অভিযোগ এনেছেন রাজীব৷ তাঁর অভিযোগ, আড়াই বছর আগেই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতেন৷ কিন্তু সেবার তাঁকে বিরত করেছিলেন মমতা নিজেই৷ পদত্যাগের কারণ বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজীব৷

    রাজীবের অভিযোগ, আড়াই বছর আগে আচমকাই তাঁকে সেচমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷ কিন্তু সেকথা তাঁকে জানানোর সৌজন্যটুকু দেখাননি মমতা৷ টিভি-তে দলীয় কার্যালয়ে বসে সেকথা জানতে পারেন তিনি৷ এর পরই তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷

    রাজীব ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'কেউ মন্ত্রী হয়ে জন্মায় না, চিরকাল একটা দফতরের মন্ত্রী থাকে না৷ একটা সময় আমি সেচ মন্ত্রী ছিলাম৷ যে দফতরের দায়িত্ব যখন মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, আমি চেষ্টা করেছি তা যথাসাধ্য পূরণ করার৷ দফতর বণ্টন করা পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব৷ আমাকে একটা দফতেরর মন্ত্রী থাকতে হবে তার মানে নেই৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উনি আমাকে সরিয়ে দিতে পারেন৷ কিন্তু ন্যূনতম সৌজন্যটুকু মুখ্যমন্ত্রীর থেকে আশা করেছিলাম৷ সেই সময় সেচ দফতরের কাজে উত্তরবঙ্গে ছিলাম, দলীয় মিটিংয়েও করি৷ ফিরে এসে তৃণমূল ভবনে বসে টিভি-তে ব্রেকিং নিউজে দেখতে হয়েছিল যে আমাকে সেচ দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ আমি সেদিন এতটাই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম যে দলীয় কর্মীদের সামনে দেখতে হয়েছিল যে এক দফতর থেকে আমাকে অন্য দফতরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷


    রাজীবের দাবি তার পরের দিনই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু তখন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিরস্ত করেন৷ রাজীব বলেন, 'মাঝের আড়াই বছরে অনেক ক্ষোভ, অসন্তোষ ছিল৷ মাননীয়া নেত্রী, সিনিয়র লিডারদের বার বার সেকথা বলেছি৷ কিন্তু বিগত এক দেড় মাস ধরে আমার কিছু সহকর্মী, সতীর্থদের কথা আমাকে অত্যন্ত আঘাত করেছে৷ হয়তো আমি এই সিদ্ধান্ত আজকে নিতাম না৷ কোথাও কোনওদিন কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি, কোনওদিন করব না৷ কিন্তু একমাস ধরে আমি আহত হয়েছি৷ আমি নিজে খুব ভগ্নহৃদয়, এই সিদ্ধান্ত নিতে খুব খারাপ লেগেছে৷ কোনওদিন ভাবিনি এত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ তবে গত একমাসে যা হয়েছে, তাতে আমার মনে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে৷' এর পরই রাজভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডোমজুড়ের বিধায়ক৷

    রাজীব অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁর জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরাট অবদান রয়েছে৷ সেই কারণে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন৷ এ দিনও বার বার মমতাকে 'নেত্রী' বলে সম্বোধন করেছেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী৷ রাজীব বলেন, 'রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে কারও অবদান থাকলে তিনি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী৷ আমি কী কাজ করেছি তা মানুষ বিচার করবেন৷ কিন্তু তিনি আমাকে এই সুযোগ করে দিয়েছেন৷ যতদিন বেঁচে থাকব, তাঁর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ এবং শ্রদ্ধাশীল থাকব৷ নতমস্তকে আমার দলনেত্রীকে প্রণাম জানাচ্ছি৷'

    রাজীব জানিয়েছেন, এ দিন নিজেই কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতেই ইস্তফাপত্র তুলে দিয়ে এসেছেন তিনি৷ এর পর রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র তুলে দেন রাজ্যপালের হাতে৷ রাজভবন থেকে বেরিয়ে রাজীব বলেন, 'দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না৷ আমার সতীর্থ, সহকর্মীদের থেকে অনেক কিছু শিখেছি৷ কাউকে কোনওদিন দুঃখ দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাইছি৷ কোন মঞ্চ পাব জানি না, তবে যতদিন বাঁচব মানুষের জন্য কাজ করব৷'

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: